১২ ফাল্গুন ১৪২৩, শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Laisfita

আইভীর বিরুদ্ধে সাখাওয়াতের পরাজয় কেন? মূল্যায়ন শুনলেন কেন্দ্র


১১ জানুয়ারি ২০১৭ বুধবার, ০৮:৪৪  পিএম

নিউজ নারায়ণগঞ্জ


আইভীর বিরুদ্ধে সাখাওয়াতের পরাজয় কেন? মূল্যায়ন শুনলেন কেন্দ্র

গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ভরাডুবির কারণ জানতে মূল্যায়ন সভা হয়েছে। ১১ জানুয়ারী বুধবার দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই সভায় নারায়ণগঞ্জের নেতাদের কাছ থেকে পরাজয়ের কারণে জানতে চাওয়া হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ফজলুল হক মিলন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মজিবুর রহমান সারোয়ার, আবুল খায়ের প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি শাহআলম, সাবেক দুইজন এমপি গিয়াসউদ্দিন ও আবুল কালাম, নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নাসিক নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান প্রমুখ।

সভার শুরুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা গত ২২ ডিসেম্বর নাসিক নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা কেন ভরাডুবি ঘটেছে সে সম্পর্কে জানতে চান স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে।

জবাবে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমরা প্রার্থীর জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবাই কাজ করেছে। কিন্তু আমরা শুনেছি নির্বাচনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা আমাদের বিরুদ্ধে কে বা কারা চালিয়েছে। এতে করে অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেও দলের স্বার্থে সবাই কাজ করেছে।

সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান সুশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে স্থানীয় ও কে স্থানীয় না সেটাও মুখ্য। প্রার্থী কোন এলাকার লোক সেটা তিনি নিজেও প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা ছিলেন জনপ্রিয়। সেটাও কাজে লেগেছে। তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে বিএনপি এবার পাশ করেছে।’


সাবেক এমপি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রার্থী আমাদের অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেনি। বিগত ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাকে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক বানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার আমাকে শুধু বন্দরকেন্দ্রীক রেখে দিয়েছিল। তাছাড়া নির্বাচনের শুরুতেই আমাদের অনেকের বিরুদ্ধে চরিত্র হনন থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ছোট করা হয়েছে অপমাণিত করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও আমাদের কোন ধরনের দুর্বলতা ছিল না।’

নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল বলেন, ‘এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় আর বিএনপির জয় হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের দোহাই দিয়ে সরকার কারচুপি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। আমাদের মহানগর কেন্দ্রীক বিএনপির কমিটি ছিল না। অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোরও কোন কমিটি পূর্ণাঙ্গ নাই যে কারণে হয়তো সমন্বয়ের কিছুটা গ্যাপ ছিল।’

বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিল সেটা পালন করেছি। কিন্তু অনেক কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট ছিল না।’

বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘প্রার্থী স্থানীয় না হওয়ায় ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা কম থাকায় পরাজিত হতে হয়েছে। মাঠে পরিচিতি থাকলে ফলাফল অন্য কিছু হতে পারতো।’

প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে থাকলেও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্য ও গোপনেই আমাকে ভোট না দেওয়ার জন্য বলেছেন যার প্রমাণাদি ইতোমধ্যে আমি শীর্ষ নেতাদের কাছে দিয়েছি।’

সভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আপনাদের সকলের কথা শুনেছি। পরে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।

এখানে উল্লেখ্য, ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনের শুরুতেই সিনিয়র নেতাদের মারাত্মকভাবে অবজ্ঞা করেন সাখাওয়াত। এ ব্যাপারে ফেসবুকেও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর সাখাওয়াত নির্বাচনের কাজের চেয়ে কালেকশনেই বেশী ব্যস্ত ছিলেন এমন কথা উল্লেখ করে ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।


নিউজ নারায়াণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

Shirt Piece
রাজনীতি -এর সর্বশেষ