১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, রবিবার ২৮ মে ২০১৭ , ৩:১২ পূর্বাহ্ণ

diamond world

খালেদা জিয়াকে ‘শিক্ষা’ দিতে চায় নারায়ণগঞ্জের ৩ নেতা


|| নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০০ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৫:৪৮ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ শুক্রবার


খালেদা জিয়াকে ‘শিক্ষা’ দিতে চায় নারায়ণগঞ্জের ৩ নেতা

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেই ‘শিক্ষা’ চান নারায়ণগঞ্জের তিন নেতা যাঁদেরকে জেলার নেতাকর্মীরা তিনজন হেভিওয়েট নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। সদ্য শেষ হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বাছাইয়ের বিষয়ে এ তিনজনকেই মনে করা হতো হেভিওয়েট। কিন্তু নির্বাচনের পর নানা অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন এ তিন নেতা। তবে এ তিন নেতারাকর্মীদের অনেকেই বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে এ তিনজন নেতা ছাড়া বিএনপি অচল হয়ে যাবে সেটা নেত্রীকে তারা বুঝিয়ে দিবেন। আবার এ তিনজন নেতার বিরোধীরাও বলেছেন, তারা নাসিক নির্বাচনের আগেও কেন্দ্রীয় নেতাদের বুঝিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে তাদের ছাড়া বিএনপি চলবে না। কর্মীদের এমন বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া গেল ৫ জানুয়ারি ও দুই দিন পর কেন্দ্র ঘোষিত দুটি কর্মসূচিতে ওই তিন নেতা ছিলেন না। তিন জন নেতাই তাদের অনুগত কর্মীদের কাছে বলে যাচ্ছেন, তাদের বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পারলে বিএনপি চালাক। তাদের ছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিএনপি চলবে না। তবে কর্মীরা চায এ তিন নেতার মুঠোবন্দী থেকে বের হতে।

জানা গেছে, চলতি বছর ৫ জানুয়ারিতে বর্তমান সরকারের ৩ বছর পূর্তিতে আওয়ামীলীগ পালন করেছে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। অন্যদিকে এ দিনটিকে গণতন্ত্রের হত্যা দিবস দাবি করে বিএনপি পালন করেছে যেখানে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করতে না দেয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে ৮ জানুুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু এ দুটি কর্মসূচি পালন করেনি জেলা বিএনপির সভাপতি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এর আগের বছর বন্দরে কালো পতাকা মিছিল করেছিলেন আবুল কালাম। ওই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। থানায় দুটি মামলাও হয়েছিল। ওই মামলায় পরবর্তীতে আবুল কালাম ২১দিন কারাভোগ করেছিলেন। তবে এর আগের বছ^র ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালন না করলেও ৯ জানুয়ারিতে নিতাইগঞ্জ এলাকায় মিছিল করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সদর থানায় দুটি মামলায় দায়ের করা হয়। একটি মামলায় তৈমূর আলম খন্দকারকে আসামী করা হয়। তবে কোন বছরই বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন। তিনি এবারও ছিলেন না।

এবারের ৫ জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন নগর বিএনপির বেশকজন নেতাকর্মীরা। যাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিলেন নগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ওইসময় যুবদল নেতা মঞ্জুরুল আলম মুছাকে পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ। এতে বেশকজন নেতাকর্মী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন। অন্যদিকে বিএনপি পার্টি অফিসের উল্টো পাশে মিছিল বের করেছিলেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ওই মিছিলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছিল। খোরশেদ সহ ৪ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি এ কর্মসূচিতে। শুধু তাই নয় জেলার অন্যান্য উপজেলা থানা পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করা হয়নি। শুধু ওই তিন নেতা নয় অন্যান্য শীর্ষ নেতাদেরও দেখা যায়নি।

এদিকে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ ও মহানগর বিএনপির কমিটির নিয়ন্ত্রনে নিতে খুব তোরজোর শুরু করেছেন জেলার বেশকজন নেতা। জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করতে নেমেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলম। একইভাবে সভাপতির পদ বহাল রাখতেও তৎপর রয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ ভাগিয়ে আনতে চেষ্টায় রয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। অতীতের অনেক আন্দোলন সংগ্রামে তৈমূর আলম খন্দকার সক্রিয় ছিলেন। মান্নানকেও হাতে গোন কয়েকটি কর্মসূটিতে দেখা গিয়েছিল। আর উল্টো পথে কাজী মনির ও শাহআলম। কাজী মনির ও শাহআলম গত ৮বছরে জেলায় কি ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন তা এ জেলার নেতাকর্মীদের জানা। শাহআলমের বিরুদ্ধে কোন থাকায় জিডিও নেই। গত ৮বছরে একটি মানববন্ধনেও দেখা মিলেনি শাহআলমের। আর কাজী মনির ম্যাকিং পলিটিশিয়ান। ম্যাকিং করে দুএকটা মামলায় আসামী হলেও তাকেও দেখা যায়নি জেলার আন্দোলন সংগ্রামে। ২০১৭সালের ৫জানুয়ারিতেও তাদের একই রুপে দেখা গেল। কিন্তু এবার তারা দুজন জেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রন নিতে জোরালো ভুমিকা রাখছেন কেন্দ্রে। জেলা বিএনপির নেতত্বে আসার আলোচনায় থাকা সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনকেও দেখা যায়নি। এসব কর্মসূচি পালন না করে এ তিনজন নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝাতে চায় নারায়ণগঞ্জের তাদের ছাড়া আন্দোলন করার মত কেউ নেই। যদিও এখানে দুটি কর্মসূচিই পালন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এ তিনজন নেতাকে নিয়ে সন্দেহের কমতি নেই। কারন ১/১১ এর সময় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে গিয়েছিলেন আবুল কালাম। ওই সময় গিযাসউদ্দীন ও তৈমূর আলম খন্দকার ছিলেন কারাগারে। যদিও মাঝে গুঞ্জন ছিল কারাগারে থাকার সময় গিয়াস ও তৈমূর আলমের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিল সংস্কারপন্থীরা। ওই সময় গিয়াস ও তৈমূর আলম কারাগারে না থাকলেও হয়তো তারাও আবুল কালামের পথেই থাকতেন-এমন আশঙ্কাও ছিল তখন নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে যদিও গিয়াস ও তৈমূর আলমের পক্ষ থেকে সংস্কারবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের কোন খবর পাওয়া যায়নি তখন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ