৫ মাঘ ১৪২৩, বুধবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ , ৮:০৩ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Narayanganj city corporation 2016
Laisfita

হারিয়ে গেছে ১০১নেতা! নগর বিএনপির মূলধারা বিদ্রোহী মিলেও পূরণ হয়নি


০৭ জানুয়ারি ২০১৭ শনিবার, ০৮:৫৪  পিএম

নিউজ নারায়ণগঞ্জ


হারিয়ে গেছে ১০১নেতা! নগর বিএনপির মূলধারা বিদ্রোহী মিলেও পূরণ হয়নি

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩ বছর পূর্তিতে একদিকে বিএনপি পালন করেছে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে কালো পতাকা মিছিল। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ পালন করেছে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় মাত্র ২০ থেকে ২২ জন নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে বেশির ভাগ ছিলেন বিএনপি পন্থী আইনজীবী যারা বিএনপির শহর বিএনপির কমিটির বিদ্রেহী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনসারি। তাহলে বলা যায় মুলধারা ও বিদ্রোহী ধারা মিলে নেতাকর্মীদের জমায়েত মাত্র ২০/২২ জন। কিন্তু মূলধারার কমিটিতেই রয়েছেন ১০১ জন নেতাকর্মী।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছিল কালো পতাকা মিছিল সমাবেশ। কিন্তু বিকেলে তিনটার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও এ কমিটির বিদ্রোহী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাখাওয়াতের সাথে আসেন বেশকজন আইনজীবী ও এটিএম কামালের সঙ্গে দুচারজন কর্মী। এদের সঙ্গে জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন নিয়ে আসেন বেশকজন কর্মী বাহিনী। সব মিলিয়ে ২০/২২ জন নেতাকর্মী। যাদের মধ্যে পুলিশের বেদম মারধরের শিকার হয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরল আলম মুুছা যাকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ওইদিন ভর্তি করানো হয়। জেলা  মহানগর বিএনপির কর্মসূচি থাকলেও তাদের জমায়েত দেখে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। এদের সাথে পরবর্তীতে ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। কিন্তু সবমিলিয়ে ১০১ জনের জমায়েতও ঘটাতে পারেননি দুজন নেতা। যদিও মুলধারার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম আসেননি। আর বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সর্দার অনেক আগেই রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয়। তবে শহর কমিটির ভোল পাল্টিয়ে দাবি করে আসছেন তথাকথিত ‘নগর বিএনপি’।
 
সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির কমিটিতে মোট সদস্য রয়েছেন ১০১ জন বিএনপি নেতা। ২১সদস্যের রয়েছে একটি উপদেষ্টা কমিটি। নির্বাহী কমিটিতে ১০১জন বিএনপির নেতা থাকলেও তাদের প্রায় অধিকাংশ নেতা বিএনপির রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয়। কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় বানিজ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। অনেকেই আবার গুরুত্বপূর্ন পদে থাকলেও আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টির নেতাদের সাথে আতাত করে বুক ফুলিয়ে চলছে হরদম। আর সক্রিয় রয়েছেন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন। নিস্ক্রিয় যারা রয়েছেন তারা বিএনপির সময় পরিবর্তন হলে হয়তো দেখা যাবে সদলবলে ফিরে আসবে সামনের সারিতে।
 
প্রায় ৭বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয় জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এ কমিটির সম্মেলনকে ম্যাকিং ও পাতানো দাবি করে বিরোধীতা করে পাল্টি বিদ্রোহী কমিটি গঠন করে বিএনপির অপর গ্রপের নেতারা। ওই সময় গঠিত বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান  ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু ছাড়া কোন নেতাই রাজনীতিতে সক্রিয় নেই এখন। বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি নরুল ইসলাম সর্দার নিষ্ক্রিয় পুুরোপুরি।
 
২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ, কদমরসুল এলাকা নিয়ে গঠিত হয় সিটি কর্পোরেশন অর্থাৎ মহানগর। কিন্তু মহানগর গঠিত হওয়ার পরে নিয়ম অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটি বিলুপ্ত হলেও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করতে পারেনি অধ্যাবদি ৫ বছরে। মহানগর বিএনপির কমিটি না হলেও শহর বিএনপির কমিটিকে নগর কমিটি নাম দিয়ে ভোল পাল্টিয়ে চালানো হচ্ছে। যেখানে মহানগর নয় আবার শহর বিএনপিও নয় অর্থাৎ নগর বিএনপি যেখানে শহর বিএনপির কমিটি ক্লিনিক্যালি ডেথ।
 
এছাড়াও শহর বিএনপির কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এছাড়া হানিফ কবির ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। রয়েছেন আব্দুল মজিদ খন্দকার যিনি এক সময় গাব্বার সিং খ্যাতি অর্জন করলেও এখন তিনি রাজনীতিতে নেই।

আরো উপদেষ্টা রয়েছেন আনোয়ার হোসেন খান, জান্নাতুল ফেরদৌস, জামালউদ্দীন কালু, শাহজাহান খন্দকার, রফিউদ্দীন রফিক, ইসলাহ উদ্দীন, আয়ুব আলী, আবুল হাসেম সর্দার. জাফর উল্লাহ খান, মিসেস হাসান জামাল, নুরুন্নাহার রফিক, রাশিদা জামাল, মিসেস পরী প্রধান, জয় রায় চৌধুরী বাপ্পি, অ্যাডভোকেট রফিক আহম্মেদ, নাসির হোসেন, হাবিবুর রহমান মাসুম ও আলাউদ্দীন ভূইয়া। এ উপদেষ্টা কমিটির মধ্যে তৈমূর আলম, জামালউদ্দীন কালু, আনোয়ার হোসেন খান, রাশিদা জামালই বিএনপির রাজনীতিতে রয়েছেন বাকীরা কেউই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নেই।
 
শহর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম অসুস্থ অবস্থায় নিষ্ক্রিয়। সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহম্মেদ, সহ-সভাপতি সুরুজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক আক্তার হোসেন খোকন শাহ গত বছর কারাভোগ করেছিলেন। তবে এবার এটিএম কামাল ছাড়া বাকীদের দেখা যায়নি। সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন না থাকলেও এবার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবিরকে দেখা গেছেন। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সাইদুজ্জামান সাইদ, জমসের আলী ঝন্টু, সামাল সর্দার, হাজ্বী শাহিন, আবুল হোসেন সর্দার, আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, রুহুল আমিন, আলী আহম্মাদ লালা বেপারী। তবে এদের মধ্যে সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে দল থেকে  বহিস্কার করা হয়েছে। আর আনোয়ার হোসেন দেওয়ানকে বহিস্কার করা হলেও তাকে পরে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আর আলী আহম্মদ লালা বেপারী শহর কমিটিতে থাকাবস্থাতেই আবার তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটিতেও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
 
যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ফারুক হোসেন, শওকত হাসেম শকু, জয়নাল আবেদীন, সরকার আলম, বিল্লাল হোসেন, নুরুল হক চৌধুরী দিপু, মোহাম্মদ হোসেন কাজল, মাহাবুব উল্লাহ তপন, আনোয়ার মাহামুদ বকুল, লিয়াকত হোসেন লেকু, আনোয়ার করিম টিটু ও সেফালী রানী দাস। এদের মধ্যে মাহাবুব উল্লাহ তপন পরিবহন ব্যবসায় জরিত। যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে অধিকাংশই সক্রিয় রয়েছেন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, শেখ মোহাম্মদ সেলিম, আনোয়ার হোসেন আনু, আবুল কালাম আজাদ, সালাউদ্দীন দেওয়ান, রানা মুজিব, জসিমউদ্দীন বাদল। এদের মধ্যে বেশির ভাগ নিষ্ক্রিয়। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজল হক ফজল পরলোক গমন করেছেন।
 
প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দীন মোল্লা গত বছর জেলে ছিলেন। এবার তিনি নিষ্ক্রিয়। যুব বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার মুজাহিদ মুকুল, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল কবির নাহিদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শাহীণ আলম। তবে সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন প্রধান রাজনীতি থেকেই বিতারিত ছিলেন তিনি এবার দেশে এসে নির্বাচন করেছেন। জামানত হারিয়েছেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে। তিনি রাজনীতিতে নেই। একই অবস্থায় তথ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক সস্পাদ অহিদুল হক খান ছক্কু। রাজনীতিতে না থাকলেও তিনি নাসিক  নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দাড়িয়েছিলেন। সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ ভূইয়া মারা গেছেন।
 
সদস্য হিসেবে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়া আদালতপাড়ায় সক্রিয় রয়েছেন। বৃহস্পতিবারও তাকে দেখা গেছে। অন্যদিকে দিলারা মাসুদ ময়না, ইসমাইল মাস্টার, ইফতেখার কায়েস রোমেল রয়েছেন রাজনীতি থেকে একটু দুরেই। এছাড়া শহর বিএনপির কমিটিতে থাকা বাকী নেতারা বিএনপির রাজনীতিতে নেই।


নিউজ নারায়াণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

Shirt Piece
রাজনীতি -এর সর্বশেষ