৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

‘ত্বকীর জায়নামাজটি আর বিছানো হয় না, হবে না আগামী কোন রমজানে’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পিএম, ১২ জুন ২০১৭ সোমবার


মা রনক রেহেনার সঙ্গে নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর পুরানো ছবি। (ফেইসবুক থেকে নেওয়া)

মা রনক রেহেনার সঙ্গে নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর পুরানো ছবি। (ফেইসবুক থেকে নেওয়া)

‘যা কিছু ভাল তার প্রতি আন্তরিক দৃঢ়তা ছিল ত্বকীর। খুব ছোট বেলা থেকে ও (ত্বকী) সব রোজা রাখত। আমি আমার স্নেহের আতিশয্যে (বাড়াবাড়ি) ওর কাছে রোজা না রাখার বায়না করতাম। মাঝে মাঝে সেহেরীতে ডাকতাম না। তখন ও (ত্বকী) না খেয়েই রোজা রাখত। প্রতিদিনই ইফতারীর পরে ওর বাবার দুই পাশে দুই ভাই নামাজে দাঁড়াত। আজ ইফতারী শেষ হলে ত্বকীর বাবার এক পাশে ত্বকীর জায়নামাজটি আর বিছানো হয় না, হবে না আগামী কোন রমজানে। শুধু আমার মনের ভিতরে ত্বকীর লেখা উচ্চারিত হতে থাকে।’

গত ২৭ মে থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়। তার ঠিক দুইদিন পর ৩০ মে দুঃখ কষ্টের কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজের একাউন্টে প্রকাশ করেন ত্বকীর মা রনক রেহেনা।
 
তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার আহবায়ক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির দুই ছেলের মধ্যে ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালের ৭মার্চ (নিখোঁজের একদিন পর ও লাশ উদ্ধারের একদিন আগে) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড় সে ও লেভেল পরীক্ষাতেও সে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল।
                       
২০১৩ সালের ৬মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তা খান সড়কের ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে রাতেও বাসায় ফিরে আসেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে শহরের চারারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। সে রাতেই নারায়ণগঞ্জ মডেল সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় রাব্বি উল্লেখ করেন, আমার অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আমার ভূমিকার কারণে কোন কোন মহল এ হতাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ত্বকী হত্যাকান্ডের পর রফিউর রাব্বির দায়ের করা মামলা ওই সময়কার সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের নিজেই তদন্ত শুরু করে। তখন পুলিশ রিফাত বিন ওসমানকে গ্রেপ্তার করে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে রাব্বির আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওই বছরের ২০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি এখন র‌্যাবের হেডকোয়ার্টার থেকে দেখভাল করছে।
 
র‌্যাব যেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছিলেন তাদের সবাই পলাতক। তারা হলো রাজীব, কালাম সিকদার, মামুন, অপু, কাজল, শিপন ও আজমেরীর গাড়িচালক জামশেদ।
 
ত্বকী হত্যাকান্ডের ঘটনায় র‌্যাব ইউসুফ হোসেন লিটন, সুলতান শওকত ভ্রমর, তায়েব উদ্দীন জ্যাকি ও সালেহ রহমান সীমান্ত নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ইউসুফ হোসেন লিটন প্রথম ত্বকী মামলায় আদালতে জবানবন্দীতে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেন। তিনি জবানবন্দীতে সালেহ রহমান সীমান্তের জামতলা ধোপাপট্টির বাড়িতে সংঘটিত হত্যাকা-ের স্থান কাল পাত্র সকল কিছুর বর্ণনা করে।
 
অন্যদিকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুলতান শওকত ভ্রমর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছিল, ত্বকী হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন আজমেরী ওসমান। তবে ১৬ দিন পর অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর ভ্রমর তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। ২০১৪ সালের ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই নারায়ণগঞ্জ ও পরে দেশ ত্যাগ করেন ভ্রমর। সে এখনও দেশের বাইরে। আদালত ইতোমধ্যে ভ্রমরের বিরুদ্ধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রেখেছে।
 
চারজনের মধ্যে সালেহ সীমান্ত কারাগারে আছে। এছাড়া রিফাত বিন ওসমান, তায়েবউদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটন জামিনে রয়েছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আমার আমি -এর সর্বশেষ