৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

`আধুনিতার প্রভাব না নৈতিকতার অভাব`


তৈমূর আলম খন্দকার || কলামিষ্ট ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ০৮:৪৩ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার


`আধুনিতার প্রভাব না নৈতিকতার অভাব`

ধর্মের প্রধান কাজ মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা নৈতিকতা শিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষ এই রাষ্ট্রে ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে নিরুৎসাহিত সহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিচালনায় যে অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়েছে তা হলো ধন্যাট্য ব্যক্তি যারা পূর্বে মাদ্রাসাকে বাৎসরিক অনুদান প্রদান করতো চেকের মাধ্যমে বা প্রকাশ্যে এখন আর মাদ্রাসাতে দান অনুদান প্রদান করে না এই ভয়ে যে, দাতাকে জঙ্গীবাদের যোগান দাতা হিসাবে পুলিশের হয়রানী হতে হয়। নাস্তিক বিশ্ব নেতৃত্ব ও সরকারের ধারনা এই যে, জঙ্গীবাদ মাদ্রাসা থেকে সৃষ্টি। অথচ হলি আর্টিজম ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, ধনীর দুলাল যারা আরবী নহে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করেছে তারাই জঙ্গীবাদে জড়িত হয়েছে। যা, হউক বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে। তবে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যে, ধর্ম নিরপেক্ষতার ঢামাঢোল ও নাস্তিকতা পর্দাবিহীন খোলামেলা চলা ফেরা ধর্ষণের মত অনৈতিকতাকে উৎসাহিত করে (“পর্দা” বলতে বোরকার কথা বুঝানো হয় নাই, বরং সংযত হওয়াকে বুঝানো হয়েছে)।  
 
ধর্ষণ অপরাধ অধিক্ষেত্রে আর একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, তাহলো ধর্ষণের চিত্র মোবাইল বা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে তা ভিডিও, ইন্টারনেট এবং এ জাতীয় ডিজিটাল পদ্ধতি জনসম্মূখে প্রকাশ করা। এটা নিশ্চয় জৈবিক চাহিদার কারনে নহে বরং মানসিক বিকারগ্রস্থ হওয়ার কারণে সমাজে এ নোংরা সংস্কৃতি প্রসার লাভ করেছে যা এখন জাতীয়করনের পর্যায়ে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবনতা সবচেয়ে বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসার দিন দিন এতোই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, যা এখন বয়স বিচার মানছে না। এরও কারণ নৈতিকতা বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা যার পিছনে রয়েছে নাস্তিক ও তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষবাদীদের প্রভাব যারা ধর্ম প্রচারকে বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের কথা শুনলেই আতকে উঠে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদের গন্ধ খুজে পান; অথচ তারাও মুসলমানদের কলংকিত সন্তান। পৃথিবীতে যিনি ন্যায় বিচার, মানবতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে অন্ধকার থেকে বিশ্ব বাসীকে আলোর মূখ দেখালেন সেই হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর চরিত্র হনন করে যে সব ব্লগাররা বই বা আর্টিকেল লিখে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ত্বাত্তিক অধ্যাপকগণ তাদেরকে মুক্তমনের লেখক হিসাবে আখ্যা দিয়েছে। তথাকথিত মুক্তমনের লেখকদের লেখায় অবাধ যৌনচারকেই উৎসাহিত ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। অথচ ডযরঃব ঈড়ষড়ঁৎ বুদ্দিজীবী তথা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক যাদের নিজের বিরুদ্ধে নিজ ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ আছে এবং এ জন্য বিশ্ব বিদ্যালয় অংগনে খুন খারাপী পর্যন্ত হয়েছে, সে সকল অধ্যাপক নামক জাতীয় দু:চরিত্রের দ্বারা নৈতিকতা প্রবেশ দ্বারা রুদ্দ হয়ে যুব সমাজ আজ বিকৃত যৌনাচারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে সকল কবি নৈতিকতার পরিবর্তে যৌনাচারকে প্রাধান্য দিয়েছে তারাই বড় কবি বা লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, যেমন- সৈয়দ শামছুল হক, শামসুর রহমান, তসলিমা নাসরীন যাদের প্রধান কাজই হলো ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করা।
 
মেয়েদের পোশাক, চলাফেরায় শালিনতার পরিবর্তে একটি উশৃঙ্খল আচরন লক্ষ করা যায়, যারা একটু বেশী শিক্ষিত তাদের মধ্যে, এটারও মূল কারণ নৈতিকতা বিহীন ধর্ম বিমূখ শিক্ষা ব্যবস্থা। ধর্মীয় শিক্ষা বলতে শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বুঝায় না। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ১০০% শিক্ষার্থী/শিক্ষক দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নিশ্চিত করে তা আমি বলবো না, তবে মাদ্রাসার জগতের অনৈতিক অপরাধ ধরতে চাইলে টেলিস্কোপ/মাইক্রোসকোপ লাগবে, এ জন্য যে এর সংখ্যা বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র/শিক্ষকের তুলনায় চোখে পরার মত নহে। বৈধ আর অবৈধ এক হতে পারে না। সংস্কৃতির ব্যানারে অশ্লীলতাকে কোন ভাবেই গ্রহণ করা যায় না। যারা সংস্কৃতির বিকাশে অশ্লীলতাকে উৎসাহিত করে তারা বিকৃতি রুচির বুদ্দিজীবী, মুক্ত মনের নহে। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য একটি আবাসভূমি বানাতে হবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষার সার্থে। মানুষ যাহাতে পর্যায়ক্রমে জংলী না হয়ে যায় তাই এখন ঢালাও ভাবে গা ভাষিয়ে না দিয়ে চিন্তাশীল মানুষদের ভবিষ্যত নিয়ে প্রতিরোধমূলক কথা বলা দরকার। প্রাচুর্য ও শান্তি এক কথা নয়। বাংলাদেশের যারা সম্পদশালী তাদের প্রাচুর্য আছে, ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু তাদের বাড়ীতে (ঐড়সব) শান্তি নেই, শুধুমাত্র নৈতিক শিক্ষার অভাবে। বর্তমানে অনাচার সামাজিক ব্যাধি থেকে জাতীয়করনের রূপ নিচ্ছে এর প্রতিরোধে নৈতিকতার কোন বিকল্প নাই, বুদ্দিজীবীরা যাহাই বলুক না কেন বা যত কঠিন আইনই আইন তৈয়ারীর ফ্যাক্টরীতে পয়দা হউক না কেন?   
 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ