৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

পুলিশ হত্যায় খুনিদের পক্ষে মামলা নিল পুলিশ!


আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৩ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৯:৫৮ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার


পুলিশ হত্যায় খুনিদের পক্ষে মামলা নিল পুলিশ!

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যাকান্ডের ৬ দিনেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো খুনীদের সুবিধা দিতে নিহতের বাবা রূপ মিয়াসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ মামলার খবর নিহতের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সমালোচনায় ফুঁসে উঠে।

এদিকে কনস্টেবল হত্যা মামলায় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন ও তার লোকজন পলাতক থেকেও নিহত পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। স্বপন মূলত দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। এর আগেও সে নানা ধরনের অপকর্ম করেছে। সেখানকার এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর আশীর্বাদ পেয়েই ক্রমশ দুর্ধর্ষ হয়ে উঠে স্বপন।

এলাকাবাসী জানান, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন তার দলবল নিয়ে কালাপাহাড়িয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনের বাবা রূপ মিয়ার খোঁজে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় রূপ মিয়াকে না পেয়ে কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনসহ তাদের বাড়ির ১৮ জনকে এলোপাথাড়ি কোপায়। তখন তাদের চিৎকারে পাশের এলাকার লোকজন ছুটে আসে।

এলাকাবাসী এসে কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনের নিথর দেহ আর ১৭ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে মৃতঘোষনা করে চিকিৎসক। আর ১৭জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এখনো আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেই নিহতের বাবা রূপ মিয়াসহ তাদের পরিবারের একাধীক সদস্যকে আসামী করে বাড়ি ঘর পুরানোর নাশকতা মামলা নেয়ার ঘটনাটি এলাকাবাসী রহস্যের দৃষ্টিতে দেখছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান স্বপনের সহযোগী ইসমাইলের স্ত্রী আসমা বেগমকে বাদী করে বুধবার সকালে রূপ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করিয়েছে। এটি হত্যা মামলার কাউন্টার মামলা বলে এলাকাবাসীর দাবী।

সন্ধা সাড়ে ৭টায় থানার ডিউটি অফিসার মামলা গ্রহনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রূপ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘর পুরানোর একটি নাশকতা মামলা গ্রহন করা হয়েছে।

নিহত কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনের বড় ভাই হত্যা মামলার বাদী কামাল হোসেন জানান, আমার ভাই সুমন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগে কর্মরত ছিল। তার জানাযায় অংশ নিয়ে তার সহকর্মীরা বলেছেন সুমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। এতে পুলিশ বিভাগে তার সুনাম রয়েছে। আমার বাবা রূপ মিয়া আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে এটাই আমাদের দোষ। এজন্যই আমার ভাইকে নির্মম ভাবে খুন করেছে চেয়ারম্যান স্বপন। এখন পুলিশ আমার ভাইয়ের খুনীদের বাঁচাতেই আমার বাবা রূপ মিয়ার বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা গ্রহণ করেছে। কোথায় এর বিচার পাবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ