৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

পুলিশ হত্যা:চেয়ারম্যান গুলি করে অন্যরা কোপায়


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৮ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:০০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার


পুলিশ হত্যা:চেয়ারম্যান গুলি করে অন্যরা কোপায়

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়ায় কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী পাবেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে এ জবানবন্দি দেন গ্রেফতারকৃত পাবেল। এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী ও বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রুপগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাবেল সহ তিন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃরা হলো মামলার প্রধান আসামী কালাপাহাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের ভগ্নিপতি কালাপাহাড়িয়া খালিয়ারচর এলাকার শাহআলমের ছেলে ঈমান আলী (২৭), কালাপাহাড়িয়া এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে পাবেল (৩০) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে ইয়াসিন (২৬)।

স্বীকারোক্তিতে আসামী পাবেল জানান, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের হুকুমে ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরী বিভিন্ন প্রকার রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল সহ রুবেলদের বাড়ি ঘেরাও করে তারা চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সকলকে কুপিয়ে জখম করেন।

তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান স্বপন নিজে উপস্থিত থেকে সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় ছুটিতে আসা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে হত্যা করে তারা।

আসামী পাভেল এর দেয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, কনেষ্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় হত্যা করায় এই হত্যাকান্ড থেকে স্বপন নিজের নাম আড়াল করতে পারেনি।

তিনি আরো জানান, রুবেল হত্যাকান্ডের দিন চেয়ারম্যান স্বপনের ডাকে ৩০০ থেকে ৪০০ লোক একত্রিত হয়। এরপর স্বপন গুলি করলে রুবেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২০ থেকে ২৫জন মিলে রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্যরা বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুট করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া এলাকার রাধানগর এলাকায় কোরবানীর পশুর হাটের টাকার ভাগাভাগি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ কনস্টেবল রুবল মাহমুদ সুমন নিহত হন। আহত হয় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন। সংঘর্ষের ৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনের (ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন) বড় ভাই কামাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ