৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

৩ বছরে যেসব খাতে এমপি সেলিম ওসমানের কোটি কোটি টাকা ব্যয়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৮ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার


৩ বছরে যেসব খাতে এমপি সেলিম ওসমানের কোটি কোটি টাকা ব্যয়

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ২৬জুন। ওই বছরের ৮ জুলাই সেলিম ওসমান শপথ গ্রহণ করেন। আর এ তিন বছরে সেলিম ওসমান ব্যয় করেছেন কোটি কোটি টাকা।

জানা গেছে, গত ৩ বছরে সেলিম ওসমান যেসব খাতে ব্যয় ও অনুদান দিয়েছেন সেগুলো হলো -বিশেষ শ্রেনীর শিশুদের জন্য নিজ অর্থায়নে পরিচালিত ‘আশার আলো’ ও বন্দর অটিজম চাইল্ড স্কুলে অনুদান ৭০ লাখ টাকা। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিতে অবদান৪ কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে উৎসাহিত করতে ভূমিকা ৫৪টি ল্যাপটপ, ৩১টি মোবাইল অনুদান। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে সেলিম ওসমান ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অসহায় মানুষের সহযোগীতায় পাশে সেলিম ওসমান১২ কোটি ৫২লাখ ৬৫ হাজার টাকা। জনকল্যান ও সামাজিক উন্নয়নে সেলিম ওসমানের অবদান ৫ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নে সেলিম ওসমানের ভূমিকা ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সেলিম ওসমানের প্রচেষ্টা ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননায় সেলিম ওসমান ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে শূন্য হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয় ওই নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন - জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল মজিদ মামুন ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার। এ চারজনের মধ্যে সেলিম ওসমান ও শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারেনি।

২৬ জুনের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। কেন্দ্র ছিল ১৪১টি। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮২২ ভোট। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্য ১ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ ভোট। অনিয়মের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়। ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪০ কেন্দ্রের ফলাফলে সেলিম ওসমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (গামছা প্রতীক) ১৩শ ৯৬ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের মামুন সিরাজুল মজিদ পেয়েছেন ৭৪৩ ভোট।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। কিন্তু ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় শুরু হয় নির্বাচনের উত্তাপ। পরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, সাবেক এমপি এস এম আকরাম,  মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়। শেষতক রাব্বির মনোনয়ন পত্র বাতিল ও আনোয়ার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নির্ধারণ হয়ে যায় দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। আর তারা হলেন এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ