৮ শ্রাবণ ১৪২৪, রবিবার ২৩ জুলাই ২০১৭ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

diamond world

নারায়ণগঞ্জে খোলা বাজারে চালের দাম এখনো লাগামহীন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৩ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৭ সোমবার


নারায়ণগঞ্জে খোলা বাজারে চালের দাম এখনো লাগামহীন

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল আমদানির পরেও তেমন হারে চালের দাম কমছেনা। খোলা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কমলেও চিকন চালের দাম কমেনি। পাইকারী বাজারে চিকন চালের দাম বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা কমেছে। আর মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা চালের বস্তা প্রতি ১শ টাকা কমেছে। চালের আমদানি স্বত্ত্বেও যথেষ্ট পরিমাণ দাম না কমায় চালের বাজার এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে।
 
১০ জুলাই সোমবার সকালে শহরের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর নিতাইগঞ্জের পাইকারী দোকান ও শহরের খোলা বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
 
ধান কেটে চাষীদের ঘরে তোলার কিছুদিন পূর্বে সিলেটের হাওর অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে করে চাল বাজারে ধস নামে। আগে থেকে হু হু করে বেড়ে ওঠা চালের বাজার এই ধসের কারণে আরো বেসামাল হয়ে ওঠে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ‘চাল’ বাজার লাগামহীন হয়ে পড়ে। চালের ক্রমশ দর বৃদ্ধির কারণে সরকারি চালের মজুদের পরিমাণ তলানিতে চলে যাওয়ায় চাল আমদানি শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে স্বাভাবিক করে দেয় হয়। এতে বেসরকারী খাতে পাশের দেশ সহ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। এরপর মায়ানমার ও ভারত থেকে মোটা চাল আমদানি করলে দেশের মোটা চালের দাম কিছুটা কমে আসে।

খোলা বাজারে মোটা চাল দুই ধরনের রয়েছে একটি হল লাল চাল আরেকটি শুধু মোটা চাল যা দেখতে মোটা হলেও সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। এই পার্থক্যের ভিত্তিতে চালের দামের তফাৎ হয়ে থাকে। চাল আমদানির পর থেকে মোটা চাল কেজি প্রতি ১-২ টাকা কমে লাল মোটা চাল এখন ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সাদা মোটা চাল একই হারে কমে এখন ৪৬-৪৭ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা বাজারের কোথাও কোথাও বিক্রেতারা কারসাজি করে চালের দাম না কমানোর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া চিকন চালের দাম কমেনি বললেই চলে। কেননা চিকন চালের বস্তা প্রতি মাত্র ২০-৩০ টাকা কমায় কেজি প্রতি মাত্র ৪০-৬০পয়সা কমেছে। যেকারণে কেজিতে ১টাকাও কমানো যাচ্ছেনা বলে দোকানিরা জানিয়েছেন। এই অল্প হারে চালের দাম কমায় খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু চিকন চালের সামান্য হারে দরপতন সাধারণ মানুষের কোন উপকারে আসছে না। এই কারণে ভোক্তারা আগের বেশি দামেই চিকন চাল ক্রয় করছেন। চিকন চালের মধ্যে লতা চাল ৫০-৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল ৫৪-৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাজির চাল ৬০-৬২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শহরের পাইকারী চলের বাজারে চিকন চালের দাম সীমিত আকারে কমেছে বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা। চিকন চালের মধ্যে রয়েছে মিনিকেট চাল যা ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা কমে ২৫শ ৫০ থেকে ২৬শ ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর লতা চালও একই হারে কমে এখন ২২শ ৮০ থেকে ২৩শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে নাজিরশাইল চালের দাম কমেনি।

কারণ হিসেবে চাল ব্যবসায়ীরা বললেন, “অন্য সব ধরণের ধান পাকার মৌসুম বৈশাখের সময়ে হলেও নাজির চালের ধান অগ্রায়ন মাসে পেঁকে থাকে বলে এখন নাজির চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা, যদিও এখন নাজির চাল স্থিতিশীল রয়েছে। আর এই কারণে নাজিরশাই চালের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই”। এছাড়া দেশি বাসমতি চালের দামও কমেনি যা ২৫ কেজির বস্তা ১৪শ ৮০ থেকে ১৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘আমাদের দেশের উৎপাদিত মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা চাল প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই স্বর্ণা চাল আমদানি করায় আগের তুলনায় বস্তা প্রতি প্রায় ১শ টাকা কমেছে। এতে চিকন স্বর্ণ চালের বস্তা প্রতি ১শ টাকা কমে এখন ২১শ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গুটি স্বর্ণা চালের বস্তা প্রতি প্রায় একই হারে দাম কমে এখন ২ হাজার ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পারিজা চাল রয়েছে যা পাইজম চাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটিও মোটা চালের আওতাভুক্ত এক ধরণের চাল। এই চালের সরবরাহ খুবই কম। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বললেন এর ফলন কম হয়েছে। এই চালটির দাম বস্তা প্রতি ৫০-৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩শ ৮০ থেকে ২৪শ টাকা হয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ