৫ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে ঈদের ছুটিতে বাজার ফাঁকা, কমেছে সবজির দাম


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০০ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:০১ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জে ঈদের ছুটিতে বাজার ফাঁকা, কমেছে সবজির দাম

ঈদের ছুটিতে মানুষজন এখনো ঘুরোঘুরিতে ব্যস্ত রয়েছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের অন্য সব ব্যবসার মতই কাঁচা বাজারগুলো এখনো জমে উঠেনি। তাই বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুটোই কম ছিল। কয়েকদিন ধরে ক্রেতা শূণ্য বাজারে দোকানিরা অবসর সময় পার করছে জানা গেছে। তবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাংসের দাম কমেনি।

৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে শহরের অন্যতম দিগুবাবু বাজার ঘুরে কাঁচা পণ্যের দরদামের নানা তথ্য পাওয়া যায়।

পবিত্র ঈদুল আযহার জন্য কাঁচা বাজারের নানা পণ্য আগে থেকেই ক্রেতারা মজুদ করে থাকে। যেকারণে ঈদ পার হলেও ক্রেতারা এখন পর্যন্ত বাজারমুখি হচ্ছেনা। এছাড়া ঈদ আমেজে ঘুরাঘুরিতে ব্যস্ত মানুষজন এখনো তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের ফিরে আসেনি।

এদিকে বাজারের বিক্রেতারাও গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় দোকানির সংখ্যাও অনেকটা কম ছিল। আর স্থানীয় বিক্রেতারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে এখনও কর্মে ফিরতে পারেনি। যেকারণে বাজার অনেকটা শূণ্য ছিল। তবে ধীরে ধীরে দোকানিরা তাদের কর্মে ফিরতে শুরু করেছে বলে জানা যায়।

কাঁচা বাজারে সবজির লাগামহীন দাম কিছুটা কমেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম সেই আগের চড়া দামেই রয়েছে। তবে মুরগির মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। আর মাছের দামও স্বাভাবিক রয়েছে।

কাঁচা বাজারে সবজির লাগামহীন দামের লাগামটা ঈদ ভাঙা বাজারের কারণে কিছুটা হলেও টেনে ধরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ক্রেতারা। তবে সবজির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরে বিক্রি হওয়া টমেটোর দাম কিছুটা কমে এখন ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শশার দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা কমে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজর আগের দামেই ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সিম ৮০ টাকা এবং বেগুন, বরবটি, ঝিঙা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাকরল ও ঢেড়স ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধন্দুল, পটল, লাল শাক, পুই শাক, করলা, কহি ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধনে পাতা ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেপে ২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। আলুর পাল্লা (৫ কেজি) ১০ টাকা কমে এখন ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের পাল্লা ২৩০ টাকা, আদা ৮০ টাকা কেজি এবং রসুন ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারের উত্তর মেরুর এক কোণে একজন দোকানি ১০টাকা দরে বেগুন বিক্রি করছিল। অথচ বাজারের অন্য সব দোকানগুলোতে ৪০-৬০কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। এই দোকানে বেগুনের দাম কম হওয়ায় কৌতুহল থেকে সামনে গিয়ে জানতে বেশ ইচ্ছে হল। বেগুণের দাম কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানি বলেন, ‘রিজেক্ট মালের লড কম দামে কিনে পোকরা জায়গাটুকু কেটে ফেলে দিয়ে বাকিটা বিক্রি করছি। তাই দাম এতো কম।’

এই বাজারের দক্ষিণ মেরুর তুলনায় উত্তর মেরুর পণ্যের দাম এমনিতে একটু কম থাকে। তবে এতোটা কম এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকান অনেকটা ফাঁকা দেখা যায়। বাজারে কয়েকটি দোকান থেকে জানা গেছে, গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো কমেনি সেই আগের দামে গরুর মাংস ৫শ ২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির মাংসের দাম অনেকটা কমেছে। বয়লার মুরগির মাংসের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমে এখন ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার পুরো বাজারে ঘুরে দু একটি দোকানে পাওয়া গেছে। লাল লেয়ার মুরগির দাম ১৬০-৭০ টাকা হয়েছে। কক মুরগির দাম ২শ টাকা কেজি হয়েছে।

মাছের বাজার অনেটাই ফাঁকা থাকলেও কয়েকজন বিক্রেতাকে দেখা গেছে। এসব বিক্রেতারা জানায়, ‘ঈদ ভাঙ্গা বাজারতো তাই এখনো বাজার জমেনি। ক্রেতা নেই বাজার জমবে কি করে। তাছাড়া বাজারে ক্রেতা না থাকলে মাল এনে কি করব। তবে কিছুদিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে।”

মাছের বাজারে দাম অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ইলিশ মাছের দাম একটু বেড়েছে। ইলিশ মাছ আকারের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে সাড়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৯শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুপ চাঁদা মাছ সাড়ে ৬শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছ সাড়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছ সাড়ে ৩শ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। টাটকিনি মাছ ও সের পুঁটি মাছ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাইং মাছ সাড়ে ৭শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছ সাড়ে ৪শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ