৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৮ অপরাহ্ণ

স্বপ্নডানা বন্ধের পথে:চাঁদমারীতে ফিরছে শীষ বাজানো মাদক ব্যবসায়ীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:৩৪ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৭ শনিবার


স্বপ্নডানা বন্ধের পথে:চাঁদমারীতে ফিরছে শীষ বাজানো মাদক ব্যবসায়ীরা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও অক্ষরজ্ঞানহীন নারী-পুরুষদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানো ‘স্বপ্নডানা’ স্কুলের চার পাশে ফের মাদক ব্যবসায়ীদের শীষ দিয়ে মাদক বিক্রি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম অন্যত্রে বদলী হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে। দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। বন্ধ হয়েগেছে নারীদের বেত, পুথি, ব্লক, বাটিক, মোম তৈরীর প্রশিক্ষণ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন ফতুল্লার চাঁদমারী বস্তিতে একসময় প্রকাশ্যে শিষ দিয়ে মাদক বিক্রি হতো। সেই বস্তি থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বড় বড় তিনটি মাদক স্পট উচ্ছেদ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও অক্ষরজ্ঞানহীন নারী-পুরুষদের জন্য তৎকালীন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাউছুল আজম তৈরী করেন ‘স্বপ্নডানা’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষদের সহযোগিতায় স্থাপিত স্কুলটি পাল্টে দিয়েছে গোটা চাঁদমারী বস্তির চিত্র।

পরে গত ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর স্কুলটি উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান। শুরুতে ৪৫ জন শিশুকে নিয়ে পাঠদানের কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে কলেবর বাড়তে থাকে সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নডানা’ প্রাক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিদ্যালয়ে। বর্তমানে স্কুলটিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলে ক্লাসে অংশ নেয় ১৫০ জন। আর ১৪০জন অক্ষরজ্ঞানহীন নারী-পুরুষ থাকলেও বর্তমানে ক্লাস করেন ৩০/৩৫জন। এছাড়া শিক্ষকের সংখ্যা কমে এখন ৯জন রয়েছে।

স্কুলটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাশেদুল ইসলাম জানান, অর্থ সংকটের কারণে স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক নজরদারী না থাকায় চাঁদমারী বস্তির সেই পুরানো মাদক ব্যবসায়ীরা ফিরে এসেছে।

তিনি আরো জানান, স্কুলের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়ীত্বে থাকা কায়ুম নামে এক প্রহরী রয়েছে। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আযম স্যার থাকতে তিনি মাসে একটি সম্মানী পেতো। স্যার নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলী হয়ে র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এরপর থেকে কোন সম্মানী পায়না। বিনা বেতনে স্কুলটি প্রহরা দিচ্ছে কাইউম। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সেবায় ৪জন বুয়া ছিল। বেতন ভাতা না থাকায় তারা চলেগেছে। সেই বুয়াদের কাজও কায়ুম করছে।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদমারী বস্তির সেই দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বিপ্লব, হান্নান-মান্নান, মোহর আলী, রাসেল ও আলী বাহিনী ফিরে এসেছে। বিপ্লব জেলে থাকলেও তার স্ত্রী সাজু বিশাল বাহিনী দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়া ৬টি বাহিনীর প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ ও শিশু কিশোর এখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে দাড়িয়ে প্রকাশ্যে শীর্ষ দিয়ে মাদক বিক্রি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই পূর্বের মতই এখন চাঁদমারী বস্তি থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাইকারী দরে বিক্রি করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাত্র ৫০ গজ দূরে চানমারী বস্তির সামনে প্রকাশ্যে এমন মাদক ব্যবসা পরিচালনা হচ্ছে। অথচ প্রশাসন রয়েছে রহস্যজনক নিরব।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, চাঁদমারীতে যারা মাদক ব্যবসা করে তারা কৌশলদারী। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই পালিয়ে যায়। মাদক প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করা হয়। চাঁদমারীতেও মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্কুলটি এখনো যেভাবে সাজানো রয়েছে:
স্কুলটির প্রবেশমুখের বাম পাশে একটি বসার জায়গা করা হয়েছে যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে অসহায়দের বিনামূল্যে স্বাস্থসেবা প্রদান করা হয়। ডানপাশে স্থাপন করা হয়েছে দোলনচাপা বুটিক হাউজ। এ হাউজে বস্তি এলাকার শতাধীক নারী হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর কার্যক্রম এখন বন্ধ হয়ে আছে। ভেতরের দু’টি কক্ষে স্কুলে শিক্ষা নিতো প্রায় ২৫০ সুবিধাবঞ্চিত শিশু। স্কুল ঘরের ভেতরে রয়েছে একটি কম্পিউটার কক্ষ। স্কুলের সবগুলো কক্ষ ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছিল ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। বর্তমানে অধিকাংশ ক্যামেরা বন্ধ রয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ