৮ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

একটি ক্যালিগ্রফি প্রশিক্ষণশালার স্বপ্ন চাষাঢ়ার অনুপ কুমারের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৫ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার


একটি ক্যালিগ্রফি প্রশিক্ষণশালার স্বপ্ন চাষাঢ়ার অনুপ কুমারের

‘হাতের লেখা সুন্দর হলে পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পাওয়া যায়’ এ কথাটা এক সময় সকলের মুখে প্রচলিত ছিল। আর সেজন্য শিক্ষার্থীরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করতো হাতের লেখা যেন সুন্দর হয়। তবে সম্প্রতি এ কথা সচরাচর শোনা যায় না।

কারণ চিঠি লেখা, বিশেষ বার্তা লেখা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব রাখা সহ বিভিন্ন কাজে এখন হাতের লেখার চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হয় বেশি। যার ফলে দিনের পর দিন হাতের লেখা সুন্দর হওয়ার চাপটাও কমে এসেছে। এতো কিছুর পরও এখনও সুন্দর লেখায় শিক্ষক সহ সকলের সর্বস্তরের মানুষ খুশী হন এবং প্রশংসা করেন। তবে এ হাতের লেখা সুন্দর করার জন্যও রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। পাশের দেশ ভারতে হাতে লেখা সুন্দর করার জন্য একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাংলাদেশে একটিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল যা কিনা নেই বললেই চলে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশে সুন্দর হাতের লেখা শিখার প্রতিষ্ঠান গড়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক অনুপ কুমার দাস। একই সঙ্গে তিনি জেলা প্রশাসক সহ শিক্ষানুরাগীদের দ্বারস্থও হয়েছেন। সকলের কাছে ঘুরে আশ্বাস পেলেও এখনও কোথাও গড়ে উঠেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদকের কাছে চারুলিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলের বিষয়ে মনের দুঃখ, ভালোবাসা ও অভিমানের কথাগুলো বলেন অনুপ কুমার দাস।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১০০ জন শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ৯০ জন্যই জানেন না হাতের লেখা সুন্দর করা একটি শিক্ষা। এর জন্যও ক্যালিগ্রাফি (হস্তাক্ষর) প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এ প্রতিষ্ঠান আছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতে অসংখ্য ক্যালিগ্রাফি (হস্তাক্ষর) এ প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশে একটিও ক্যালিগ্রাফি (হস্তাক্ষর)  প্রতিষ্ঠান আছে কিনা সন্ধেহ। এজন্যই আমরা দুঃখ।’

অনুপ কুমার দাস ১৯৬২ সালে সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা অপূর্ব চন্দ্র দাস ও মাতা রাণী বালা দাস এর সপ্তম সন্তান তিনি। জন্ম সোনারগাঁয়ে হলেও বসবাস করে শহরের উত্তর চাষাঢ়ায়। স্ত্রী সীমা রাণী দাস ও ছেলে নিলয় দাসকে নিয়ে তাদের সংসার। ইংরেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পড়ান।

অনুপ কুমার দাস বলেন, লিখতে লিখতে এর প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। এক সময় মেয়েদের দেখতাম তারা সুন্দর করে চিঠি লিখতো। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করতাম তোমরা এটা কোথায় শিখেছো। তখন তারা বললো আমরা ক্যালিগ্রাফি (হস্তাক্ষর) শিখছি।

তারপর ১৯৯৮ সালে আমি ভারতের কোলকাতার টালিগঞ্জে নেতাজি ক্যালিগ্রাফি (হস্তাক্ষর) প্রতিষ্ঠানে একটি কোর্স করি। যেখানে আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিলাম।’

অনুপ দাস নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এখানে আমি অনেক চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করে দেখলাম আমাদের এখানে কোন ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউশন নেই। ক্যালিগ্রাফি প্রতিষ্ঠান তো নেই এমনকি একটি বই ও আমি পেলাম না ক্যালিগ্রাফির উপরে যেটা থেকে কিছু শিখা যাবে বা জানা যাবে। কিন্তু ভারতে ফুটপাতের উপর অহরহ বই বিক্রি হচ্ছে। আমাদের বাংলা একাডেমীর মতো প্রতিষ্ঠানে যেখানে সরকার কোটি কোটি টাকা অনুদান দেয় সেই সমস্ত জায়গায় একটি বইও নেই। সেইটার জন্যই আমি আরো বেশি আগ্রহী হয়েছি যে এ দেশে একটি ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউশন খোলা হোক।’

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় একটি ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউশন থাকবে না এটা তো ভাবতেও কেমন লাগে। ক্যালিগ্রাফি ও হ্যান্ড রাইটিং শিক্ষার একটি বিশাল অংশ। সুন্দর হাতের লেখা না হলে একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রীর জীবনে পড়ালেখাটা পরিপূর্ণ হয় না। আমার কাছে তাই মনে হয়। তাই সরকারি ভাবে হোক আর বেসরকারি ভাবে হোক এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান করা যেত আমাদের দেশে তাহলে খুব ভালো হতো। এটা খুব কঠিন কিছু না। মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের কোর্স সারা জনম থাকবে। মৃতুর আগে পর্যন্ত। লেখতে তো হয় মৃতুর আগেও অন্তত একটা লাইন। তাই বলছি ক্যালিগ্রাফির উপর সকলের নজর দেওয়া উচিত। এটার প্রতি যতœ নেওয়া উচিত কারণ লেখাপড়ার জন্য খুব প্রয়োজন। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, `Writing is better than Reading` হাতের লেখা যদি সুন্দর না হয় পরীক্ষায় ও ভালো নাম্বার পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশে এ সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের এ সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু প্রচার নেই। ক্যালিগ্রাফি একটি জিনিস এটা যে শিখতে হয় এবং তাড়াতাড়ি শেখা যায় বা এটা এভাবে শিখতে হয় তাই জানা নেই। এর জন্যই মূলত আমরা পিছিয়ে আছি।’

অনুপ দাস বলেন, ১৫ বছর ধরে এর পিছনে আছি। যাদের কাছে প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি নিয়ে গিয়েছি প্রত্যেকেই প্রশংসা করেছে। আমি এখনও কোন ছাত্র পাইনি। দুই একজন শিক্ষার্থীকে এ বিষয়ে শেখানো হয়েছে। এছাড়া সুধীজন পাঠাগারের কর্ণধার কাসেম জামাল এ বিষয়ে খুব আগ্রহী। ওনি এ জিনিসটা ভালো বুঝতে পেরেছেন যে পড়ালেখার পাশাপাশি হাতের লেখা সুন্দর করা খুব দরকার। যার ফলে তিনি কয়েকটি হস্তাক্ষর প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছেন। যেখানে শিক্ষক ও ছাত্র উভয় ছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কেউ এ বিষয়ে শিখতে চাইলে অবশ্যই আমি তাদের শিখাতে পারবো। এর জন্য ৪ থেকে ৫মাসের বেশি সময় লাগবে না। বেসিক কিছু ধারণা আছে সেগুলো দিলে আর প্রতিনিয়ত চেষ্টা করলে সম্ভব। এটা আমার সখের জিনিস। কেউ আমাকে একটি প্রতিষ্ঠান করে দিলে আমি বিনামূলে ছাত্রছাত্রীদের শিখাবো। তারপরও আমাদের সোনার বাংলায় একটি ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউশন হোক।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Loading...
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ