৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ , ৮:২১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীরা ৩বিষয়ে বিপাকে, শিক্ষকরা অনিশ্চয়তায়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৯ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


অনলাইন থেকে নেওয়া প্রতিকি ছবি।

অনলাইন থেকে নেওয়া প্রতিকি ছবি।

জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ৩টি বিষয় নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে। জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় এসব বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষাবোর্ড। তবে এসব বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মান যাচাইকরণ প্রসঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড যে কারণে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীতে এসব বিষয়ের উপর নিয়মিত পাঠদান চালু থাকলেও কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে আবার কোনটিতে নেয়া হচ্ছেনা।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত না করে ধরাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মান যাচাই করা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে অনেক আগে থেকে পাঠদান চলে আসছে। তবে এই বিষয়গুলো ৯ম ও দশম শ্রেণীতে পাঠদান হয়না যে কারণে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীগুলোতে এই বিষয়গুলো পাঠদান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। তাই এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষাবোর্ডের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

এই ঘোষণার পর প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। আর সেই পরীক্ষায় কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেয়া হয়; আবারে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেয়া হয়না। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে এই বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেয়া হলেও বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষা নেয়া হয়নি। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে, ‘এসব বিষয়ে প্রয়োজন না পড়লে বাদ দেয়া হোক। আর যদি দরকার পড়ে তাহলে বোর্ড পরীক্ষা থেকে কেন বাদ দেয়া হল। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, বোর্ড পরীক্ষায় এসব বিষয়ে পরীক্ষা না নেয়া হলেও স্কুলে ঠিকই পড়ানো হয়। আর কোন কোন স্কুল পর্যায়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে আবার কোন কোন স্কুলে নেয়া হচ্ছে না। তবে পরীক্ষা নেয়া হলেও এসব পরীক্ষায় পাশ ফেল কোন গুরুত্বই রাখছে না। তাহলে এত কষ্ট করে সারা বছর এসব বই পড়ে কেন সময় নষ্ট করছি।’

অভিভাবকেরা বলছেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তান জ্ঞানের আলোতে আলোকিত হোক। কিন্ত এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের সন্তানেরা কি শিখবে। যে বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে সেসব বিষয় পরীক্ষায় আসবে না। তাহলে এসব বিষয় পড়িয়ে কেন অযথা সময় নষ্ট করছে। এর পরিবর্তে অন্য সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বেশি সময় ব্যায় করলে পরীক্ষার ফলাফল আরো ভালো হবে।’

এসব বিষয়গুলো কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে আবার কোনটিতে নেয়া হচ্ছেনা। তাই দুই ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হল। প্রথমেই যেসব স্কুলে এসব বিষয় পড়ানো হয় কিন্তু পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না। সেরকমই একটি বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, ‘আমরা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক একটি নোটিশ পেয়েছি। আর সেই নোটিশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। যেহেতু এসব বিষয়ের পরীক্ষার কোন গুরুত্ব নেই তাই পরীক্ষা নেয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে মান যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তাই নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম অভ্যাহত রয়েছে।’

আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ যেখানে এই বিষয়গুলোর ওপরে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এ. সাত্তার মিয়ার সাথে কথা হল। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, ‘এ ব্যাপারটি নিয়ে আমরাও একটু অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। কেননা বোর্ড নির্দিষ্ট করে তেমন কিছু বলেনি। এই বিষয়গুলো আগামী জেএসসি পরীক্ষায় থাকবে না। কিন্তু এসকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। যেকারণে আমরা এসব বিষয়ে পাঠদান  ও পরীক্ষা নেয়া দুটো কাজই করে যাচ্ছি। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নিলেও বার্ষিক নিব কিনা তা নিয়ে শংশয়ে আছি। তবে বোর্ড থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি করে দিলে এ সমস্যা হত না।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ