৮ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ

বাড়ছে শীতলক্ষ্যার পানি, নারায়ণগঞ্জে বন্যার শঙ্কা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩১ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার


বাড়ছে শীতলক্ষ্যার পানি, নারায়ণগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

নারায়াণগঞ্জের চারদিক পরিবেষ্টিত শীতলক্ষ্যা নদীতে। আর প্রতিদিনের বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে আসা পানিতে বাড়ছে নদীর পানির উচ্চতা। আর খুব দ্রুতই নদীর পানি বাড়ার কারণে নারায়ণগঞ্জবাসীও হতে পারে বানবাসী, বন্যায় শংকা রয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। ইতোমধ্যে সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়তই নদীর পানি একটু একটু করেই বাড়ছে। বুধবার দুপুরে বৃষ্টির কারণে নদীর পানি আরো বেড়েছে। নদীর পানি বাড়ার কারণে নদীর তীর সংলগ্ন মানুষরাও রয়েছে দুশ্চিন্তায়। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।

এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আগামী ১৯ অথবা ২০ তারিখের দিকে নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যার পানিও বিপদসীমা ছাড়াতে পারে। বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য এমন আভাসই দিচ্ছে।

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যে উলে¬খ করা হয়েছে ১৩ আগষ্ট রাত দুপুর ১২টায় শীতলক্ষ্যার পানি রয়েছে ৪.৯৯ দাগে (এমপিডবি¬উডি)। ১৪ আগষ্ট রাত ১০টায় শীতলক্ষ্যার পানি রয়েছে ৪.৯৩ দাগে। ১৫ আগষ্ট রাত ১০টায় শীতলক্ষ্যার পানি রয়েছে ৫.১৩ দাগে। ১৬ আগষ্ট রাত ১০টায় শীতলক্ষ্যার পানি থাকবে ৫.৩৬ দাগে। ১৭ আগষ্ট রাত ১০টায় শীতলক্ষ্যার পানি থাকবে ৫.৫৫ দাগে। ১৮ আগষ্ট রাত ১০টায় শীতলক্ষ্যার পানি থাকবে ৫.৭২ দাগে।

জানা গেছে, শীতলক্ষ্যার বিপদসীমা হচ্ছে ৫.৫০ দাগে। অর্থাৎ ১৭ আগষ্ট রাতেই শীতলক্ষ্যার পানি বিপদসীমা ছাড়াবে। এর আগে শীতলক্ষ্যার পানি সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল ৬.৯৩ দাগে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যার পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শীতলক্ষ্যার পানি সাধারণত পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র হয়ে আসে যমুনা নদী থেকে আসে। বর্তমানে যমুনার পানি বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিপদসীমার ১ মিটার ও তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকারণে শীতলক্ষ্যার পানি বাড়ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীতলক্ষ্যার পানি আরো বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের নি¤œাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে তারা ধারনা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, তারা ইতিমধ্যেই পাঁচটি উপজেলায় সভা করে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাঁচটি উপজেলাতেই এ বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোথায় কোথায় আশ্রয় কেন্দ্র হবে এবং সেগুলো তদারকিতেও কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রান সামগ্রী রয়েছে যা জেলা প্রশাসকের তত্বাবধায়নে রয়েছে। যখন যেখানে যা প্রয়োজন সেগুলো জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে তারা পৌছে দিবেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Loading...
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ