৫ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:১০ পূর্বাহ্ণ

ঈদে ঘুরতে পারেন বাংলার তাজমহল, পানাম নগরী ও সোনারগাঁও যাদুঘরে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:১৮ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার


ঈদে ঘুরতে পারেন বাংলার তাজমহল, পানাম নগরী ও সোনারগাঁও যাদুঘরে

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার তিনটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এগুলো হলো ‘বাংলার তাজমল’, ‘সোনারগাঁও যাদুঘর’ (বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন) ও পানাম নগরী।

এক সময়ের প্রাচীন বাংলার স্বাধীন রাজধানী সোনারগাঁও উপজেলার এসব স্থান স্থানীয় ও আশেপাশের জেলার মানুষের আকর্ষণ করে। অন্যবারের মত এবারের ঈদেও এ দুটি স্থানে দেশী-বিদেশী রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর জন্য এসব দর্শনীয় স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া মোছা ও পরিচর্যার কাজ।

বাংলার তাজমহল ও সোনারগাঁও যাদুঘর ছাড়াও যাদুঘর লগোয়া প্রাচীন নগরী ‘পানাম’, আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী উপজেলার মেঘনা নদীর পার, রূপগঞ্জে বেসরকারিভাবে নির্মিত কয়েকটি পার্কেও মানুষের ভীড় থাকতে পারে।

সোনারগাঁও যাদুঘর
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও যাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর ফাউন্ডেশনকে সাজানো হবে ভিন্ন সাজে। করা হবে বর্ণিল আলোকসজ্জা।

ঈদের ছুটিতে যাদুঘরে হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদুঘেরে আসার প্রবেশ পথে যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যাদুঘরের বিভিন্ন অংশে চলছে ধোয়া মোছার কাজ।

প্রসঙ্গত সোনারগাঁও এক সময় মসলিনের জন্যও জগত বিখ্যাত ছিল। মসলিনের বিকল্প জামদানী শাড়ী আপনি তাতীদের সরাসরি তৈরী করতে দেখা যাবে কারুপল্লীর ভিতরে। এখানে দেখারমতো রয়েছে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘর এবং ফাউন্ডেশন চত্বর। লেকঘেরা ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে কারুপল্লী, নৌকা ভ্রমণ ও টিকিট কেটে মাছ ধরার ব্যবস্থা।

বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁ দীর্ঘদিন সোনারগাঁও শাসন করেছেন। সোনারগাঁও এর চারদিকে নদী দিয়ে ঘেরা ছিল বলে সহজে সোনারগাঁওকে কোন শত্রু আক্রমন করতে পারতোনা। ১৯৭৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশমূল্য ১০ টাকা আর বিদেশী পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা।

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গোয়ালদী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগর। প্রাচীন এ নগরীর ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান এখানে। পানামনগরের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক পনাম পুল। যারা যাদুঘর দেখতে আসে তারা সাধারণত একটি বারের জন্য ঘুরে যায় পানাম নগরীতে।

বাংলার তাজমহল
২০০৮ সালে সোনারগাঁওয়ের মত অজপাড়া গায়ে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত “বাংলার তাজমহল” এর ফটক সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো টাইলস, বিদেশী ডায়মন্ড ও পাথর, গম্বুজের ওপরে ব্রোঞ্জের তৈরী চাঁদ-তারা’য় আরো দৃষ্টিনন্দন হয় ওঠেছে বাংলার তাজমহল। ফলে এবার ঈদের ছুটিতে তাজমহল দেখতে দেশী-বিদেশী রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তাজমহলে প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা।

চলচ্ছিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লা মনি নিজস্ব অর্থে পেরাব গ্রামে নিজ বাড়িতে ১২ বিঘা জমির ওপর তাজমহলটি নির্মাণ করেন। তিনি জানান, তাজমহলে ব্যবহৃত টাইলস আনা হয়েছে ইতালি থেকে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে ১৭২টি বিদেশী ডায়মন্ড, পাথর। গম্বুজের ওপরে চাঁদ-তারা তৈরীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চার মণ ওজনের ব্রোঞ্জ।

মনি জানান, স¤্রাট শাহাজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর সমাধির ওপর ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ তাজমহল বিশ্বের সপ্তাশচর্যের তালিকাতে স্থান করে নিয়েছে। সময়ের আবর্তে তাজমহলটি এখন বিশ্ববাসীর ভালবাসার মহান স্মৃতির চিহ্ন বহন করছে। এ কারণেই দেশের সাধারণ মানুষ যারা তাজমহল দেখতে ভারতের আগ্রায় যেতে পারবেন না তারা অনায়াসেই বাংলার তাজমহলটি দেখতে পারবেন।

পানাম নগরী
বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী বীর ঈশাখাঁর সময়কালে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। সোনারগাঁয়ের রাজদন্ড ও রাজকার্য পরিচালিত হতো পানাম নগরী থেকে। পানাম নগরীই যে প্রাচীন বাংলার রাজা ও আমির-ওমরাহদের বাসস্থান ছিল তার প্রমাণ এ অঞ্চলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। শত শত বছরের অনাদর আর অবহেলার চিহ্ন গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষগুলো। এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অট্টালিকা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, নাচ ঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপ, প্রশস্ত দেয়াল, ভোজনালয়, বিচারালয়, প্রমোদ কুঞ্জ ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় চারশ’ বছরের পুরনো মঠ-বাড়ি। এর পশ্চিমে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য কুঠি ‘নীলকুঠি’ রয়েছে। পোদ্দার বাড়ি, কাশিনাথের বাড়ি, সোনারগাঁয়ের একমাত্র আর্টগ্যালারিসহ নানা প্রাচীন ভবন। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। শেরশাহ আমলে নির্মিত সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু পর্যন্ত প্রায় ৩০০মাইলের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড-ট্রাংক রোডের কিছু অস্তিত্ব পানামে আজো দৃষ্ট হয় বলে হাল আমলে তা পাকা করা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ