৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২২ অপরাহ্ণ

টাকা তো দূরের কথা ওসমান পরিবারের সাথে আমার কথাই হয়নি : সাখাওয়াত


কথন করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০১ পিএম, ১৬ জুন ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:১১ এএম, ১৭ জুন ২০১৭ শনিবার


টাকা তো দূরের কথা ওসমান পরিবারের সাথে আমার কথাই হয়নি : সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গত ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি কারো কাছ থেকে টাকা নেয়নি। ওসমান পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া তো দূরের কথা দেখাই হয়নি। এখন বিশেষ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

১৬ জুন শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটায় নিউজ নারায়ণগঞ্জের ফেসবুক লাইভ টক শো অনুষ্ঠান ‘নারায়ণগঞ্জ কথন’ এর ২৬তম পর্বে ‘নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতি’ বিষয়ের উপর অতিথি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক আবুল হাসান।

সাখাওয়াত বলেন, সাতমাস পর বিএনপির এই টিপুর অভিযোগের কারণ হচ্ছে বিএনপির আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে দলের প্রার্থী তালিকা দলের কাছে রয়েছে এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আমার নাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আসার টিপুকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মূলত নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে মানুষের যেই উচ্ছ্বাস সেই উচ্ছ্বাসে দল যাকে মনোনীত করবে তাকেই মানুষ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, ‘সমালোচনা করলে তা প্রমাণসহ করা উচিত। আপনারা জানেন কিছুদিন ধরেই আপনারা দেখছেন আমার দলের একজন লোক আবু আল ইউসুফ খান টিপু আমার বিরুদ্ধে বলছেন, আমি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি সেটা কতটুকু পেরেছি আমি জানিনা। আবু আল ইউসুফ খান টিপু যে অভিযোগ করেছে তা মানুষ বিশ্বাস করবে না, সে আমার নির্বাচনে একজন নেতা ছিলেন। সে যেসব অভিযোগ করেছে তার পিছনে উদ্দেশ্য রয়েছে। আমি বিগত দিনে সাত খুনে প্রতিবাদ করেছি এবং আমার প্রতিবাদের ফলে অনেক প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিচার হয়েছে। আমি গত নির্বাচনে কোন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন করেছি তা সবাই জানে। দল যাদেরকে নির্বাচন করতে বলেছে তারা অনীহা প্রকাশ করায় আমার দলের কথায় দলের স্বার্থে দেশের স্বার্থে আমি তখন বলেছিলাম যদি দল আমাকে মনোনীত করে তাহলে আমি নির্বাচন করতে পারি। দল চেয়েছে বলেই আমি নির্বাচনে এসেছি, আর এ নির্বাচন সারাদেশেই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। এ নির্বাচনে ভয়ভীতিহীন একটি নির্বাচন দেয়ার পিছনে আমারও ভূমিকা ছিল। আমি প্রথম থেকেই বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আমার স্থানে থেকে নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ওসমান পরিবারের সাথে আমার কোন কথা হয়নি। টাকার অংক আসবে কিভাবে তাদের সাথে আমার কোন কথাই হয়নি। আমি যদি অর্থের প্রতি লোভী থাকতাম তাহলে সেভেন মার্ডারেই আমাকে দেখতেন কারণ সেখানে কোটি কোটি টাকার খেলা হতো। টাকা দিয়ে আমাকে কেউ কোনদিন কিনতে পারেনি। সারাদেশে এটি ইতিহাস আমি একমাত্র স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে বারে পাশ করেছি। নির্বাচনে পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আমরা কাজ করছি, ঈদের পরে আরো কাজ করবো। আমি এখনো বলি নাই আমি নমিনেশন চাই, নির্বাচন কবে হবে তাইতো এখনো ঠিক হয়নি। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পিছনেই আমরা কাজ করবো। দল যদি আমার চেয়ে ভালো প্রার্থী পায় তবে দেবে আর যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে তবে আমাকে দেব। যদি দেশে নির্বাচন হয় ভোট দেয়ার পরিবেশ হয় তবে আমাদের মহাসচিব বলেছে আওয়ামীলীগ ৩০টি আসনও পাবেনা এবং আমরা আশা করি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনই বিএনপি পাবে জয়লাভ করবে।

তিনি বলেন, টিপু মজিদ ভাই, সিরাজ ভাই, তৈমূর ভাই সহ সবাইকে ডুবিয়েছে। এমনকি কালাম ভাই বলেছিলেন আমি যদি মারা যাই টিপু যেন আমার জানাজায় না আসে। মানুষ বয়স হলে পরিবর্তন হয়, আমি ভেবেছিলাম সমাজ পরিবর্তন হয় সেও পরিবর্তন হবে কিন্তু সে হয়নি। আমাকে নেতাকর্মীরা তাকে বর্জনের কথা বললেও আমি তা করিনি কারণ আমি ভেবেছি নির্বাচনে কাউকে বাদ দেয়া ঠিক হবেনা। টিপু আমার বদৌলতেই দলে এ পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন সে ভাবছে আমি সভাপতি হতে পারিনি আর তাই সে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই আমার চরিত্র হননে মাঠে নেমেছে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে আমার পরাজয়ের ব্যবধানের কয়েকটি কারণ রয়েছে তার মধ্যে টিপু একটি কারণ। আমি তাকে নির্বাচনে বর্জন করতে চেয়েও পারিনি যদি পারতাম তাহলে ফলাফল আরো ভালো হতো। আর দুই কোটি টাকার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা আমি নারায়ণগঞ্জ কথনের মাধ্যমে বলতে তাই যদি তার কোন প্রমাণ থাকে তাহলে সে দেক। আর যে উত্তরা ক্লাবের কথা হয়েছে তা আমি কোথায় চিনিও না, কোনদিন যাইনি এমন কোন ক্লাবে। আর এমন কোন ডকুমেন্ট থাকলে সে উপস্থাপন করুক। আসব টিপুর রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।

সাখাওয়াত বলেন, আমি টিপুর এ উস্কানির পেছনে কাউকে দায়ী করতে চাইনা। এ ঘটনায় আবুল কালাম (মহানগর বিএনপির সভাপতি) উস্কানি দেবে তা নাও হতে পারে সরকারি দলও উস্কানি দিতে পারে কারণ তারাও নির্বাচন করবে। আর আমার বিরুদ্ধে নয় টিপুর বিরুদ্ধেই সেই প্রভাবশালী পরিবারের সাথে চলার অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আমার কর্মকান্ড দেখলেই মানুষ বুঝবে যে আমি তাদের সাথে জড়িত নই। তবে সাত খুন, শ্যামল কান্তি ভক্ত সহ শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছেও আমার যে ইমেজ তৈরী হয়েছে তা নষ্ট করার জন্যই টিপু এসব রটাচ্ছে। কারণ টিপু বলছে দুই কোটি আবার কেন্দ্রীয় একজন নারায়ণগঞ্জের নেতা বলছেন আরো ৩০ লাখ বাড়িয়ে।

তিনি যোগ করেন, আইভীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা আমি বললেও যা অন্যরাও বললেও তা। আমি নির্বাচনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে খুব কম কথা বলেছি। আর নির্বাচনে আমি যেহেতু আইভীর বিরুদ্ধে প্রার্থী সেহেতু আমি তার দোষ তুলে ধরেছি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, শহরের ময়লাসহ নানা দিক তুলে ধরেছি সেটা যদি কারো সাথে মিলে যায় তবে তা সম্পর্কের কিছুনা। তবে আমি মার্জিতভাবেই অনেক কমই তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভী জয়ী হওয়ায় আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আমরা বিরোধী দলে তবুও আমাদের থেকে যদি আইভী কোন সহায়তা চায় আমরা করবো। সহায়তা করবো আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কিন্তু ব্যক্তির নয় শহরবাসী নগরবাসীর জন্য সহায়তা করবো।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শ্যামল কান্তির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের সকল আইনজীবীই সাক্ষী। যখন তার ওয়ারেন্ট হলো তখন সে আমার কাছে এসেছে আর তখনি আমি তার আইনজীবী হয়েছি তার আগে আমি শ্যামল কান্তির আইনজীবী ছিলাম না। টিপুর কাজই হচ্ছে এমন, নারায়ণগঞ্জের সকল ভালো কাজে টিপু এ ধরনের কাজ করে। টিপু বলেছে আমার কাছে সে বিএনপি করে কিন্তু আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বিএনপির কাজ করি।

তিনি বলেন, ৮৮ সাল থেকে টিপু ফ্রীডম পার্টি করে। তারপর সে কামাল সাহেবের সাথে ছিল। বিএনপি করতে এসে সে বিএনপির মতিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পোস্টারিং করে সে ৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত ১১ মাস জেল খেটে। দলে থেকেই সে দলবিরোধী কাজ করতে অভ্যস্ত। আমি যখন দলের জন্য কমিটি জমা দেই মহানগর বিএনপির তখন সে আমাকে বলে আমাকে সভাপতি ও তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি জমা দেই। আমি তখন বলি এটা কি করে হয় তখন আমি তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক রেখে কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি জমা দেই। তখন থেকেই সে আমার পেছনে লাগে, এবং লবিং তদবির শুরু করে।

সাখাওয়াত বলেন, আমরা দল করি এখানে আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে, তার বিরুদ্ধে থাকতে পারে। এখানে সে যদি দলের ভালো চাইতো তাহলে সে দলের ফোরামে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি, আমি তার এ কর্মকা-ের ব্যাপারে দলের ফোরামে জানিয়েছি। সভাপতি থাকতে আমি সহ সভাপতির মিটিং ডাকার কোন এখতিয়ার নেই, আজ দলের বৈঠক, দলের দায়িত্বশীলদের উচিত ছিল আগেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া। আমি দলের ধানের শীষের প্রার্থী, আমাকে ইমেজ সংকটে ফেলে সে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ