৯ শ্রাবণ ১৪২৪, সোমবার ২৪ জুলাই ২০১৭ , ২:৩০ অপরাহ্ণ

diamond world

এমপি পদে ৩ বছরে সেলিম ওসমান : সফলতা সকলের, ব্যর্থতা আমার


প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০৫ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ১০:০৮ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার


এমপি পদে ৩ বছরে সেলিম ওসমান : সফলতা সকলের, ব্যর্থতা আমার

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর ২৬ জুন উক্ত আসনের উপনির্বচানে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় তার ছোট ভাই দেশব্যাপী ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান। নির্বাচিত হওয়ার পর ৮ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন সেলিম ওসমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সেই হিসেবে ৮ জুলাই সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের শপথ গ্রহনের তৃতীয় বছর পূর্ণ হবে।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই সকালে তিনি শপথ গ্রহণ করে বিকেলে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন। নারায়ণগঞ্জে এসেই তিনি প্রথম চমকটি দেন যা এর আগে নারায়ণগঞ্জের কোন সংসদ সদস্যই করেননি।

ওই দিন বিকেলে তিনি নারায়ণগঞ্জে এসে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি দলীয় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, উপনির্বাচনে তার সাথে আনারাস প্রতীকে প্রতিদ্ব›দ্ধীতা করা সাবেক সংসদ সদস্য এস.এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে সভাপতি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুর রহমান রাশু, কুতুব উদ্দিন আকসির, খবির উদ্দিন এর বাসায় গিয়ে তাদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে আগামী দিনগুলোর জন্য দোয়া প্রার্থনা এবং সহযোগীতা কামনা করেন। এর কিছুদিন পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অধিবেশনে স্বশরীরে গিয়ে উপস্থিত হয়ে মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথেও একত্রে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। সেলিম ওসমানের সিটি করপোরেশনের উপস্থিত হয়ে মেয়র আইভির সাথে আলোচনার বিষয়টি গোটা নারায়ণগঞ্জ জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরপর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সেলিম ওসমানের উদ্যোগে ইফতার পার্টিতে নারায়ণগঞ্জের সকল দলের নেতাদের মিলন মেলা। নেতাকর্মীদের ওই মিলন সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়িয়ে ছিল।


সংসদ সদস্য নির্বাচিত  হওয়ার পর সেলিম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নে একটি নিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করার ঘোষণা দেন। ঘোষণায় তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে কাজ করার কথা বলেন।


ঘোষণা অনুযায়ী প্রথমেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ৭টি ইউনিয়ন ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৭টি স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্কুল গুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, আলীরটেক ইউনিয়নে কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়। বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়, ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়, মুছাপুর ইউনিয়নে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর ইউনিয়নে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল, ও কলাগাছিয়া ইউনিয়নে আলহাজ্ব খোরশেদুনেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় নামে ৭টি স্কুলের নির্মাণ কাজ প্রায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন। স্কুল গুলো এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্কুল গুলো নির্মানে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় করেছেন। স্কুল গুলো আনুসাঙ্গিক বাকি কাজ সম্পন্ন হতে আরো ২ থেকে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রতিটি স্কুল ভবনের ৬ তলা ফাউন্ডেশনে ৩ ও ৪ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। অচীরেই ৬ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করা হবে। প্রতিটি স্কুলেই রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব, আধুনিক সাইন্সল্যাব, পাঠাগার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ও সার্বিক নিরাপত্তায় সিসি টিভি ক্যামেরা। এর মধ্যে ২০১৭ সালের প্রথম দিন থেকে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ২ বছরের জন্য সম্পূর্ন ফ্রিতে লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কলেজের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে ১০তলা আধুনিক ভবনের  নির্মান কাজ শুরু করেছেন ইতোমধ্যে প্রথম তলার ছাদ ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও বন্দরের নবীগঞ্জে কদমরসুল ডিগ্রী কলেজে ব্যক্তিগত অর্থায়নে কলেজের উন্নয়ন করে কলেজটি সরকারীকরণ করেছেন। ইতোমধ্যে কলেজের দলিল সম্পাদন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শহর ও বন্দরে পৃথক দুটি প্রতিবন্ধী স্কুল পরিচালনা করছেন।


বিভিন্ন সভা মঞ্চে সেলিম ওসমান বলেছেন তার সংসদ সদস্য হওয়ার কোন ইচ্ছা ছিলো না। তিনি তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে তার শূন্য স্থানে নির্বাচন করেছেন এবং তিনি নাসিম ওসমানের প্রক্সি দিতে এসেছেন। সেই মোতাবেক নারায়ণগঞ্জে মানুষের কাছে দেওয়া প্রয়াত নাসিম ওসমানের প্রতিশ্রুতি ছিলো শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু, নারায়ণগঞ্জে মেডিকেল কলেজ, শিল্পকলা একাডেমী, নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ডাবল রেললাইন, ও শহরের মানুষের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণ করা। তার দেওয়া এসকল প্রতিশ্রুতি অসম্পূর্ন রেখেই আকস্মিত মৃত্যুবরণ করেন নাসিম ওসমান।

সেলিম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত ৩ বছরে নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রায় বেশির ভাগই সফল করতে সক্ষম হয়েছে। সেলিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সরকারী ভাবে মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর দিয়ে স্বপ্নের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণ সম্পূন্ন হবে। এছাড়াও খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করতে সরকার থেকে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে ইতোমধ্যে ৭০ কোটি টাকা অর্থ ছাড় হয়েছে যেটি দিয়ে অচীরে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পেছনের অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহবান করা হবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য শহরের শায়েস্তা খাঁন রোডে শিল্পকলা একাডেমী ভবনের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর সড়ক দিয়ে ডাবল রেললাইনের প্রকল্প একনেকের বৈঠকে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেকারত্ব দূর করতে বন্দরের মদনগঞ্জে শান্তিরচরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর জমির উপর নীটপল্লী স্থাপনে সেলিম ওসমানের দেওয়া প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে নীট পল্লী নির্মানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫০ একর জমি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্দরের মুছাপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দকে আর্ন্তজাতিক পর্যটন কেন্দ্র এবং পূর্নাঙ্গ একটি তীর্থস্থানের রূপ দিতে ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন সেলিম ওসমান। সরকার ইতোমধ্যে ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় সরকারীভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও গ্রামীন অবকাঠামো গত উন্নয়নে বিগত ৩ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে আরো কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

সরকারী বরাদ্দের পাশাপাশি সেলিম ওসমান তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করেছেন। অসহায় মানুষের সহযোগীতায় দুহাত ভরে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ। বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজস্ব উদ্যোগে ঘাটের টোল ফ্রি করে দিয়েছেন। একইভাবে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটিও টোল মুক্ত করে দিয়েছেন।

শপথের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সেলিম ওসমানের কাছে তার প্রতিক্রিয়া এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে যখন একটি অস্থিতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো ঠিক সেই মুহূর্তে আমার বড় ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি অনেকটা নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে আমাদের পরিবারের দায় থেকে আমি নির্বাচনে অংশ নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর আমি বলে ছিলাম আমি কিছু করতে পারি আর না পারি অত্যন্ত নারায়ণগঞ্জের মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনবো। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারে আমি সেই ব্যবস্থা করবো। বিগত ৩টি বছর আমি সেই প্রচেষ্টাই করেছি। কতটুকু সফল হতে পেরেছি সেই মূল্যায়ন আমার নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরের মানুষই ভাল বলতে পারবে। আমি শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলে ছিলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার নিজস্ব অর্থায়নে ৭টি স্কুল নির্মানের জন্য কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যে স্কুল গুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অচিরেই স্কুল গুলো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। স্কুল গুলো নির্মানে আমি প্রতিটি এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের সহযোগীতা পেয়েছি। বিগত তিন বছরে আমার কর্মকান্ডের যতটুকু সফলতা এসেছে তার কৃতিত্ব আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আমার সহকর্মীবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষের। আর ব্যর্থতা যা হয়েছে তার দায় সম্পূর্নই আমার।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সেলিম ওসমান বলেন, বিগত দিন গুলোতে আমি নিজেকে নির্দিষ্ট কোন একটি দলের গন্ডির ভেতরে সীমাবদ্ধ করে রাখিনি। তাই আমি নিজেকে কোন দলের সংসদ সদস্য মনে না করে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি সহ সকল রাজনৈতিক দলের সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু আমার নিজেরও একটি দলীয় পরিচয় আছে। আমার মার্কাটি লাঙ্গল। আর জাতীয় পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মী আমার সহকর্মী।

 

আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি বলে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে। কিন্তু উনারা হয়তো ভুলে গেছেন এই নারায়ণগঞ্জের মাটিতেই ইসদাইরে ওসমানী স্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনকে প্রয়াত সাংসদ ও আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের দেওয়া উপহার ফুলে লাঙ্গলটি গ্রহণ করে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির লাখো নেতাকর্মীর সম্মুখে লাঙ্গল নৌকা তুলে দিয়ে বলেন আজ থেকে লাঙ্গলকে আমি নৌকায় তুলে নিলাম। সেদিন মঞ্চে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে সাক্ষী হয়েছেন। অতএব আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন সেটা নির্ধারন প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারন করে দিবেন। তাই এখনই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিন্তা করে সময় নষ্ট করতে চাই না। আগামীতে নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবো কি হবো না সেটা ২০১৮ সালের জুন মাসে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো ততক্ষন পর্যন্ত আমি সাধারণ মানুষের চাহিদা মোতাবেক উন্নয়ন কাজ গুলো চালিয়ে যেতে চাই। আর যারা আগামীতে প্রার্থী হতে চান তাদের প্রতিও আমার আহবান আপনার নিজ নিজ অবস্থান থেকে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে চান।

 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম : নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ২৬জুন। ওই বছরের ৮ জুলাই সেলিম ওসমান শপথ গ্রহণ করেন। আর এ তিন বছরে সেলিম ওসমান ব্যয় করেছেন কোটি কোটি টাকা।

 

জানা গেছে, গত ৩ বছরে সেলিম ওসমান যেসব খাতে ব্যয় ও অনুদান দিয়েছেন সেগুলো হলো -বিশেষ শ্রেনীর শিশুদের জন্য নিজ অর্থায়নে পরিচালিত ‘আশার আলো’ ও বন্দর অটিজম চাইল্ড স্কুলে অনুদান ৭০ লাখ টাকা। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিতে অবদান৪ কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে উৎসাহিত করতে ভূমিকা ৫৪টি ল্যাপটপ, ৩১টি মোবাইল অনুদান। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে সেলিম ওসমান ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অসহায় মানুষের সহযোগীতায় পাশে সেলিম ওসমান১২ কোটি ৫২লাখ ৬৫ হাজার টাকা। জনকল্যান ও সামাজিক উন্নয়নে সেলিম ওসমানের অবদান ৫ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নে সেলিম ওসমানের ভূমিকা ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সেলিম ওসমানের প্রচেষ্টা ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননায় সেলিম ওসমান ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

 

জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে শূন্য হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয় ওই নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন - জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল মজিদ মামুন ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার। এ চারজনের মধ্যে সেলিম ওসমান ও শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারেনি।

 

২৬ জুনের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। কেন্দ্র ছিল ১৪১টি। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮২২ ভোট। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্য ১ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ ভোট। অনিয়মের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়। ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪০ কেন্দ্রের ফলাফলে সেলিম ওসমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (গামছা প্রতীক) ১৩শ ৯৬ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের মামুন সিরাজুল মজিদ পেয়েছেন ৭৪৩ ভোট।

 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। কিন্তু ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় শুরু হয় নির্বাচনের উত্তাপ। পরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, সাবেক এমপি এস এম আকরাম,  মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়। শেষতক রাব্বির মনোনয়ন পত্র বাতিল ও আনোয়ার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নির্ধারণ হয়ে যায় দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। আর তারা হলেন এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ