৫ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:০৯ পূর্বাহ্ণ

পিপি কন্যা প্রাপ্তির মুখে ঘটনার আদ্যোপান্ত, দুপুরেই গাড়িটি দেখে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার


পিপি কন্যা প্রাপ্তির মুখে ঘটনার আদ্যোপান্ত, দুপুরেই গাড়িটি দেখে

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি বুধবার তাঁকে অপহরণ ও বিষ মিশ্রিত মিষ্টি খাইয়ে দেওয়ার বিস্তারিত বলেছেন। এ সময় প্রাপ্তি বলেছেন, তিনি ঘটনায় কাউকেই চিনতে পারেননি, তবে দেখলে তিনি চিনতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শহরের বালুরমাঠ এলাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন প্রাপ্তি। ওই সময়ে তার পাশেই বসা ছিলেন বাবা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন।

প্রসঙ্গত ২৩ আগস্ট বুধবার রাতে সাত খুন মামলা পরিচালনা করা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হাজী মঞ্জিলে কোচিং পড়ে বাসায় ফেরার পথে তার মুখে মুখে মিষ্টির সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে দেয় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। পরে প্রাপ্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই সে বাসায় ফিরে আসে।

প্রাপ্তি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, একটি গাড়িতে করে তিনজন লোক আমার এখানে এসেছিল কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে একজনই আমাকে সিড়িতে এসে কথা বলে। যে লোকটি এসে আমাকে মিষ্টি খাওয়ায় সে আমার বাবার বয়সীই হবে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ হবে। যে পড়নে ছিল কালো ব্লে¬জার বা কোর্ট এরকম, পার্পেল শার্ট, কালো চশমা, কালো শ্যূট আর কালো প্যান্ট। কোচিংয়ের সময় সকল ছাত্র ছাত্রীরাই পড়ে কিন্তু আমার মামার কোচিং হওয়ায় সেদিন আমার জিম দ্রুত শেষ হওয়ায় আমি সাড়ে চারটায় পড়তে যাই। বের হই সাড়ে ৫টায়। আমি যখন বের হচ্ছিলাম তখনি আমার পথ আগলে দাঁড়ায় এবং আমাকে ডাকে আমি পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলেও আমাকে ডেকে কথা বলার চেষ্টা করে বলে আমার মামার বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় তাদের আত্মীয় থাকে সেখানে এসেছে। আমার বাবার বন্ধু তারা। কিছুদিন আমার চাচা মারা গেছে শুনে তারা যেতে পারেনি কিন্তু আমার বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে নানা কথা বলতে থাকে, সে আমার বাবার বন্ধু সেটা সে বুঝাতে চেষ্টা করে।

প্রাপ্তি বলেন, ‘আমি বার বার যেতে চাইলেও সে আমাকে নানা কোথায় আটকে রাখতে চায়। আমাকে সে মিষ্টি খাওয়াতে চায় কিন্তু বার বারই বলি যে না না আমি খাবোনা। এরই মধ্যে সে বলতে থাকে তোমার বাবা গতকাল খুবই ভালো করেছে আদালতে মিষ্টি খাও বলেই কথা বলার এক ফাঁকে সে আমার মুখে মিষ্টি ঢুকিয়ে দেয় আমিও সেটি ফেলতে পারিনি গিলে ফেলি। মিষ্টিটি ছিল ড্রাই মিষ্টি, খাইয়ে দেয়ার পরও সে আমাকে জোর করেই পানি খাইয়ে দেয় এবং আমাকে নানা কোথায় কিছুক্ষন আটকে রাখতে চায়। পরে আমি তাকে দ্রুত সাইড কেটে বাইরে বেরিয়ে রিক্সা নিয়ে গলাচিপা মোড়ে এসে যখন দেখি আমার মুখ, গলা বুক জ্বলছে তখন আমি বাবাকে ফোন করি কিন্তু দুবার বাবা ফোন ধরনা, যখন তিনবারের বার ফোন ধরে তখন আমি বাবাকে ঘটনা জানাই। রিক্সা নিয়ে আসার সময় আমি পিছনে ফিরে দেখি ঐ লোক গাড়িতে উঠে গাড়ি ঘুরিয়ে ডিআইটির দিকে চলে যায়। গাড়িতে দুজন বসা ছিল পিছনে আর সামনে ছিল ড্রাইভার। লোকটি ড্রাইভারের সাথে গিয়ে বসে।’

প্রাপ্তি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সাড়ে ৫টার সময়টায় সিড়ির স্থানটা খালিই থাকে। কেউই তখন ছিলনা। আমি একা ছিলাম বলেই সে আমাকে আটকে ধরে। কারিনা গাড়িতে করে তারা আসে। এই গাড়িটিই যখন আমি দেড়টায় জীমে যাই তখন আমার বাবার চেম্বারের সামনে দেখেছি। কিন্তু তখন আমার সাথে কথা বলার সুযোগ পায়নি। সে সময়টায় সিড়ি খালি থাকে তাই তখনি তারা সুযোগ নিয়েছে।

মাইশা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমার কোচিংয়ের প্রায় সকলেই আমাকে চেনে। আমার পড়া শেষ হবার পরই আমি বেড়িয়ে পড়ি। আমাকে সাড়ে ৪টায় কোচিংয়ে নামিয়ে দিয়ে যায় আমার গাড়ি আর বাবার নিরাপত্তার পুলিশ আংকেল। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ইনজেকশান দিয়ে, ওয়াশ করে দেয়। আমার ৭টি বিষয়ের ফলাফল আজকে দিয়েছে, আমি ৫টিতে এ পেয়েছি আর দুটিতে বি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ