৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ , ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজের সহ অনেকের নিরাপত্তায় উদ্বেগ সাখাওয়াত করবেন জিডি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৯ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নিজের সহ অনেকের নিরাপত্তায় উদ্বেগ সাখাওয়াত করবেন জিডি

আলোচিত সাত খুন মামলা পরিচালনা করা নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শংকা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘আইনজীবীরাই যে শুধু টার্গেট না। ভিকটিমের পরিবার, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও টার্গেট। এজন্য তিনি সকালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি রাখতে হবে যাতে তাদের যেন কোন ক্ষতি না করতে পারে।’

২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, বুধবার রাতের ঘটনায় ভীত। এ কারণে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারাণ ডায়রী (জিডি) করবেন।

প্রসঙ্গত ২৩ আগস্ট বুধবার রাতে সাত খুন মামলা পরিচালনা করা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হাজী মঞ্জিলে কোচিং পড়ে বাসায় ফেরার পথে তার মুখে মুখে মিষ্টির সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে দেয় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। পরে প্রাপ্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই সে বাসায় ফিরে আসে।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় নিম্ন আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে ১১জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত অপর ৯জনের সাজা আগেরটিই বহাল আছে। তবে ২২ আগস্ট মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ে খুশী হতে পারেননি মামলার নিম্ন আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। সেই মামলাটা আমি বাদী হয়ে করেছি যেখানে আরো দুইজন আইনজীবী ছিলেন। যার ফলে এসব রহস্য বের হয়েছে। আর ওয়াজেদ আলী খোকন সরকার পক্ষের কৌশুলি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলার আসামী ৫টি বাহিনীর সদস্য। সেটা হলো মিলিটারী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার। এ ৫টি বাহিনীর অনেকের সাজা হয়েছে এবং পলিটিক্যাল ব্যক্তিদের সাজা হয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে তারা অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ রায়টি সারা বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিচার হওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আইনজীবীদের ছিল, আদালতের ছিল, মিডিয়া কর্মীদের ছিল এবং সাধারণ মানুষের ছিল। সকলের সমন্বয়ে এ বিচার হয়েছে। এক ভাবে মনে করা যেতে পারে বিচারটা কেউ করে দিয়ে যায় নাই বরং এ বিচার আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আসামীরা প্রথম থেকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। যাতে করে তারা এ জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে রেহায় পেয়ে যায়। যার জন্য সকল ধরনের ক্ষমতা তারা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে কিন্তু সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার করণে সেক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারে নাই। সবশেষ মহামান্য হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্সেও রিজেক্ট হয়েছে। ১৫ জনের মৃত্যুদন্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন ও ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর কারণে আমরা যারা ন্যায় বিচারের জন্য আন্দোলন সংগ্রম করেছি এবং আমরা আইনজীবীরাই যে শুধু টার্গেট তা না, এটা ভিকটিম পরিবারের সদস্যরাও টার্গেট তাদের, সাংবাদিক যারা বেশি লেখালেখি করেছে তারাও টার্গেট এবং আমরা যারা আইনজীবীরা লড়াই করেছি তারাও টার্গেট।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, বুধবার পিপির মেয়ের উপরের হামলার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং ভীত। কারণ আজ তার উপরে হয়েছে আবার কার উপরে হয় এ নিয়ে ভীত। প্রশাসন এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা পালন করবে। কারণ এটা সঙ্গে সারা দেশের ন্যায় বিচার জড়িত। আজকে আসামীদের লোকজন দ্বারা যারা বিচারটা পাওয়ার জন্য কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করে সফল হতে পারে তাহলে সারা বাংলাদেশে এ ধরনের আর বিচার চাওয়ার যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাটা পড়বে। মানুষের মাঝে যে ন্যায় বিচার পাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে সেটার উপর ভাটা পড়বে। সুতরাং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ভিকটিম পরিবার, আইনজীবী, বিচারক, মিডিয়ার সক্রিয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ যারা বিচার জন্য আন্দোলন সংগ্রম করছে সকলের প্রতি এ সরকার একটা বিশেষ ভূমিকা রাখে যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে। এটা শুধু সন্ত্রাসীরা যে তা না আমরা মনে করি একটা বাহিনীর সদস্যরা সাজা পেয়েছে তাদের পাওয়ার কম না।

তিনি আরো বলেন, ‘রানা তারেক সাইদ, আরিফ এদের বিরুদ্ধে আরো অপহরণের মামলা আছে। মদনপুরের যুবলীগ নেতা ইসমাইল হত্যা মামলা। অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সেটার জন্য তার স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা করেছে। তারা যেহেতু উচ্চ আদালতে যায়নি সেহেতু তারাই আসামী। তারাই ইসমাইলের স্ত্রীর কাছে বলেছে তাকে ফিরত দিবে এর জন্য  ২ কোটি টাকা চেয়েছে। এটা সংবাদ সম্মেলন করে তার স্ত্রী জানিয়েছে। সেই মামলা যেহেতু উচ্চ আদালতে কোন আদেশ ছিল না সেহেতুু পুলিশ বা সরকার সেই ভাবে তদন্ত করে নাই কিংবা উদঘাটনের কোন চেষ্টা করে নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুবিচারের জন্য যারা কাজ করে তাদের সকলের জন্য যেন সরকার সুদৃষ্টি রাখে। তাদের যেন কোন ক্ষতি না করতে পারে। আমার পরিবারও তাদের টার্গেটে থাকে পারি এবং সেটা যেন তাদের টার্গেটে পরিণত না হই এজন্য প্রশাসন যেসকল নিরাপত্তা দেওয়া দরকার সব কিছু দিবে। এবিষয়ে আমি একটি লিখিত জিডি করবো।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ