৮ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ

টার্গেট পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ : ডিসি (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


টার্গেট পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ : ডিসি (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরকে আরো আধুনিকায়তনের উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এজন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার প্রস্তাবনাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে নারায়ণগঞ্জ শহরের চিত্র।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান এসব পরিকল্পনার কথা।

জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ৪ লেনে উত্তীর্ণ করার জন্য প্রস্তাব করেছি। চাষাঢ়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ডাবল রেল লাইন ও এখানে মেট্রোরেল করার জন্যও প্রস্তাবনা আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে ৩টি ফুটওভার ব্রীজ করার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণ করার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। আশা করি ঢাকা আউটার লেন মেগাপ্রজেক্ট আছে তার সঙ্গে এটা সম্পৃক্ত হয়ে যাবে।’

তিনি জানান, মেঘনা টোল প্লাজায় ডিজিটাল স্মার্ট কাডের কাজ শুরু হয়েছে। যার কারণে সময় কম লাগে যানজট কিছুটা কমে এসেছে।

‘নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের মধ্যে টিম স্প্রীড কাজ করে’ বক্তব্যে যোগ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের জেলা পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন বিজ্ঞ জেলা জজ, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন সহ সকল নির্বাহী প্রকৌশলীগণ সকলে পরিবারের মতো কাজ করছি। আমাদের একটাই উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন সেগুলো আমরা বাস্তবায়নে কাজ করছি। আমরা শতভাগ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সকল নির্দেশিত কর্মপন্থা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে পারবো।’

আরো কিছু উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে রূপগঞ্জের পূর্বাচলের মতো নতুন একটি মডেল টাউন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি। সেটার সঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিক্যাল কলেজ করার জন্য কাজ করছি। এটা গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

রাব্বী মিয়া বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক ইউনিয়ন বা অন্য সাংবাদিকগণ রয়েছেন তাদেরও মানসিকতার মধ্যে চেষ্টা করেছি পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ। পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ হিসাবে তুলে ধরতে পারলে অন্য জেলা ও বিদেশে একটি পজেটিভ ধারণা সৃষ্টি হবে। এজন্য সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ একবছরে নেগেটিভ কোন নিউজ চোখে পড়েনি। যেসব নেগেটিভ নিউজ বলা হচ্ছে এটা সাংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। এখান থেকে আমাদের বের হয়ে সম্মিলিতভাবে একটা জায়গা তৈরি করতে হবে যেখানে আমরা আগামী দিনে নিয়ে যেতে পারবো।’

‘নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি, সংরক্ষিত এমপি, সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসনের সকলের সহযোগিতার করণে এ একবছর আমরা অনেক বড় বড় পদক্ষেপ নিতে পেরেছি। যা এখন বাস্তবায়িত করার পথে।’ জানান জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ডিএনডি নিয়ে আমাদের মানুষের অনেক কষ্ট হয়। ৫৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেখা যাবে ডিএনডির দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং ডিএনডির এ জায়গা একটি পর্যটক  কেন্দ্রের মতো মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারবো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যেমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

রাব্বী মিয়া বলেন, ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী, পাবলিক লাইব্রেরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, অসহায় ও পথশিশুদের জন্য নিবাস প্রস্তাব করেছি। মডেল মসজিদ কাজ চলছে। নতুন আরেকটি বাস টার্মিনাল করার জন্য চেষ্টা করছি। তাহলে শহরের বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিয়ে আসা হবে। নিট পল্লী ও আইসিটি পার্ক করার জন্য পরিকল্পনা করছি। সামনের দিন গুলোতে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে এক বছর অতিবাহিত করেছেন রাব্বী মিয়া। আর বিগত ওই এক বছর নানা কারণে নারায়ণগঞ্জ ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত। বাহ্যিকভাবে এ এক বছরে বড় ধরনের কোন কালিমা লেপন হয়নি প্রশাসনের উপর। অনেকটা সফলতার সঙ্গেই এক বছরে জেলা প্রশাসকের চেয়ারে বসে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রন করেছেন তিনি, কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো। তাছাড়া আগামীতে কী করবেন, কী পরিকল্পনা আর বিগত এক বছরের অর্জন নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

গত এক বছরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ অচিরেই শুরু হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নামাকরণ ঠিক করা হয়েছে। ওসমানী স্টেডিয়ামের পাশে আমরা ক্রীড়া কমপ্লেক্স করছি। এটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভুলতা গাউছিয়া ফ্লাইওভারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটা হলে গেলে ঢাকা-সিলেট যোগাযোগে এ ভুলতা এলাকায় আর যানজট হবে না। এক বছরের মধ্যে লাঙ্গলবন্ধ পূর্ণ ¯œান এলাকায় ১২০ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে এলজিইডির মাধ্যমে। সড়ক ও জনপদের মাধ্যমে আরো একটি প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে ১২০ কোটি টাকার। দুইটি প্রকল্প এক বছরের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার কোটি টাকার উপরে একটা মাস্টার প্লান করছি। এ মাস্টার প্লান অনুযায়ী আমরা যদি কাজ করতে পারি তাহলে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে।

রাব্বী মিয়া জানান, আড়াইহাজারে আমরা বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করেছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে জিটুজি একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে প্রায় ৪৭১ একর জায়গা নিয়ে যা বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের সহযোগিতায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ভাবে কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন যা বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দলমত নির্বিশেষে সকলে প্রশংসা করেছে। সাত খুন মামলার যে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল সেগুলো আমরা সকলে মিলে শান্তিপূর্ণ ভাবে বজায় রাখতে পেরেছি।

রাব্বী মিয়া বলেন, আমরা মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করি অচিরেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।এমপি সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় শহরের যানজটের বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। এখন এটাকে ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি আরো উন্নতি সাধন করা যাতে করে জনগন এটা উপভোগ করতে পারে। নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষিতে আইনশঙ্খলার যে কমিটি ও আইন শৃঙ্খলার কমিটিতে যাঁরা রয়েছে তারা মিলে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। আমরা (জেলা প্রশাসন), পুলিশ ও অন্য বাহিনীর সমন্বয়ে বিশাল মজুদের অস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছি। সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। জঙ্গি ধরার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জেলা প্রশাসকের বাস ভবনে যে অনুষ্ঠান হয় সেটা একটি নতুন মাত্র যোগ করেছি। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফাস্ট গার্ল, ফাস্ট বয়দেরকে জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়ে যাই যাতে করে বুঝতে পারে তারা যদি ভালো করে পড়ালেখা করে, তারা যদি মাদক থেকে দূরে থাকে, তারা যদি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকে তারা যেন সরকারি কর্মকর্তা হতে পারে। বড় রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদকর্মী হতে পারলে তারা এরকম সম্মানী স্থানে থাকতে পারবে। সম্মানী অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দিকে মনযোগী রাখা ও মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য অনেক কাজ করেছি। সেখানে স্থায়ী মঞ্চ করে দিয়েছি অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং অনেকগুলো স্কুলে সততা স্টোর করছি। যাতে করে ছোট বেলা থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের একটি ধারণা তৈরি হয় এবং সেই ধারণা পোষণ করে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথম আমরা কারাগারের ভিতরে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান করছি। দেখা যাবে কারাগারে ভিতরে যারা বন্দি আছে তারা এখানে কাজ করতে পারবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের লভ্যাংশের একটি অংশ তারা প্রতি মাসে বাড়িতে পাঠাতে পারবে অথবা যদি মনে করে ৩ থেকে ৪ বছর এখানে থাকার পরে এক সাথে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে যেতে পারবে। এবং তারা দক্ষ হবে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে যখন ঘরে ফিরে যাবে তখন তারা স্ব-উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। আমি মনে করি বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি নতুন ধারণা। আর এটা বাস্তবায়ন হলে সরকারে দৃষ্টি আনতে পারে হয়তো অন্য কোন কারাগারে গার্মেন্ট স্থাপিত হতে পারে। ইতোমধ্যে আমরা এ কারাপণ্য বিক্রি করার জন্য কারাগারের বাহিরে  ডিসপ্লে ও বিক্রয় কেন্দ্র করেছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Loading...
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ