৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ , ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

আবারও ভয়াবহ লোডশেডিং নারায়ণগঞ্জ শহরে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৯ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৭ সোমবার


ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জে আবারও ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েই চলেছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা নিয়ম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়। রাতেও রেহাই নেই নগরবাসীর।

এদিকে গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের বাইরের অন্য উপজেলাগুলোতেও বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন দোকান, বড় বড় শপিংমলগুলোতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে জেনারেটর কিংবা আইপিএস। কিন্তু তাতেও বিদ্যুতের চাহিদা মিটছে না দোকান মালিকদের। সেই সাথে বিদ্যুতে লোডশেডিংয়ের কারণে বেচাকেনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

‘সকালেও কারেন্ট (বিদ্যুৎ) থাকেনা, রাতেও কারেন্ট থাকে না। কাজে গেলেও কারেন্ট থাকেনা, রাতে ঘুমাতে গেলেও কারেন্ট থাকেনা। এভাবে কি জীবন চলে। যেখানেই যাই শুধু লোডশেডিং আর লোডশেডিং’। শহরের নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকার একটি হোসিয়ারীতে দর্জি মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা জামিল এ আক্ষেপের কথা বলেন।

জামিল আরো বলেন, ‘কাজে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই, বাসায় এসে দেখি কারেন্ট নেই। হোসিয়ারীতে কারেন্ট না থাকার কারণে কাজ করতে পারছিনা, আর করলেও ঠিক মত করতে পারছিনা। কেননা লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচন্ড গরম লাগে, তাই কাজে মন বসে না। অন্যদিকে সময় মত প্রতি সপ্তাহের মাল ডেলিভারী দিতে না পারলে চাকরি থাকবে না। এছাড়া কাজ শেষে বাসায় গিয়ে দেখি কারেন্ট থাকেনা। রাতেও দেরি করে বাসায় গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। এরপর কারেন্টের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রাত ১ টার দিকে কারেন্ট এসেছে, এরপর রাতের খাবার খেয়েছি। এমনিতে এখনতো গরমের দিন, তাতে যেই গরম পড়ে কারেন্ট ছাড়া এক মুহূর্ত থাকা যায়না। এভাবে কত দিন চলা যায়। কখনো সকালে, কখনো রাতে শুধু লোডশেডিং আর লোডশেডিং।

সম্প্রতি লোডশেডিয়ের সমস্যা খুবই ব্যাপক আকার ধারণ করছে। যেকারণে সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

রেহানা নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা, কিন্তু লোডশেডিয়ের কারণে পড়াশোন করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। দিনের বেলায় স্কুলে থাকি, রাতের বেলা একটু পড়াশোনা করতে বসলেই কারেন্ট চলে যায়। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে অবসর বসে থাকতে হয়। এভাবেই দফায় দফায় লোডশেডিং চলতে থাকে, আর আমারাও পড়াশোনা ঠিক মত করতে পারিনা।’

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমি কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করি। তাই সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরে পড়তে বসি। কিন্তু সম্প্রতি বাসায় আসতেই দেখি কারেন্ট নেই। এতে আমার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে, আর শিক্ষকের কাছে বকুনি খেতে হয়। ২-৩ মাস পরে আমার এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অথচ যেভাবে লোডশেডিং চলছে তাতে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার আশাতো ছেড়েই দিয়েছি।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ