৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:২০ পূর্বাহ্ণ

ট্রাকের হেলপার থেকে নরঘাতক গডফাদার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার


ট্রাকের হেলপার থেকে নরঘাতক গডফাদার

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভিন্ন এক রাজ্যের রাজা ছিলেন আলোচিত ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নাসিকের বরখাস্তকৃত ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি নূর হোসেন চেয়ারম্যান। তার সাম্রাজ্যে হাত বাড়ালেই মিলতো মাদক। কাউন্টার বসিয়ে বিকিকিনি হতো ফেনসিডিল, বিয়ার, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। ছিল মিনি পতিতালয়ও। কয়েকটি জলসাঘরে ছিল প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জনের সবধরনের ব্যবস্থা। চলতো জুয়ার আসর সঙ্গে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। তাকে চাঁদা না দিয়ে ঘুরতো না কোন গাড়ির চাকা। চাঁদা নিয়ে লুকোচুরি হলে পরিবহন মালিকদের দেয়া হতো দন্ড। ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমনকি খাবার হোটেল থেকেও চলতো নিয়মিত চাঁদা আদায়। তার চলাফেরাও ছিল অনেকটা রাজকীয় স্টাইলে। নূর হোসেন যেখানেই যেতো সঙ্গে থাকতো তার বিশাল গাড়িবহর। যাতে থাকতো অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি। সঙ্গে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার। নিজের অনুগত ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষিত গানম্যানতো থাকতোই। জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের লোকজন ছিল তার পকেটের লোক। তার সাম্রাজ্যে অভিযান চালানোতো দূরের কথা বরং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সবকিছু চলতো। রাজনৈতিক একাধিক শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থরাও তার জলসাঘরের নিয়মিত অতিথি হিসেবে থাকতো। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, ট্রাক স্ট্যান্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, কাঁচপুরের বালুমহাল, মৌচাক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল নূরের সাম্রাজ্য। কাউন্সিলর হলেও যাকে হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবেই চিনতো। কেউ কেউ আড়ালে ডাকতো নব্য এরশাদ শিকদার হিসেবে।

যেভাবে উত্থান
স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ১৯৮৫ অথবা ১৯৮৬ সালের ঘটনা। সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ইকবাল গ্রুপের ট্রাকের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নূর হোসেন। পরবর্তীতে ড্রাইভারি শিখে একই গ্রুপে চাকরি করেছেন। ১৯৮৮ সালের দিকে শিমরাইলে আন্তঃজেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম চালু করেন দাইমুদ্দিন নামক এক ট্রাক ড্রাইভার। তার হাত ধরেই নূর হোসেন হেলপার হিসেবে যোগ দিয়েছিল ইকবাল গ্রুপে। ১৯৮৯ সালের দিকে দাইমুদ্দিনকে বের করে দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের দখল নেয় নূর হোসেন। যোগ দেয় জাতীয় পার্টিতে। কিন্তু ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে হয়ে যায় বিএনপির নেতা। গঠন করে সন্ত্রাসী বাহিনী।

দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ছিল বহাল তবিয়তে
১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন নূর হোসেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় তার পরিচয় হয় হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, রাস্তায় ইট বিছানোর নামে পরিষদের তহবিল তসরুপ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঠানো অর্থ ও ত্রাণসামগ্রীর আত্মসাতসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ জন্য অন্তত অর্ধশত বার তদন্ত হয়েছে। তদন্তে অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাতে অবশ্য কিছুই হয়নি নূর হোসেনের। সে সময় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে তার অপসারণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশও করেছে তদন্ত টিম। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরই গা-ঢাকা দেয় হোসেন চেয়ারম্যান।

১৯৯২ সালের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন নূর হোসেনসহ ১৩ জন। শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলামকে পরাজিত করতে মাঠে নামেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন। দলবল নিয়ে পক্ষ নেয় নূর হোসেনের। দুই-আড়াইশ ভোটের ব্যবধানে নূর হোসেন জয়ী হয়। প্রভাব বিস্তার করে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জে। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে পরবর্তী ইউপি নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন নূর হোসেন। আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমান প্রার্থী দেয় নজরুলকে। কিন্তু নূর হোসেন জয়ী হয়ে হাত মেলায় শামীম ওসমানের সঙ্গে। হয়ে যায় আওয়ামীলীগার। শুরু হয় নূর হোসেন চেয়ারম্যানের ডন হিসেবে আবির্ভাব।

আগেও ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত ছিল সে
নূর হোসেন ওরফে হোসেন চেয়ারম্যান ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল। ২০০৭ সালের ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধে লাল নোটিস জারি করে। অবশ্য এর অনেক আগেই (২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই) হোসেন চেয়ারম্যান তার বাহিনী নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২৩ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর হোসেন চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে ভারতেই ফেরারি জীবন কাটায়। একটি মামলার রায়ে তার অনুপস্থিতিতে সাড়ে তিন বছরের কারাদন্ডও হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতায় আসলে হোসেন চেয়ারম্যানের ফেরারি জীবনের ইতি ঘটে। ২০০৯ সালের ২০জুন হোসেন চেয়ারম্যান ফেরেন নিজ এলাকা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে।

এইচটি ইমামের সেই চিঠিতে বদলে যায় নূরের ভাগ্য
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম তার অতি জরুরী চিঠিতে নূর হোসেনকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ‘ত্যাগী’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া নূর হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবর। অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবরে। যদিও ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের বিরোধীতার কারণে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে ‘ত্যাগী আওয়ামীলীগ’ নেতা হিসেবে দেওয়া ওই চিঠির বদৌলতে বদলে যায় নূর হোসেনের ভাগ্য। ওই চিঠির বদৌলতে ২০১১ সালের ৪ মে নূর হোসেনের ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে বাড়তে থাকে তার আধিপত্য। শুরু করে বেপরোয়া চাঁদাবাজী, দখলবাজী, টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা ও কাউন্টার বসিয়ে প্রকাশ্যে মাদক বিকিকিনির মহোৎসব। প্রশাসনের লোকদের ম্যানেজ করে নিজের নামে দু’টি ও বাহিনীর নামে আরো ৯টি সহ মোট ১১ টি অস্ত্রের লাইসেন্স (পরে বাতিলকৃত) নিয়েছিল নূর হোসেন। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রতো ছিলই।

সিদ্ধিরগঞ্জের সর্বত্র ছিল নূর হোসেনের চাঁদাবাজি
শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল থেকে প্রতিটি গাড়ির ট্রিপ বাবদ আদায় ৩৫০ টাকা চাঁদা আদায় করতো নূর হোসেন। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮টি জেলার প্রায় ৭০টি রুটের শতাধিক বাস কাউন্টার থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হতো। বেবি ট্যাক্সি, সিএনজি, টেম্পো স্ট্যান্ড, দুরন্ত পরিবহন, শীতলক্ষ্যা পরিবহন, নসিব পরিবহনসহ প্রতিটি পরিবহনের গাড়ি থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৪৯৪) এর শিমরাইল পূর্বাঞ্চলীয় কমিটির রশিদে এ চাঁদাবাজী হতো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি মাসে পরিবহন থেকে অন্তত ৪০ লাখ টাকার উপরে চাঁদা আদায় করা হতো। ফুটপাথের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করতো নূর হোসেনের বিশ্বস্ত ছিন্নমূল হকার্স সমিতির সভাপতি পরিচয়দানকারী সেলিম রেজা। সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল ও এর আশপাশ এলাকায় গড়ে ওঠা ১৪টি চুন উৎপাদনকারী কারখানা থেকে মাসে অন্তত ৪০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতো নূর হোসেন। মন প্রতি ৩০ টাকা চাঁদা দিতে হতো নূর হোসেনকে। সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নদী দখল ও ভরাট করে বালুর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল নূর হোসেন ও তার ছোট ভাই নূরুজ্জামান জজ।

যে রকম ছিল নূর হোসেনের বাড়ি
শিমরাইল টেকপাড়া এলাকায় সড়ক সংলগ্ন অন্তত ১৫ কাঠার উপরে নূর হোসেনদের ৩টি দোতলা বাড়ি ও একটি নবনির্মিত ৭ তলা আলিশান বাড়ি। প্রবেশপথের একপাশে মাছের বাজার অন্যপাশে মসজিদ ও পুকুর। প্রবেশপথের দুপাশেই সারি সারি নারিকেল গাছ। সামনের পুকুর পাড় নানান ধরনের সৌন্দর্যবর্ধক গাছের সমারোহ। মূল ফটক পেরুতেই যে দোতলা বাড়িটিতে নূর হোসেন থাকতেন তার সামনে বিদেশী পাখির মিনি জাদুঘর। যাতে ছিল অন্তত ৩৬ প্রজাতির পাখি। খাঁচার পাখিগুলোর  মধ্যে লাখ টাকার পাখিও দেখা গেছে। এর ঠিক পাশেই ছিল সারিবদ্ধ খোপে ৩ শতাধিক কবুতর। দোতলা ৩টি বাড়ির বাউন্ডারীর ঠিক পেছনেই ছিল নব নির্মিত আলিশান ৭ তলা ভবন।

জলসাঘরে চলতো অপকর্মের শলাপরামর্শ
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য দেয়া হলফনামায় নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী হিসেবে তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে রায় এনে অবৈধ টাকার জোরেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন নূর হোসেন। শিমরাইলের টেকপাড়ার বাড়ির পিছনে প্রায় ৪০ বিঘা জমি নিয়ে ছিল মৎস্য খামার। এই খামারের মালিকদের বঞ্চিত করে নূর তার সহযোগী সুকশি এলাকার মনিরকে দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চাষ করে আসছিল। এই খামারের মধ্যে পানির ওপরে গড়ে তোলা ‘জলসাঘরে’ বসে নানা ধরনের অপকর্মের শলাপরামর্শ করতো নূর হোসেন ও তার বাহিনী। এছাড়া নূরের নির্দেশে ডিএনডি বাঁধও আটকে মাছ চাষ করে আসছিল মনির। অথচ ডিএনডি বাঁধে মাছ চাষের জন্য বরাদ্দ পায় মারিয়া ট্রেডার্স। এই মৎস্য খামারের সংলগ্ন একটি টিনসেড ঘরে বিক্রি হতো বিভিন্ন ধরনের মাদক। আর দেয়ালের ছিদ্র দিয়ে সরবারহ করা হতো মাদকসেবী ক্রেতাদের। 

নূরের যতো সম্পদ
জানা গেছে, হলফনামায় নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও অঢেল সম্পদ করেছেন নূর হোসেন। শিমরাইলে ১১ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন নূর হোসেন। এই ফ্ল্যাটের উপরের দুইতলায় করেছেন অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স। এই বাড়িটিতে ব্যবহার করেছেন ইটালি থেকে আমদানি করা ব্রাউন কালার থাই গ্লাস। স্যানিটারি পণ্য দিয়েছেন ইটালি ও ভারতের। টাইলস এবং মার্বেল দিয়েছেন চীন ও নেপালের। ঝাড়বাতি দিয়েছেন জার্মানি থেকে আমদানি করা। শিমরাইলে ১০ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি ৬ তলা বাড়ি, ১০ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৬ তলা ভবন, রসুলবাগে সাড়ে ৮ কাঠা জমির ওপর ৭ তলা ভবনসহ ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি ও ৪টি ফ্ল্যাটের মালিক নূর হোসেন। তার বাড়িগুলোতে জার্মান, চীন, ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি করা স্যানিটারি সামগ্রী, টালইসসহ অত্যাধুনিক সব আসবাবপত্র ফিটিংস রয়েছে।

নূর হোসেনের মালিকানায় রাজধানীর গুলশান-২-এ রয়েছে ২টি ফ্ল্যাট। গুলশান লেকের অপজিটে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট দুটিতে বসবাস করতেন নূর হোসেন। এছাড়া বনানী ও ধানমণ্ডিতে আরও ২টি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি ৪টি ফ্ল্যাটের গড় মূল্য অন্তত ৮ কোটি টাকা। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি অন্তত ৫০ বিঘা জমির মালিক নূর হোসেন। এরমধ্যে বেশ কিছু সরকারী সম্পত্তিও রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ আঁটি মৌজায় ২ বিঘা জমি, আঁটি মৌজায় ৪২৮ দাগে ৩০ শতাংশ জমি, সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিংয়ের উল্টো পাশে ৪ বিঘা সরকারি জমি, সানারপাড় এলাকায় ৪ বিঘা জমি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি অনেককেই অস্ত্রের মুখে কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করতেন নূর হোসেন। ডেমরা কলেজ সংলগ্ন আফজাল ডকইয়ার্ডে ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪টি জাহাজ তৈরীর অর্ডার দিয়েছিল নূর হোসেন। দু’টি ছিল নূর হোসেনের ভাইয়ের নামে ও অপর দু’টি ছিল তার সহযোগী মতিনের নামে। আফজাল ডকইয়ার্ডের মালিক আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, ৩ মাস পূর্বে ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪টি জাহাজ নির্মাণের অর্ডার দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দু’টি ছিল নূর হোসেনের এক সহোদরের নামে। অপর দু’টি ছিল কুতুবপুরের মতিনের নামে। এর মধ্যে চারটি জাহাজের নির্মাণ কাজই দুই তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ