৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

খানপুর মন্দিরে ১২৫ বছর পূর্তিতে দুর্গাপূজায় নানা আয়োজন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার


খানপুর মন্দিরে ১২৫ বছর পূর্তিতে দুর্গাপূজায় নানা আয়োজন

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার শ্রী শ্রী সিদ্ধিগোপাল আখড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির ১২৫ পূর্তি উপলক্ষ্যে ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে সুউচ্চ দৃষ্টিনন্দন ফটক। শুধু তাই নয় সপ্তমী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত পুষ্পাঞ্জলী, প্রসাদ বিতরণ সহ প্রতিমা, চিত্রশিল্পীদের কারুকাজ, রোড লাইটিং, ধর্মীয় শো আয়োজন করা হয়েছে।’

২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে সরেজমিনে খানপুর শ্রী শ্রী সিদ্ধিগোপাল আখড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রতিমার রঙ করা শেষ। এখন বস্ত্র দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে। এদিকে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চিত্রশিল্পী যারা। শুধু তাই নয় পূজা মণ্ডপেও চলেচ্ছে বাশ ও কাঠের ফ্রেম তৈরি করা কাজ। কিন্তু শেষ হয়ে গেছে রোড লাইটিং। তবে এখন কাজ চলচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সুউচ্চ ফটকের। রঙ বেরঙের কাপড় ও চিত্র দিয়ে সাজানো হচ্ছে ফটকটি। ফটকের জন্যই শিব, স্বরসতী, লক্ষী, নারায়ণের চিত্রের কাজ চলছে।

সিদ্ধিগোপাল আখড়ায় চিত্রশিল্পী হরিপদ দাস বলেন, ‘গত ১ সপ্তাহ ধরে ১২ থেকে ১৩ জন মিলে কাজ করে যাচ্ছি। এখনও কাজ শেষ হয়নি। নিখুঁত চিত্রকর্মে সাজানো হবে ফটক ও মণ্ডপের ভিতর বাহির। দেব দেবতার ওইসব চিত্রকর্মই ভক্ত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কারবে।’

তিনি আরো বলেন, বিগত ৩৫ বছর ধরে চিত্রকর্ম করি। কিন্তু এ মন্দিরে গত ৩ বছর ধরে বিভিন্ন চিত্রকর্মের কাজ করছি। যার ভক্তদর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

সিদ্ধিগোপাল আখড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা বলেন, ‘এবছর আমাদের কমিটির ১২৫ বছর পূর্তি হবে। এ উপলক্ষে এবছরই বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। যেখানে রাস্তায় উচ্চ ফটক তৈরি করা হচ্ছে, আধুনিক রোড লাইটিং, সাউন্ড, চিত্রকর্ম, ধর্মীয় শো প্রদর্শন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর পূজার খরচ ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তার মধ্যে প্রধান খরচ সুউচ্চ গেট। তাছাড়া ২ লাখ টাকার প্রতিমা, মণ্ডপ সাজসজ্জায় ১ লাখ, রোড লাইটিং, সাউন্ড, ডেকোরেশন সহ আরো দেড় লাখ টাকা খরচ করা হবে। এগুলো ছাড়া ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মায়ের পূজায় বাকি খরচ করা হবে। সেখানে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুস্পাঞ্জলী, প্রসাদ বিতরণ, ভক্তিমূলক সঙ্গি, আরধনা করা হবে।’

পূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এতো কিছুর আয়োজন করা হলেও পূজা ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই করা হয়। ধর্মীয় সব কিছু মেনে পূজা অর্চনা করায় ইচ্ছা থাকলেও আমরা সব কিছু করতে পারি না। ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিকের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তদের পছন্দ হলেই পূজা কমিটির স্বার্থকতা।’

মন্দিরের সভাপতি মুসলিম হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হিন্দু মুসলিম নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। দুর্গা পূজা, কালি পূজা আমরা সবাই মিলে উদযাপন করে থাকি। আমাদের সভাপতি হাজী মো. মঞ্জুর হোসেন ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে এ পূজা কমিটিতে আছেন। আগে কালীপূজা কমিটির সভাপতি ছিলেন সেখান থেকে এখন গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে তিনিই সভাপতি আছেন। আমরা খুব ভালো ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা করে আসছি।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ