৮ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা হতভাগিনীর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:২৩ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৭ শনিবার


নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা হতভাগিনীর

১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ সদর তথা জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় এক নারীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে। বারান্দার স্যাতস্যাতে মেঝেতে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে তাঁর চিকিৎসা সেবা। পরিবেশ এতটাই নোংরা যে আগুন্তকদের নাকে রুমাল চেপে চলাচফেরা করতে হলেও দিব্যি শুয়ে আছেন ওই নারী। কে কে বা কারা হাসপাতালে ফেলে রাখার পরেই ওই স্থানটিতে কোনমতে ঠাঁই হয় তাঁর।

২৬ আগস্ট শনিবার দুপুরে সরেজমিনে শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল হিসাবে পরিচিত) নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যাওয়ার র‌্যাম সিড়ির পাশে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইনচার্জ জালাল আহমেদ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা ৭০ বছর বয়সী নারীকে হাসপাতালের মূল গেইট এর সামনে ফেলে রেখে যায়। পরদিন বুধবার সকালে কাজে আসলে ওই বৃদ্ধার কান্না শুনে সবাই এগিয়ে যায়। তখন তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার বাম হাতে ঘা হয়ে পঁচন ধরেছে। মাংসে পোকা ধরে গেছে। যার জন্য ড্রেসিং করে দেওয়া হয়েছে। পরে আরএমওকে (আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার) বলে হাসপাতালে অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি নেওয়া হয়। সেই থেকে গত ৪দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় আছে।’

বৃদ্ধার দেখা শোনার দায়িত্ব থাকা ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স হোসনে আরা বলেন, ‘প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা পরপর ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। হাতের ঘা শুকানোর জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। হাতে ড্রেসিং করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর দুইদিন ধরে কথা বলতে পারছে। তাও শুধু নাম বলেছেন ‘আমেনা বেগম’। আরও কথা বললেও তা বুঝা যাচ্ছে না। পরিবার বা আত্মীয় স্বজন কারো কোন কিছু বলতে পারছে না।’

হোসনে আরা বলেন, ‘বিছানায় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু কোন ভাবেই সে বিছানায় থাকে না। সকালেও কয়েকজন নার্স মিলে তাকে বিছানায় উঠিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কখন সে নেমে গেছে বলতে পারছি না। সে ঠিকভাবে খাবার খায় না। অনেক কষ্ট করে ওষুধ খাওয়াতে হয়। মুখে ওষুধ নিয়েও ফেলে দেয়। আর এখানে বাথরুম করে তাই দুর্গন্ধ। তাই কেউ কাছে যেতে চায় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন মানুষ দরকার যিনি সার্বক্ষনিক দেখাশোনা করবে। ভালো ভাবে খাওয়াবে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করবে। তাছাড়া ওনার হাতে পঁচন ধরে গেছে। এ চিকিৎসার জন্য সার্জারী বিভাগে রেখে চিকিৎসা করলে দ্রুত সুস্থ্য হয়ে যাবে।

১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বৃদ্ধা খুব অসুস্থ্য ছিলেন। যার কারণে অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। নার্সরা দেখাশোনা করছে এবং ওয়ার্ড বয় হাতের ঘাঁয়ের জায়গায় ড্রেসিং করে দিচ্ছে। বৃদ্ধাকে একটা বিছানাও দেয়ে হয়েছে কিন্তু তিনি বিছানায় থাকছেন না। বিছানায় শুয়ে দিলেও তিনি সেখান থেকে নেমে যাচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তাদের বলা আছে তাকে দেখার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগেও এমনিই একজন বৃদ্ধা নারীকে তার সন্তানরা হাসপাতালের সামলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ বৃদ্ধাও এরকম কিছু হতে পারে। তাছাড়াও কেউ হয়তো রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে পৌছে দিয়ে যেতে পারে। সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এখনও এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়নি। বৃদ্ধা কিছুটা সুস্থ্য হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Loading...
Shirt Piece

মানুষ মানুষের জন্য -এর সর্বশেষ