৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ

‘এদের ভালোবাসতেন গাউছুল আযম, এরা রোহিঙ্গা শিশু নয়’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


‘এদের ভালোবাসতেন গাউছুল আযম, এরা রোহিঙ্গা শিশু নয়’

‘‘এরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশু নয়। এরা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় ঘুরে বেড়ানো সুবিধা বঞ্চিত শিশু। নারায়ণগঞ্জে এই অসহায় শিশুদের শুধু একজনই ভালোবাসতেন। আর শত ব্যস্ততায়ও তাদের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করতেন তিনি।’’

ফতুল্লার চাঁদমারী বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে তৈরী করে দিয়েছিলেন ওই শিশুদের জন্য স্বপ্নডানা স্কুল। কয়েক বছর হয় সেই একজন গাউছুল আযম নারায়ণগঞ্জে নেই। এতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা এখন আর সেই স্বপ্নডানায় যায়না। তারা ওই স্কুলের পাশে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট এলাকায় গিয়ে মানুষের ধারে ধারে হাত পেতে ভিক্ষা করেন।

সেই গাউছুল আযম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। পরে পদন্নতি পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) হিসেবেও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি থাকাকালীন সময় স্বপ্নডানা স্কুলটিকে উন্নত ও মানসম্মত করে তুলেছিলেন। এস্কুলে শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সের নারী পুরুষরাও লেখা পড়া শিখছেন। বর্তমানে স্কুলটি পরিচালনার জন্য কেউ নেই। তবে মাঝে মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া খোজ খবর নেয় বলে জানাযায়।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা জানান, স্কুলে যেতে ভালো লাগেনা। সকালে স্কুলে গিয়ে বসে থাকি। কেউ খাবার দেয় না। তাই কোর্টে গিয়ে মানুষের ধারে ধারে ঘুরলে খাবার পাওয়া যায়।

সোনারগাঁও উপজেলা থেকে আসা বিন্দু মিয়া জানান, আমি প্রায় সময় কোর্টে আসি। এসব শিশুদের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখি। তাদের বাবা-মা সবই আছে কিন্তু দিনমজুর। শিশুদের আদালতপাড়ায় ছেড়ে দিয়ে তারা কাজ কর্মে ব্যস্ত থাকে।

আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, গাউছুল আযম স্যারের নির্দেশে আনসার সদস্যদের নিয়ে চাঁদমারী বস্তি মাদকমুক্ত করেছিলাম। আবার তার নির্দেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে স্কুল ঘর তৈরী করে সেখানে সারাক্ষন আনসার সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রেখে ছিলাম। আমি গাউছুল আজম স্যারের মত মহতি উদ্যোগী অফিসার দেখিনি। বর্তমানে এমন একটি স্কুল তৈরীতো দূরে থাক, স্বপ্নডানা স্কুলটি রক্ষনা বেক্ষন করার মতও কেউ নেই।

স্থানীয় সংবাদকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুধু রক্ষনা বেক্ষনের কারণে শিশুরা স্বপ্নডানা স্কুল ছেড়ে বাহিরে ভিক্ষা করছে। আরেকজন গাউছুল আযম পাওয়া গেলে নারায়ণগঞ্জের সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা আর বাহিরে ভিক্ষা করবেনা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের এমপি ও বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান সপ্নডানা স্কুলটি উদ্ভোধন করেন। উদ্ভোধনের সময় স্কুল এমপি সেলিম ওসমান প্রতিষ্ঠাতার নামে “গাউছুল আজম কারিগরি ইনস্টিটিউট” নাম করনের ঘোষনা দেন। পরে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার অনুরোধে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “স্বপ্নডানা”। স্বপ্নডানা স্কুলে প্রতিদিন শিশুদেরসহ বয়স্ক ও নারীদের পৃথক পৃথক ভাবে পাঠ্য বই, কোরআন শিক্ষা, গণশিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনের বেলায় চলে শিশু ও নারীদের লেখাপড়া, কোরআন শিক্ষা আর সন্ধ্যার পর স্কুলটিতে চলে কর্মজীবি পুরুষদের নিরক্ষর মুক্তসহ গণশিক্ষা কার্যক্রম। শিশুদের লেখাপড়া, কোরআন শিক্ষা, গণশিক্ষার জন্য সেচ্ছাসেবী শিক্ষক রাখা হয়ে ছিল। বর্তমানে এ স্কুলটিতে লেখা পড়ায় গুরুত্ব না থাকায় শিক্ষারমান আগের মত নেই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মানুষ মানুষের জন্য -এর সর্বশেষ