৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৮ অপরাহ্ণ

মাজার যিয়ারত করেও শামীম ওসমানের সঙ্গে বেঈমানী আনোয়ার ও খোকনের!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৩ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:২৬ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৭ রবিবার


মাজার যিয়ারত করেও শামীম ওসমানের সঙ্গে বেঈমানী আনোয়ার ও খোকনের!

পবিত্র পূণ্যভূমি সিলেটে মাজার যিয়ারত করে এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোন ইস্যুতেই তারা বিচ্ছিন্ন হবেন না। তবে সেই শপথ ভঙ্গ করেছেন বছর না পেরুতেই। নতুন করে আওয়ামী লীগের একটি সহযোগি সংগঠনের কমিটি নিয়েও অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন এ দুইজন যারা কয়েকদিন আগেও শামীম ওসমানের ‘অগ্রদূত’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এতে করে এ দুইজনের ইমেজের প্রশ্ন নিয়েও কথা উঠছে। যদিও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী গত বছরের জুলাইতে বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছিলেন এক বছরের মধ্যেই আবারও শামীম ওসমানের সঙ্গে ‘বেঈমানী’ করবেন আনোয়ার। সেই কথাও ক্রমশ ফলতে শুরু করেছে।

যাদের অস্তিত্ব তৈরি হয়েছে এমপি শামীম ওসমানের বদৌলতেই। আজ তারাই শামীম ওসমানের সঙ্গে বেঈমানী শুরু করেছেন। শামীম ওসমানের ছায়াতলে থেকেই আজকে অ্যাডভোকেট খোকন সাহার মত ওয়ানম্যান খ্যাত নেতা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। স্বপ্ন দেখছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন আনোয়ার হোসেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র আইভীর কাছ থেকে যখন অবহেলিত হয়ে খাদের কিনারে পড়ে গিয়েছিলেন আনোয়ার সেখান থেকে তুলে এনেছিলেন শামীম ওসমানই। কিন্তু তারা দুজনই আজকে বেঈমানদের কাতারে এসেছেন সবার আগে। পল্টি দিতে চাচ্ছেন শামীম ওসমানকে। শামীম ওসমান বিরোধীদের সাথে তলে তলে হাত মিলিয়েছেন বলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে অভিযোগ ওঠেছেন। যদিও বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। তবে কথায় আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। মেয়র পদে আনোয়ারকে সমর্থন দেয়ার আগে মাজার জিয়ারত করে শপথও করানো হয়েছিল তখন গুঞ্জন ছিল।
 
জানা গেছে, শামীম ওসমানকে রাজনীতিতে কোনঠাসা করতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব আইনজীবী মহিলা লীগের কমিটি বাগিয়ে আনেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা। এছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের মত করেই কাজ শুরু করে খোকন সাহা ও আনোয়ার হোসেন। শামীম ওসমান বলয়ের চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে আনোয়ার হোসেন ও খোকন এসব কাজ কর্মের কারণেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে হালুয়া রুটি খাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন খোকন সাহা। জেলায় শামীম ওসমান বিরোধী হিসেবে এক নেত্রীর সঙ্গে গোপন আঁতাত করে শামীম ওসমানের রাজনীতিতে ধস নামানোর পায়তারা করছেন তারা। এমনটাই যখন বুঝতে পেরেছে শামীম ওসমান তখন জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের নতুন কমিটি করিয়ে নিয়ে আসেন। যে কারনে শামীম ওসমানকে বাহবা দিয়েছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

শামীম ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীরা বলেছেন, খোকন সাহা শুধুমাত্র শামীম ওসমানের বন্ধু হওয়ার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রনে দিয়েছিলেন। শামীম ওসমান খোকন সাহার মাথায় হাত রাখার কারণেই আদালতপাড়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করে এবং সেই সঙ্গে আইন পেশায় সুবিধা নিয়ে অনেক সুবিধে গ্রহণ করেছেন খোকন সাহা। সেই সঙ্গে আলোচিত সাত খুন মামলায় খুনীদের পক্ষও নিয়েছেন তিনি। প্রধান আসামী নরঘাতক নূর হোসেনের আইনজীবী ছিলেন তিনি। দশজন কর্মী খোকন সাহার ব্যক্তিগতভাবে নেই। কিন্তু শামীম ওসমান খোকন সাহাকে ছায়া দিয়ে বুকে টেনে নিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি থেকে পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বানিয়েছেন শামীম ওসমান। শামীম ওসমান যখন দেশের বাহিরে ছিলেন তখন এ খোকন সাহা ভোল পাল্টে শামীম ওসমান বিরোধী এক নেত্রী মা সম্ভোধনও করতেন। আজকে সেই খোকন সাহা তার মায়ের ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছেন। তবে এখন শামীম ওসমানের বিশাল কর্মী বাহিনী সুযোগের অপেক্ষায় এ দুজন নেতাকে যে কোন সময় নাজেহাল করে ছাড়বেন। কর্মীরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে যা ফেসবুকেও প্রচারিত হয়েছে। বেঈমানদের নাজেহাল করতে শামীম ওসমানের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে থাকবে না বলেও ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্যে ওঠে এসেছে।
 
সূত্রমতে, শামীম ওসমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। মুলত শামীম ওসমানের এরা রাজনৈতিক বন্ধুু সহযোদ্ধা সহযোগী এবং পরামর্শক হিসেবেও কাজ করে আসছেন। এদের ছাড়াও শামীম ওসমানের কাছের লোক হিসেবে কাজ করে আসছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এমএ রশিদ ভূইয়া, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন। তবে এদের ছাড়াও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি যাকে শামীম ওসমান গুরু হিসেবে ভাষ্য দেন সেই আনোয়ার হোসেন কখনও এদিকে কখনও সেদিকে চলে গেছেন।
 
সম্প্রতি শামীম ওসমানের বন্ধু খোকন সাহার বিজ্ঞাপন একটি স্থানীয় পত্রিকায় দেখে আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন শামীম ওসমান। কারণ ওই পত্রিকাটি নিয়ে শামীম ওসমান প্রায় সময়ই বিভিন্ন সংবাদের সমালোচনা করে আসছেন। মুলত নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই শামীম ওসমানের বন্ধুদের মধ্যে ফাটল শুরু হয়। বিশেষ করে খোকন সাহা ও শহীদ বাদলের মধ্যে বিরোধটি ছিল সম্প্রতি আলোচনায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বন্দরের মছাপুর ইউনিয়ন এলাকায় মহানগর আওয়ামীলীগের কর্মীর সভার মহানগর আওয়ামীলীগ ও জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিষয় নিয়ে শহীদ বাদলের কর্মী আলমগীর হোসেন খোকন সাহার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে জাতীয় পত্রিকার ভিতরে লিফলেট বিলি করানো হয়। এর জন্য শহীদ বাদলকে দায়ী করেন খোকন সাহা। যদিও পরে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্যে মিলিয়ে দেন নেতারা। কিন্তু বিরোধের বীজ বপন শুরু হয়ে যায়। এর পর খোকন সাহা নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা দিলে শহীদ বাদলে বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। এ আসন নিয়ে দুজনের মধ্যে বেশ লড়াই শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এদিকে জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের আগের কমিটির নেত্রীরা বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। শামীম ওসমানের মুখের উপর মহিলা নেত্রীদের এমন চ্যালেঞ্জের পিছনে ইন্ধন রয়েছে ওই দুজন নেতার। এমনটা মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ