৯ শ্রাবণ ১৪২৪, সোমবার ২৪ জুলাই ২০১৭ , ২:৩৫ অপরাহ্ণ

diamond world

বিএনপির ৭ নেতা টার্গেট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৩ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:২৪ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার


বিএনপির ৭ নেতা টার্গেট

নারায়ণগঞ্জে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ৭ নেতাকে টার্গেট করে বিশেষ একটি এজেন্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। জেলা বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের একটি সিন্ডিকেট কয়েক দফা বৈঠক করে ৭জন নেতাকে টার্গেট করে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন থেকে সরে রাখা ও রাজনীতিতে যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে প্রয়াস চলছে।

তবে সে গোপন তথ্যটিও ইতোমধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে। ওই সিন্ডিকেটেই এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। অচিরেই সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যকার মোবাইলে কথোপকথনের বিষয়গুলোও ক্রমশ ফাঁস হচ্ছে।

বিএনপির ওই সূত্রটি জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানামুখী তৎপরতা। পরে কমিটি নিয়ে বিরুদ্ধচারণ ও তলে তলে বিরোধীতার কারণে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন বাগানো থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধকতা করতে পারে এমন লোকজনদের শায়েস্তা করতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। শহরের ব্যস্ততম একটি মার্কেটের পাশের ভবন সহ রাজধানীর মতিঝিল ও ফতুল্লা এলাকাতে এখন পর্যন্ত ৬টি সভা হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, তাদের আপাতত টার্গেটে আছে ৭জন নেতা। হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি ও শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু।

সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য জানান, আগামীতে ফতুল্লা এলাকাতে যাতে মনিরুল আলম সেন্টু ও মোহাম্মদ আলী যাতে কোন ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বক্তব্য রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য সেখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহআলম ও তার পোষ্যদেরও সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করতেই কুতুবপুরের ইউনিয়ন পর্যায়ের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছেন শাহআলম। তাছাড়া গিয়াসউদ্দিন এখন রাজনীতিকে বেশ সক্রিয়। এটাও শাহআলমের জন্য গাত্রদাহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রূপগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দুইজনের একজন কাজী মনিরুজ্জামান জেলা বিএনপির সভাপতি। অপরজন কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। সেখানে কাজী মনিরুজ্জামান চাচ্ছেন না কোনভাবেই দিপু দাঁড়িয়ে থাকুক। সেজন্য একটি গ্রুপ দিয়ে দিপুকে শায়েস্তা করার চেষ্টা চলছে। যে কোনভাবে যাতে রাজনীতিতেও দিপু দাঁড়াতে না পারে সেজন্য চলছে কাজী মনির গ্রুপের অপতৎপরতার।

আড়াইহাজারে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বেশ সক্রিয় ও জেলাতেও তিনি বেশ প্রভাবশালী। ঈদের পর আড়াইহাজারে তাঁর বাড়িতে পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল, জেলার সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগরের মনিরুল ইসলাম সজল, সেচ্ছাসেবক দলের রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী সহ অনেকেই ছিলেন। ওইদিন তারা আজাদকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ‘অভিভাবক’ হিসেবেই আখ্যা দেন। তাছাড়া স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতেও আজাদের রয়েছে প্রভাব যদিও তিনি কেন্দ্রীয় নেতা। মূলত আজাদের মনোনয়ন ও বিএনপিতে প্রভাবের কারণেই একটি গ্রুপ তাকে নিয়ে নানা ধরনের কুটকৌশল করছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপিতে পদ না থাকলেও তৈমূর আলম খন্দকার বেশ সক্রিয়। এটাও মেনে নিতে পারছেন  না কাজী মনির ও শাহআলম। একই অবস্থা মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের জন্য। সে কারণেই তারা সিন্ডিকেট করে তৈমূরকে দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিএনপির ওই সিন্ডিকেটের একটি সূত্র জানান, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু। একই ব্যক্তি পরে আবার আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। কথা বলেছেন সেন্টুর বিরুদ্ধেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২ কোটি টাকার ইস্যু নিয়ে বেশ কজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি জরুরী সভা আহ্বান করেন। কালিরবাজার এলাকায় ওই সভায় সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর মধ্যে এমন বিষয়টিকে দ্বন্ধ হিসেবে দেখে দুজনকে মিলিয়ে দেয়ার কথা জানান। কিন্তু টিপুুর দেয়া এমন একটি তথ্যে বিএনপির যে ধরনের বদনাম হয়েছে তার বিচার হয়নি। কর্মীরা বলছেন, টিপু মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাখাওয়াত সিনিয়র সহ-সভাপতি। তাদের দুজনকে দল থেকে শোকজ করা উচিত ছিল। টিপুর কাছে যদি প্রমান থেকে সেটার জন্য শোকজ করে জবাব চাওয়া উচিত ছিল। আর টিপু মিথ্যা বক্তব্য দিলে সেটার জন্য শাস্তি দেয়ার দরকার ছিল। আর যদি টিপুর বক্তব্যের সত্যতা প্রমান দিলে ২ কোটি টাকা নিয়েছে প্রমানিত হয় তাহলে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত ছিল। কিন্তু মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বিষয়টি দ্রুত জরুরী সভার নামে ধামাচাপা দেয়। কিন্তু বিএনপির দলের যে ধরনের ক্ষতি করলো তারা সেটার জন্য কোন একজন অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। তাহলে কি সর্ষের ভিতরে ভূত।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ