৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১২:২৩ অপরাহ্ণ

শক্তিশালী কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দুর্বল নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ


পলিটিক্যাল স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৯ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ১১:০৬ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার


শক্তিশালী কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দুর্বল নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ

গত ৫ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বড় ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কিন্তু সে দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিতর্কের উর্ধ্বে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে পারছে না। এসব সাংগঠনিক নেতারা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিচ্ছিন্ন। এখানকার অনেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে অনেকেরই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। যদিও ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে দুজন ঠাঁই পেলেও শীর্ষ কোন পদে তারা আসতে পারেনি।

জানা গেছে, এক সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এমপি শামীম ওসমান ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ছিলেন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। যদিও এর আগে বেশকজন নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন ছোট ছোট পদে ছিলেন। এরপর আর নারায়ণগঞ্জ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যদিও উপ কমিটির একটি পদে রয়েছেন উদীয়মান ছাত্রলীগ নেতা তামিম ইসলাম জয় নামে একজন।

প্রায় ৬ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় একজন সাংস্কৃতিক মনা ও আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাফায়াত আলম সানিকে। একজন ভদ্র ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেই তিনি এ জেলায় পরিচিত পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে খুব কম বয়সে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসা মিজানুর রহমান সুজনকে। সুজন ছাত্রলীগের কমিটিতে আসার আগেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়ে সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন। এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছিলেন আরেকজন সাংগঠনিক নেতা রাজীব দাস। শুরুতে এরা তিন জন ছিলেন ছাত্রলীগের উজ্জল নক্ষত্র।

পরবর্তীতে শক্তিশালী জেলা ছাত্রলীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এ কমিটি। এছাড়াও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আরো পুরোদমে সক্রিয় হয় যুগ্ম সম্পাদক পদে আজিজুর রহমান, সহ-সভাপতি পদে মিনহাজুল ইসলাম রিয়াদ, আলী আকবর, সাংগঠনিক আতাউর রহমান নান্নুর মত সাংগঠনিক নেতারা। তাদের নেতৃত্বে কর্মী পর্যায়ের দুএকজনের বিরুদ্ধে ছোট খাটো অভিযোগ ওঠলেও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন অভিযোগ ওঠেনি। এদের ছাড়াও আরো বেশকজন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছাত্রলীগ নেতা রয়েছে

এরিমধ্যে যোগ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ। এতে আহ্বায়ক করা হয় আরেকজন শিক্ষিত ভদ্র হাবিবুর রহমান রিয়াদকে। সঙ্গে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম আহমেদ তপন, মিনহাজুল কাদির মিমন ও হাসনাত রহমান বিন্দুও। এরাও এগিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ড কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করে আসছেন। এখনও মহানগর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন অভিযোগ ওঠেনি।

একইভাবে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ঝুট সন্ত্রাসী, দখলবাজি, বালু সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসা সহ এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়ানোর খবর পাওয়া যায়নি। জেলা ছাত্রলীগের অনেক শীর্ষ নেতারা রাজনীতি করছেন তাদের পরিবারের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে। কেউবা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সহযোগীতায় রাজনৈতিক কর্মকা- করে যাচ্ছেন। এসব নেতারা সবাই শিক্ষিত এবং শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। যে কারনে জেলা ছাত্রলীগের অনেক শীর্ষ নেতাদের পকেটে দশ টাকাও মাঝে মধ্যে থাকেনা। তাদের মধ্যে হতাশা দেখা গেলেও এবং দুর্বিষহভাবে ছাত্র রাজনীতি করলেও তারা দৃশ্যমান বিতর্কিত কর্মকান্ডে এখনো জড়ায়নি। আর মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে নেই কোন সন্ত্রাসী হানাহানি। নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন রিয়াদ। সেই সঙ্গে নিয়মিত গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা করা হচ্ছে। এতে এগিয়ে এসেছেন আরেক এতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সদস্য অয়ন ওসমান।

এসব ছাত্রলীগ নেতারা সচ্চ রাজনীতি করে আসলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিমুখী। কেন্দ্রের রাজনীতিতে তাদের দেখা যায় কম। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচিতে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগের যোগদান দেখা যায় উল্ল্যেখযোগ্য। এছাড়াও ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নিয়মিত বিশাল বিশাল শোডাউন দিতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে। যা দেশের অন্য জেলার চেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য।

নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিগুলোতেও নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের ব্যাপক ভূমিকা দেখা যায়। তবে বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারছেন না। এ নিয়ে কর্মীদের আক্ষেপও থাকতে পারে। কর্মীরা মনে করছেন নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ থেকে কোন নেতাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নিয়ে পুরস্কৃত করা উচিত।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ