৮ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

সবচেয়ে বেশী প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০০ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৭ রবিবার


সবচেয়ে বেশী প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রতিদ্বন্দ্বী নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে। আর এই আসনটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলে বিরাজ করছে চরম কোন্দল আর বিশৃঙ্খলা। চলছে পাল্টাপাল্টি বিষোদাগারও।

বর্তমানে এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে আসীন রয়েছেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সেলিম ওসমান। আর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দু’জন আলোচনায় থাকলেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন অর্ধডজনের বেশী। তবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই বর্তমানে বন্দর এলাকাকেই টার্গেট করে নিজেদের আগাম প্রচারণার ছক আকছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীতেও বন্দর এলাকাকেই তারা বেছে নিয়েছিলেন শোডাউনের জন্য।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আকরাম ৫৮ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ৪৩ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়েছিলেন।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ৭৩ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম ৬৩ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের (শহর ও বন্দর) আসনে  ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৩ জন ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ১১ হাজার ৯০৯ জন ভোট দেন। এর মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের প্রার্থী নাসিম ওসমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে না ভোট পড়েছিল ৫ হাজার ৫৫৭ জন।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করলে উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নেন সেলিম ওসমান। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে কোন প্রার্থী দেয়া হয়নি। ওই নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নেয়নি। তবে আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক এমপি এসএম আকরাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরাম পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে বন্দরেই বেশী সময় দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তার ব্যাক্তিগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডেরও বেশীরভাগ বন্দর এলাকাকে ঘিরে। জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাকে বন্দর এলাকাতেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেশী দেখা গেছে। তিনি ইতিমধ্যে অর্ধশত কোটি টাকার ন্যায় বন্দর এলাকাতেই ব্যায় করেছেন বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সবচেয়ে বেশী। এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা যুবলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বন্দর এলাকাতেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশী সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

অপরদিকে অত্র আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তারাও দু’জন শহর এলাকার পাশাপাশি বন্দরেও শোডাউন করছেন। এর মধ্যে গত ১১ আগষ্ট বন্দরের কলাগাছিয়া এলাকায় সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাখাওয়াত গ্রুপের গাড়ি বহর আটকে দেয়ার অভিযোগ উঠে কালাম সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী মাত্র দেড় বছর। আর অত্র আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীরভাগই রাজনীতি করেন শহরকেন্দ্রীক। তাদের পরিচিত শহর এলাকাতেই বেশী। তদুপরি নারায়ণগঞ্জ শহরের তুলনায় বন্দর এলাকাতে সিটির ৯টি ওয়ার্ড ছাড়াও রয়েছে ৫টি ইউনিয়ন। যেকারণে বন্দর এলাকাকেই টার্গেট করে মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Loading...
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ