৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

৭ খুনে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন নূর হোসেন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৮ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৭ বুধবার


৭ খুনে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের নরপিচাশ খ্যাত নরঘাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নূর হোসেন। আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে সাত খুনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে হাই কোর্ট বলেছে, তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে তিনি ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সাতজনকে অপহরণের পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় ভেসে উঠে লাশগুলো। পরে দেশ ছাড়ে নূর হোসেন। পরে ওই বছরের ১৪ জুন রাতে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের অদূরে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। পরে ওই বছরের ১৮ আগস্ট নূর হোসেন, ওহাদুজ্জামান শামীম ও খান সুমনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বারাসাত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় বাগুইআটি থানা পুলিশ। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দমদম কারাগার কর্তৃপক্ষ নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। ১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে উপস্থাপন করা হয় নূর হোসেনকে।

মঙ্গলবার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট বলেছে, “আসামিরা যে ধরনের অপরাধ করেছে, যদি তারা ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগবে।”

জজ আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে আসামি নূর হোসেনের দ্বন্দ্বেরর জেরেই সাত খুনের ঘটনা ঘটে। “এটি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর কিছু সংখ্যক দুস্কৃতকারী ও কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত ঘটনা। এখানে নূর হোসেন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও গডফাদার। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। একজন প্যানেল মেয়র নজরুলকে হত্যা করতে গিয়ে নিরীহ ছয়জন মানুষ এই সকল র‌্যাব ও নূর হোসেন বাহিনীর দ্বারা নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন।”

আর হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “নূর হোসেনের সঙ্গে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক মেজর আরিফ হোসেন ও সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানার অবৈধ অর্থিক লেনদেন হয়েছিল। তবে এই নূর হোসনই হল এ হত্যাকা-েরর মাস্টারমাইন্ড। র‌্যাব রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বিশেষ বাহিনী। তাদের দায়িত্ব হল জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু এ বাহিনীর কিছু সদস্য নৃসংশ হত্যাকা-ে জড়িয়ে পরে অপরাধ ঘটিয়েছে। ফলে তাদের বিচার হয়েছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল র‌্যাব সদস্যের কারণে এ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে না। তাদের সন্ত্রাসবিরোধী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ধূলিস্যাৎ হতে পারে না। কিন্তু এই বাহিনীর কতিপয় সদস্যের অপরাধবৃত্তি মানব সভ্যতায় আতঙ্কজনক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তারা এতটাই পাশবিকতা দেখিয়েছে, যা ছিল নিষ্ঠুরতার সর্বোচ্চ প্রকাশ।” র‌্যাব হেফাজতে সাতজনকে হত্যার বিষয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তাদের মৃত্যু যন্ত্রণা ছিল ‘ভয়বহ, অচিন্তনীয়। র‌্যাব সদস্যরা এতটাই নির্দয় ছিল যে, হত্যার পর তাদের তলপেট ছুরি দিয়ে কেটে বস্তাবন্দি করে তার সঙ্গে ১০টি করে ইট বেঁধে দেওয়া হয়, যেন বস্তাবন্দি লাশ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে উদ্ধৃত করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সুপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। তাদের নৃসংশতা প্রমাণ করে, মৃতদেহের উপরও তারা কতটা নির্দয় ছিল।

১১ জনের সাজা কমানোর বিষয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা হয়েছে। কিন্তু তারা যে অপরাধ করেছে, তাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা হত কঠোর শাস্তি।”

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ