৫ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে শামীম ওসমানে ফিরছেন তাঁরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৩ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০২:৩০ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


অবশেষে শামীম ওসমানে ফিরছেন তাঁরা

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের কাছেই আবার ফিরতে যাচ্ছেন মান অভিমানে দূরে সরে যাওয়া কয়েকজন নেতা। শামীম ওসমানের ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ওইসব নেতারা ইতোমধ্যে নানা কারণে দূরে সরে গেলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের দেখা যাবে একই কাঁতারে।

ইতোমধ্যে ওই প্রক্রিয়াতে বন্ধু আনিসুর রহমান দিপুর সঙ্গে সম্পর্ক নমনীয় হয়েছে বলে জানা গেছে। বিনিময়ে জেলা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি পদে থাকতে চান আনিসুর রহমান দিপু। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত না হলেও ইতোমধ্যে আনিসুর রহমান দিপুকে জেলা আওয়ামীলীগের একটি অনুষ্ঠানে আরেক বন্ধু অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলের সঙ্গে পাশাপাশি দেখা গেছে।

তবে সবচেয়ে নাখোশ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট খোকন সাহাও বাগে আসতে শুরু করেছেন। ভিতরে ভিতরে সকলের মধ্যে সকলের কথাবার্তা চলছে। যদি ওই প্রক্রিয়া সফল হয় তাহলে যে কোন সময় দেখা যাবে ওই ৫ বন্ধুকে এক সঙ্গে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি একেএম শামীম ওসমানের দীর্র্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা ও বন্ধু জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন শীল ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। শামীম ওসমানের এসব বন্ধুরা শামীম ওসমানের শুধু সহযোদ্ধাই ছিলেন না তারা পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও শামীম ওসমানের রাজনৈতিক গুরু রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও।

সম্প্রতি আনিসুর রহমান দিপুর সঙ্গে শামীম ওসমানের সম্পর্র্কের দূরুত্ব কমে আসছে। তবে দিপু চান জেলা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি হতে। সম্প্রতি আদালতপাড়ায় দিপুর বাইরে আরেকটি বলয় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করার পর দিপুুও শামীম ওসমান বলয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন।

এদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন ও পাল্টা কমিটি গঠন নিয়ে শামীম ওসমানের সঙ্গে দূরুত্ব সৃষ্টি হয় শামীম ওসমানের গুরু মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বন্ধু খোকন সাহার। প্রথম কমিটিতে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা সুপারিশ করে কমিটি নিয়ে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শামীম ওসমান পাল্টা সুপারিশ করে কমিটি নিয়ে আসেন। এ নিয়ে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা নাখোশ হন। এসব ঘটনায় আরো দূরুত্ব বেড়ে যায়। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে থাকে।

অন্যদিকে বন্দর থানার মুছাপুর এলাকায় মহানগর আওয়ামীলীগের কর্মী সভা হলে শহীদ বাদল প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। শহীদ বাদলের কর্মী আলমগীরকে দিয়ে জাতীয় পত্রিকার ভিতরে খোকন সাহার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে লিফলেট বিলি করানো হয়। ওই ঘটনায় প্রকাশ্যে খোকন সাহা শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। যদিও একটি সভায় তাদের দুজনকে মিলিয়ে দেয়া হয়। তার দুদিন পর খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে নেতাকর্মীদের জানান। এ নিয়ে পরের দিন একটি সভায় শহীদ বাদল খোকন সাহার বক্তব্যের বিরোধীতা করে বক্তব্য রাখেন। তবে শহীদ বাদল শামীম ওসমানের পক্ষে থাকলেও বাদল নিয়মিত বক্তব্যে বলছেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। কিন্তু এ আসনে শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমান এমপি রয়েছেন। ফলে শহীদ বাদলের অবস্থানটাও সুস্পষ্ট নয়।

তবুও অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে কোন সময় তাদের একসাথে আবার দেখা যাবে। যেখানে থাকবেন গুরু আনোয়ার হোসেনও।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ