৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ কালামকে নিয়ে আতংকিত সোনারগাঁবাসী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ০২:৩০ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ কালামকে নিয়ে আতংকিত সোনারগাঁবাসী

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে সবচেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। এ দাপটের মূল অস্ত্র ছিল সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত নূর হোসেন। নির্বাচনে প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের পক্ষে সোনারগাঁয়ে নূর হোসেনের অস্ত্রের মহড়া ছিল চোখে পরার মতই। কিন্তু তখন নূর হোসেনের অস্ত্রের মহড়ার পাহাড়া দিয়েছিল তৎকালীন সোনারগাঁও থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা এমন খবরও এলাকাতে চাউর রয়েছে। এমনকি সাদিপুর এলাকায় একজন প্রতিবন্ধি অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেনের পক্ষে নূর হোসেনের সামনে শ্লোগান তোলায় ওই পাগলের কপালেও অস্ত্র ঠেকিয়েছিল নূর হোসেন।

সোনারগাঁয়ে নূর হোসেনের প্রভাব নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেও প্রতিকার পায়নি অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তাই সোনারগাঁয়ের মানুষ মনে করেন আজ সেই নূর হোসেনের প্রেতাত্মা সোনারগাঁয়ের মাহফুজুর রহমান কালাম।

জানাগেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশি মাহফুজুর রহমান কালাম। মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে কালাম সোনারগাঁয়ে কাজও করে যাচ্ছেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়েও নূর হোসেনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন আদালত। সাত খুনের ঘটনার পর কালাম কিছুদিন আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। কারণ নূর হোসেনের মাদকের চালান আসতো কুমিল্লা হয়ে সোনারগাঁও টোল প্লাজা এলাকা দিয়ে। আর এ এলাকার দায়িত্ব ছিলেন কালামের পর্যবেক্ষনে তার লোকজন। এতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছিল ওই সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সন্ত্রাসী নূরে আলম খান যিনি জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছেন। সোনারগাঁও দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের মাদকের চালান নিরাপদে আসতে কাজ করার লক্ষ্যেই নূরে আলম খানকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বানাতে কাজ করেছিলেন কালাম ও নূর হোসেন।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন মোশারফ হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন কালাম। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচিত হন। নির্বাচনে নিয়মিত নূর হোসেন সোনারগাঁয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কালামের পক্ষে ভোট চেয়েছিল। নূর হোসেনের সঙ্গে থাকতো দুটা অস্ত্র ও তার আরো ৭/১০ জন সহযোগিতার হাতে বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যেতো। অস্ত্রের মহড়ার ভয় দেখিয়ে কালামের পক্ষে ভোট চাইতো নূর হোসেন। ওই সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নূর হোসেনের অস্ত্রের মহড়াকেই পাহাড়া দিত তৎকালীন থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। নূর হোসেন না থাকায় সোনারগাঁয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছেন কালাম। যদিও ইতোমধ্যে কালাম বিশাল বাহিনী তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে তার লোকজনদের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে মাদক। কালাম মনোনয়ন পেয়ে এমপি হলে সোনারগাঁয়ের ঘরে ঘরে পাওয়া যাবে মাদক এবং ব্যাপক হারে চলবে দখলবাজি। সেই সঙ্গে তার ইতোমধ্যে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব চলবে।

সোনারগাঁয়ের মানুষ জানিয়েছেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। ওই সময় বিশাল দুটি এলাকার এমপি হয়েও কায়সার হাসনাত পুরো নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দেয় ওই সময় তারই প্রধান সেনাপতি মাহফুজুর রহমান কালামের হাতে। কালাম ওই সময় থেকেই নুর হোসেনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে কুমিল্লা হয়ে সোনারগাঁও টোল প্লাজা দিয়ে যাতে সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের মাদক প্রবেশ করতে পারে সেজন্য কাজ করেন কালাম। একাধিকবার কালামের লোকজন মাদক সহ গ্রেফতার তাদের ছাড়াতে কুমিল্লায় গিয়েছিলেন কালাম ও নুরে আলম খান। অন্যদিকে সাত খুনের পর নুরে আলম খানও পালিয়ে যায়। ঢাকায় নূরে আলম খানের গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। সাত খুনের মামলার শেষের দিকে আবারো ফিরে আসেন নূরে আলম খান। এখন নুর হোসেনের সেই বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছে কালাম। যে কারণে সোনারগাঁয়ের মানুষ কালামকে নিয়ে ভীত এবং তারা মনে করছেন নুর হোসেনের প্রেতাত্মা কালাম। সোনারগাঁয়ে কালাম আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি হলে আরেকজন নূর হোসেন তৈরি হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ