৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ , ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজ দলে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবুল কালাম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:২১ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নিজ দলে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবুল কালাম

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। গেল দুই যুগের বেশী সময়ে তাকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি। তবে এবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মনোনয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন কালাম শিবির। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদেও তৎপরতা ভাবনায় ফেলে দিয়েছে তিনবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে। মনোনয়নের বিষয়ে কালামের ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত ও খোরশেদ।

গত কয়েক মাস ধরেই সাখাওয়াত বেশ আটঘাট বেধে মাঠে নামলেও ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বন্দরে যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোরশেদ যিনি টানা তিনবারের সর্বোচ্চ ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনোয়ন চাওয়া কর্মীদের অধিকার। বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০ সফল করতে আপনাদের সমর্থন পেলে আসন্ন নির্বাচনের তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নিতে চাই। তবে মনোনয়নের লোভে আমরা নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করবো না। কাঁদা ছোড়াছুড়ি করে দলের বদনাম করব না, দলের কাজ করবো। নেত্রী যাকে যোগ্য মনে করবে, যাকে দিবে তার পাশে থাকবো আমরা।

এদিকে বন্দরের ওই অনুষ্ঠান শেষে খোরশেদ নেমে পড়েন আনুষ্ঠানিক প্রচারণায়। গণসংযোগ করেন বিভিন্ন এলাকাতে যেখানে লোকজনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। ওই নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপিকা নাজমা রহমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরই অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আকরামের কাছে পরাজিত হন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়ে এস এম আকরামকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল কালাম। ওয়ান ইলেভেনের পরে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সংস্কারপন্থী হিসেবে অভিযুক্ত হন। ওই সময়ে তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প প্রার্থী দেয়ারও দাবি উঠেছিল। ওইসময়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি বন্দরের জামালউদ্দিন ধানের শীষের প্রতীক পেতে কিছুদিন দৌড়ঝাপ করলেও শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালামই। তবে ওই নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নাসিম ওসমানের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। যেকারণে ওই নির্বাচনে প্রার্থী হননি আবুল কালাম। এরপর ওই বছরে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেয়নি। উপ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য পদে আসীন রয়েছেন জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান।

এদিকে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে একপ্রকার একক প্রার্থীই ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। দুই দশকে এই আসনে তার বিকল্প প্রার্থী তেমন কেউই ছিলনা বললেই চলে। যেকারণে নানান অভিযোগ সত্বেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ছিলেন অনেকই নির্বিঘœ। তবে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পেলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট ভাবিয়ে তুলেছে অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে। কারণ বিগত দুই যুগেরও বেশী সময়ে পাঁচ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তেমন কেউ ছিলনা। মাঝখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নাম শোনা গেলেও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) এই আসন দু’টিতেই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের অবস্থান ছিল। আর তৈমূর পাঁচ আসনের চেয়ে রূপগঞ্জেই প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। এদিকে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পরে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠায় ভাবনায় ফেলে দিয়েছে সাবেক এমপি কালাম ও তার অনুসারীদের। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গেল বছরের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্টিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া বিগত দিনে যারা অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বিরোধী মনোভাবাপন্ন ছিলেন তাদের অনেকেই বর্তমানে সাখাওয়াতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুগামী নেতাকর্মীরা। সাখাওয়াতকে ঠেকাতে সম্প্রতি বন্দরে তার উপরে হামলাও করেছে কালাম সমর্থিতরা। তবে এতেও দমে যাননি সাখাওয়াত। এসকল কারণে সাখাওয়াত ও খোরশেদ বর্তমানে কালামের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ