৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

ঘরকুনো পলিটিশিয়ান কাজী মনির শাহআলম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৫ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ০৮:০৬ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার


ঘরকুনো পলিটিশিয়ান কাজী মনির শাহআলম

তাঁরা দুই জনই শিল্পপতি। রাজপথের আন্দোলনের নেতৃত্বে তাদের দেখা যায়না। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে ও কেন্দ্রের নেতাদের বাসায় বাসায় নাকি তাদের নিয়মিত যেতে দেখা যায়-এমনটা জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

যদিও স্থানীয় রাজনীতিতে দুই জনই ঘরকুনো পলিটিশিয়ান। মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ তাদের দ্বারা হয় না কারণ তাঁরা শিল্পপতি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন তাদের দুই জনের পকেটে। তাঁরা ঘরে বসে নেতৃত্ব দেন আর সাধারণ নেতাকর্মী সমর্থকরা রাজপথে আন্দোলন করেন করেন ও মামলা খায় জেলে যায় পুলিশের মার খায়। শীর্ষ এসব শিল্পপতি নেতারা এসি রুমে আরামে ঘুমায়।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সহ একই সঙ্গে জেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির পদে রয়েছেন। তাঁর রাজনীতির গন্ডি শুধুমাত্র তার বাড়ি ও তার নিজ ফ্যাক্টরী। এছাড়াও তিনি তার বাড়ির সামনেও মানববন্ধনে আসবেন না। বিএনপির পক্ষে কোন মানববন্ধনেও আসেননি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ পর্যন্ত জেলার সাতটি থানার কোথাও তার বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা একটি জিডির খবরও পাওয়া যায়নি। তিনি রাজপথে আন্দোলন করেননি এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে নিষেধ করেন।

তবে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তিনি তাঁর বাড়িতে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া মিটিং করেন। আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি তিনি ঈদ পুনর্মিলনীর রাজনীতি করছেন। তিনি নেতাকর্মীদের কাছে প্রকাশ্যেই বলেন আন্দোলন সংগ্রামের দরকার নেই। সময় হলে মনোনয়ন পাবেন তখন নেতাকর্মীদের ডাকবেন তার পক্ষে কাজ করতে। এখন চুপ করে বসে থাকুন। বিএনপির ডাকা হরতালেও তার ফ্যাক্টরী খোলা রাখা হয়।

একই অবস্থা জেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি মনিরুজ্জামান মনিরের। তিনি বিজেএমইএ এর উদ্যোগে সন্ত্রাস প্রতিরোধ বিষয়ক সভায় উপস্থিত থাকেন। যেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শ্লোগান তোলা হয়। বিএনপিকে বিষোদাগার করা হয়। কাজী মনির এসব সভায় উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ জানান না! কারণ তিনি একজন ব্যবসায়ী।

২০১১ সালে বিএনপির ডাকা হরতালে রূপগঞ্জে তার ফ্যাক্টরী খোলা রাখার কারনে স্থানীয় যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার ফ্যাক্টরীতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। তিনি রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে থাকেন না। মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ তিনি করেন না। তবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরকোণো কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেল। যদিও তিনি মামলায় আসামী হয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে জেলে যেতে হয়নি। একজন শিল্পপতি হলেও বাম রাজনীতি দিয়ে শুরু কাজী মনির কটুচালে পটু। জেলার একজন রাজপথের নেতা তৈমূর আলমকে হটিয়ে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। কেন্দ্র থেকেও এ কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছেন। রাজপথের আন্দোলনে না থাকলেও কাজী মনির এখন জেলা বিএনপির সভাপতি। জেলা বিএনপির কমিটি হওয়ার পর প্রথম সভাটিই করেছিলেন তার ফ্যাক্টরীতে। এরপর তার বাসায় বেশকটি কর্মসূচি করতে দেখা গেল। জেলা বিএনপির সেক্রেটারি থাকাকালীন সময়েও কাজী মনির তার ফ্যাক্টরীতে মিটিং করতেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ