৫ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:১৬ পূর্বাহ্ণ

কঠোর সমালোচনা বিতর্কে বিঁধলো নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:২১ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


কঠোর সমালোচনা বিতর্কে বিঁধলো নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা একটি শক্তপোক্ত সংগঠন হলেও এর কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই পরিষদের সদস্যরাই। শুধু তাই নয় দুর্গাপূজার মতবিনিময় সভায় বক্তার বক্তব্য শেষে ‘খোদা হাফেজ’ বলে সমালোচনা শুরু হলেও তার সঙ্গে মহানগর পরিষদের সেক্রেটারী সহমত পোষণ করায় সংগঠনটির কর্মকান্ডের তীব্র সামালোচনা করেছেন অন্যান্য হিন্দু ভক্তরা।’

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকার রাম কানাই মন্দির প্রাঙ্গণে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল ‘হ-য-ব-র-ল’ অবস্থা।

বক্তাদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এক দুর্গাপূজা আয়োজন ছাড়া তেমন কোন সভা সমাবেশ, প্রতিবাদ, সমাজিক কর্মকান্ডে দেখা যায় না। তাছাড়া জেলা ও মহানগর কমিটি ৩ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি গঠন কিংবা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন আলাপ আলোচনা না থাকায় সদস্যরাও সমালোচনা করেন। এগুলো ছাড়াও পূজা উদযাপন পরিষদের নিজেস্ব কোন কার্যালয়, ফান্ড না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ সদস্যরা।

ওইদিন সকাল ১১টায় মতবিনিময় সভার নির্ধারিত সময় সূচি থাকলেও প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সভার কার্যক্রম শুরু হয়। ৫টি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সেক্রেটারীর পাশাপাশি বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি সেক্রেটারী নিয়ে ওই মতবিনিময় সভার নেই কোন ব্যানার বা অনুষ্ঠান সূচি। কখনো সঞ্চালক কখনো সদস্যরা নিজের ইচ্ছা মতো বক্তব্য রেখে চলেন। তাছাড়া ছিল না কোন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। একে অপরে সমালোচনা করেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া সভার কর্মসূচি শেষ না হতেই প্রসাদ বিতরণ নিয়েও সভার কার্যক্রম অগোছালোভাবে শেষ হয়।’

এর মধ্যে কয়েকজন বক্তা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা, পূজা মন্ডপের সমস্যা, বিসর্জনের ঘাটের সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা, আর্থিক সমস্যা সহ বিভিন্ন শংকার বিষয় উপস্থাপন করেন।

বক্তব্যদের মধ্যে শিশির বলেন, ‘আজ পূজা উদযাপন পরিষদের এতো বড় একটি আয়োজন কিন্তু সেখানে একটি ব্যানার নেই। পূজা উদযাপন পরিষদকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

রণজিত মোদক বলেন, ‘৪শ বছরের পুরানো নারায়ণগঞ্জের কোন ইতিহাস নেই। তাই ১৯৪পূজা মণ্ডপের কমিটির নাম সহ একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হোক। আমরা আনন্দ ও ত্যাগের মাধ্যমে বিজয় দশমী উদযাপন করা হোক। এখানে কোন বাধা নিষেধ না দেওয়া হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এক দূর্গাপূজা ছাড়া আর কোন সময় পূজা কমিটির নেতাবৃন্দকে মিলিত হতে দেখা যায় না। তাই এবার পূজার শেষে পূজা মিলনীর আয়োজন করা হোক। রনজিৎ মোদকের এ বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন প্রায় ৪ থেকে ৫জন বক্তা।’

সোনারগাঁয়ের এক বক্তা বলেন, ‘জেলা পূজা উদযাপন কমিটি কি শুধু পূজা নিয়ে কাজ করে ? না সার্বিক বিষয়ে কাজ করে? এমন একটি অনুষ্ঠানে আরো লোক সমাগম থাকার দরকার ছিল? পূজা উদযাপন কমিটির পূজা নিয়ে থাকে, বারদি লোকনাথ মন্দিরে ছিনতাই হচ্ছে, মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা কমিটির অবনতি হয়েছে, ৫০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে ম্যানেজার রেখেছে। মন্দিরে রুমের জন্য ভাড়া নিচ্ছে। এসব বিষয়ে কারো কোন পদক্ষেপ নেই।’

এসময় মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, ‘ধৈর্য ধরেন ৩১জানুয়ারি পরে ব্যবস্থা করবো। আমার বন্ধু এমপি শামীম ওসমান, বন্ধু এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, ডিসি এসপিকে নিয়ে একটি প্রস্তাবিত উপদেষ্টা কমিটি করা হয় সেটিও হয়নি। আগামীতে আমরা নতুন কমিটি করে সব সমস্যা সমাধান করবো।’

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন,‘পূজা উদযাপন পরিষদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর সময় অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সকলকে মালপুওয়া খাওয়ানো হয়েছে। এসব কিছুরই কোন হিসাব নেই। পূজা উদযাপন পরিষদের আয় ব্যয়ের হিসাব থাকা উচিত।’

হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি গোপী নাথ দাস বলেন,‘ পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি কি চিরকাল থাকে। এ কমিটির মধ্যে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন।’

সোনারগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক লোকনাথ দত্ত বলেন, ‘পাবনা, সিলেট, সহ বিভিন্ন এলাকায় মন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। কিন্তু আমরা কিছু করতে পারি নাই। এমনকি আমরা কোন প্রতিবাদ করি না।’

তপন সাহা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় পূজা উদযাপন পরিষদের কোন অফিস নেই। পরিষদে ৫০ জনের নাম আছে কাজ করে সাতজন এগুলোকে বাদ দেন। কমিটিতে যারা কাজ করে তাদের মূল্যায়ন করুন।’

বিমল দাস বলেন, ‘পূজায় আনন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক। পূজা মানে আনন্দ ও ত্যাগ। এবছর কোন সমস্যা নেই তাই এবছর সাউন্ড বাজিয়ে বিসর্জন দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ বক্তব্যের বিরোধীতা করেছেন এক মাত্র মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখন। তাছাড়া অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন।’

অন্য বক্তাদের সঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দিলীপ কুমার ম-ল। তিনি বলেন, এটা বর্ধিত সভা না বার্ষিক সভা, না পূজার সভা বুঝা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সভার শুরুতে পরিষ্কার হওয়া উচিত। আমাদের নিজেদের আত্ম সমালোচনা করা উচিত। ৩ থেকে ৪ বছর চলছে কমিটি হয়েছে নতুন কমিটি কবে হবে সেই বিষয়ে এ হাউজে কথা বলা উচিত। আমাদের ভুলগুলো ঠিক করতে হবে।’

তবে সকল বক্তার বক্তব্য একই বিরোধীতা করেছেন ‘খোদা হাফেজ’ বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করা মহানগন পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা হতেই পারে। কথা বলতে বলতে মাঝে মধ্যে এ ধরনের কথা চলে আসে। তখন মঞ্চের পিছনের সারিতে বসা সদস্যরা বলেন যে সংগঠনের নেতারা এমন তাদের দিয়ে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। এ সংগঠনের বদনাম করছে এসব নেতারা।’

শিপন সরকার শিখন বক্তব্যে বলেন, ‘গত বছরের পূজার রেজুলেশন শিট আমার হাতে আছে। সময়ের অভাবে আমি সেটা পড়ে শোনাতে পারিনি। আমরা শুধু পূজার সময় কাজ করি না। সহ কাজে সহযোগিতা করি। আমাদের আন্দোলনের ফলে ‘খ’ তফসিল বাতিল করেছে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে সফলতা আছে। তাছাড়া যাদের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা, মন্দিরের সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সকলের জন্য আমরা কাজ করে থাকি। এছাড়াও যাদের পূজা করার মতো অর্থ নেই তাদেরও আমরা সহযোগিতা করি। এটা সত্য পূজা কমিটির কোন ফান্ড নেই। তবে আমরা ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান এনে দেই।

পূজা উদযাপন পরিষদ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪ সালে সম্মেলন করে ২০১৫ সালের নভেম্বর জেলা ও মহানগর কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। তাই এখনও মেয়াদ শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্মেলন দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।’

এদিকে মতবিনিময় সভায় যখন বক্তব্য শুরু হয় তখনই প্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়। শিপন সরকার শিখনের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাস আবার মাইকে উপস্থিত সকলকে কথা না বলতে আহবান জানান। কিন্তু এর মাঝেও কথা চলতে থাকে। এছাড়াও প্রচণ্ড গরমে মাত্র গুটি কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা ও চেয়ার থাকায় অনেকেই সভা শেষ হওয়ার আগেই চলে যান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ধর্ম -এর সর্বশেষ