৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের রাব্বীর ‘ম্যারাডোনা’ দর্শন হলো না


|| সূত্র: প্রথম আলো।

প্রকাশিত : ০৮:১৭ পিএম, ৫ জুলাই ২০১৭ বুধবার


নারায়ণগঞ্জের রাব্বীর ‘ম্যারাডোনা’ দর্শন হলো না

তিনি অনুষ্ঠানেই তো যান। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। শনিবার রাতে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে গেলে কী এমন হতো ডিয়েগো ম্যারাডোনার! হয়তো কিছু সময় ‘অপচয়’ হতো। কিন্তু তাতে তো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জের গোলাম রাব্বীসহ দেড় শ খুদে ফুটবলার পেয়ে যেতে পারত জীবনে গল্প করার মতো এক উপাদান। ম্যারাডোনা-দর্শন! সূত্র: প্রথম আলো।

কথা ছিল, কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালের আগের রাতে সারা বিশ্ব থেকে যাওয়া খুদে ফুটবলারের সঙ্গে স্টেডিয়ামে কিছু সময় কাটাবেন ম্যারাডোনা। কিন্তু রাশিয়া গেলেও ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় সেই রাতে ম্যারাডোনার আর সেখানে যাওয়া হয়নি। এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে পরে হোটেলে ফিরে যায় রাব্বীসহ ৬৪টি দেশের খুদে ফুটবলাররা।

ম্যারাডোনা-দর্শন ছাড়া রাশিয়া সফরে বাকি সবকিছুই উপভোগ করেছে নারায়ণগঞ্জের ছেলে রাব্বী। কাল দেশে ফিরে ছোট্ট রাব্বী ফোনে বলল, ‘সবাই একসঙ্গে প্র্যাকটিস করেছি। মজা করেছি। তবে ম্যারাডোনাকে দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তিনি আসতে পারেননি। তাই খুব খারাপ লেগেছে।’

২৬ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত গাজগম ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস সোশ্যাল ফুটবল ফ্রেন্ডশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছে রাব্বী। এর ফাঁকে ফাঁকে সেন্ট পিটার্সবার্গের ঐতিহাসিক কিছু স্থান দেখারও সুযোগ মিলেছে। একটা পর্ব ছিল রাশিয়ার সাবেক ও বর্তমান নামীদামি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সময় কাটানো। যেখানে এসেছিলেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী রাশিয়ার কিছু খেলোয়াড়ও।

রাব্বী অনেকের সঙ্গে ইংরেজিতে টুকটাক কথা বলেছে। বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া গিয়েছিলেন একজন করে খুদে ও সিনিয়র সাংবাদিক। বাফুফের দুজন কর্মকর্তাও ছিলেন। দলনেতা হিসেবে যাওয়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাফুফের সদস্য আরিফ হোসেন মুন বলছিলেন, অনূর্ধ্ব-১২ বিভাগে ৬৪টি দেশের ৬৪ খুদে ফুটবলারের মধ্যে রাব্বী নাকি বেশ সাড়া ফেলেছে। অর্ধেকের বেশি দেশের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা তাকে আপন করে নিয়েছিল।

মুন তা ভুলতে পারছেন না, ‘রাব্বী তার সরলতা দিয়ে সবার মনোযোগ কেড়েছে। বয়সের দিক থেকে রাব্বীই সঠিক বয়সের ছিল। অন্য দেশগুলো বেশি বয়সী ছেলেদের নিয়ে যায়। সবাই ওর খোঁজ নিয়েছে। গ্রামের একটা ছেলে, মায়াভরা মুখ। কথা শুনেই আদর করত সবাই।’

রাব্বী বলে গিয়েছিল, রাশিয়া গিয়ে গোল করতে চায়। গোল করতে না পারলেও ভালো খেলেছে। ৬৪ দেশের ৬৪ খুদে ফুটবলারকে আট গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। রাব্বী আটজনের যে দলে ছিল; ওই দলে হল্যান্ড, ঘানা, কাজাখস্তানসহ আরও দুটি দেশের খুদে ফুটবলার ছিল। রাব্বীর দল একটি ম্যাচ ড্র করেছে, হেরেছে অন্যটিতে। এই ফুটবল উৎসবে সেরা খেলোয়াড় হয়েছে ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা থেকে যাওয়া খুদে ফুটবলার।

সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শেষে জার্মানি-চিলি কনফেডারেশনস কাপের ফাইনাল দেখার সৌভাগ্যও হয়েছে রাব্বীর। ছোট্ট ছেলেটি তো বটেই, মুন পর্যন্ত রোমাঞ্চিত এই সফর নিয়ে, ‘জীবনে কত কিছু দেখার বা জানার আছে, তা আরেকবার বুঝলাম এই সফরে।’ বড় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছে রাব্বীও। তার বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এ দেশের ফুটবলের চোরাবালিতে সেই স্বপ্ন তলিয়ে না গেলেই হয়!

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

খেলাধুলা -এর সর্বশেষ