৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

মায়ের উৎসাহে শখের সফল উদ্যোক্তা নীলা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:৪৯ পিএম, ১ অক্টোবর ২০১৭ রবিবার


মায়ের উৎসাহে শখের সফল উদ্যোক্তা নীলা

ঘটনা প্রায় ২০ বছর আগের। ১৯৯৬ সালে মায়ের উৎসাহে সখের বসে হাতের কাজ শেখার পদযাত্রা শুরু করেন সবিরা সুলতানা নীলা। শুধুমাত্র শখ নয়, পাশাপাশি অন্তরাত্মার সাড়ায় জন্ম নেয় মহৎ উদ্দেশ্যের এক সুপ্ত বাসনা। শুধু নিজের জন্য নয়, গ্রাম বাংলার অসহায় নারীদের জন্যও কিছু একটা করতেই হবে। এরপর পুড়াতে হয় বহু কাঠখড়। প্রতিষ্ঠা করেন রঙ মেলা বুটিকস। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি সাবিরা সুলতানা নীলাকে। শখের বসে শূন্য হাতের নীলা আজ সফল উদ্যোক্তা। অর্জন করেছেনে একাধিক বার জাতীয় পুরস্কার।

পিতা মো. আলম ও মাতা রেহেনা বেগম সংসারের বড় কন্যা সন্তান নীলার ১৯৯৫ সালে মো. রাকিব হোসেনের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হন। ওই সালেই সরকারী তোলারাম কলেজ হতে মানবিক বিভাগে বি.এ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঘরে বেকার বসে না থেকে ১৯৯৬ সালে যুব উন্নয়রের আওতায় হাতের কাজের প্রশিক্ষণ নেন নীলা। প্রশিক্ষিত হওয়ার পর যেন ভেতরই  পরিবর্তনের ডাক পেলেন- এভাবে হবে না। নিজ উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে উত্তর চাষাঢ়া ৫১ নং বাড়িতে  নিজ ঘরেই গড়ে তুলেন রঙ মেলা বুটিকস নামে একটি আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রতিষ্ঠান। শুরু করেন ব্যবসায়। এবার সচল হলো স্বপ্নও। প্রথম দিকে আয় ব্যয় সমান্য থাকলেও আত্মপ্রত্যয়ে বিভোর নীলা সমাজের অবহেলিত নারীদেরর স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় অনেকট আধা গ্লাস জল পানে মাঠে নামেন। সে উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্ঠায় নিজেকে আরো সক্রিয় করে তুলেন। একে একে প্রশিক্ষিত হন বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। তাঁর ধারাবাহিকতায় ২০০১-২০০৩ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সেলাই, ব্লক বাটিক, কম্পিউটার, ফুড প্রসেসিং ও বিউটিফিকেশন পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে বাড়তে থাকে আত্মবিশ্বাস।

সেই দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের আলোকে ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি করারা জন্য ২০০৩ সালে যুব উন্নয়ন থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং ওই বছরই ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন। তারপর আর পিছু তাকাতে হয়নি নীলাকে। প্রথমে নারীদের ব্লকবাটিক, ফুড প্রসেসিং ও বিউটিফিকেশনস এর উপর প্রশিক্ষণ দেন। ওই সময় তার বাৎসরিক আয় ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তারপর সাভার ওয়ার্ল্ড ভিশনের আওতায় ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার নারীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলেন।

এছাড়াও ২০০৭ সাল থেকে আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ ও  রুপগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ইইপি প্রোগ্রামে বাংলাদেশে প্রথম ভেন্ডার হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ৩টি উপজেলায় তিনি কাজ করেন। এ পর্যন্ত এ প্রোগ্রামের আওতায়  প্রায় ৩ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং প্রশিক্ষিত প্রত্যেক নারীই স্ব স্ব স্থানে কোন না কোন কাজে জড়িত। এছারা নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দীদের মানষিক স্বস্তির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এই অপরজেয় নারী।

বর্তমানে নীলার বাৎসরিক আয় গড়ে ৬ লক্ষ টাকা। পেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে একাধিক পুরুস্কার। ২০১৩ সালে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় যুব পুরস্কার, ২০১৩ ও ১০১৪ সালে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং মহিলা সম্পাদিকা পদে নিয়েজিত আছেন। বর্তমানে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের গর্বিত জননী নীলা।

সাবিরার সুলতান নীলা তার উদ্যোক্তা জীবনের সফলতা কারণ হিসেবে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘সৃষ্টিকর্তা ও নিজের প্রতি প্রবল বিশ্বাসের সাথে নির্দিষ্ট লক্ষ্য, ধৈর্য ও সততা বিদ্যমান থাকলে প্রতিটি মানুষই কোন না কোন সময়ে সফলতার চূড়ান্ত শিখরে উন্নিত হবেই। আমার মেধার সবটুকু আমি সকলের  মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই। সরকারি সহায়তা পেলে এ দেশের অবহেলিত নারী সমাজের জন্য আরো বড় পরিসরে কিছু করার সুযোগ পেতাম।’

বর্তমানে সাবরিনা জাহান নীলা রঙ মেলা নারী কল্যান সংস্থা সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ উপজেলাধীন পরিচালিত কারুকুঞ্জ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একজন দক্ষ প্রশিক্ষক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দীদের মানসিক স্বস্তির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আমার আমি -এর সর্বশেষ