৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

গ্রন্থ দিবস : নারায়ণগঞ্জের পাঠাগারের কথা


এস. এম শহিদুল্লাহ, সমাজকর্মী ও কলাম লেখক। || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৮ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার


গ্রন্থ দিবস : নারায়ণগঞ্জের পাঠাগারের কথা

বইয়ের প্রতি ভালবাসা ও আগ্রহ জাগিয়ে তোলা এবং জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে লাইব্রেরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যে ২০০০ সাল থেকে দেশে জাতীয় গ্রন্থ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বই মানুষের সবচেয়ে ভাল বন্ধু। বই জ্ঞান দেয়, বই আলো দেয়, বই আমাদেরকে সুন্দর হতে শেখায়। বই মানুষের চিরন্তন বিশ্বস্ত সঙ্গী। জ্ঞানীর আজন্ম জ্ঞান সাধনার ফসল হচ্ছে বই। নানান কালের মানুষ তাঁদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা বইয়ে লিপিবদ্ধ করে যান। বই পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা সেই অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হতে পারি এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারি। একটি ভাল বই নিসঙ্গতা, চিত্তবিনোদন এবং আত্মপরিশুদ্ধির একমাত্র উপায়। বই পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের পথ রচনা করে নিতে পারি। বই পড়ার মাধ্যমে বিকাশ ঘটে সভ্যতা ও সংস্কৃতির। উন্নত জাতি গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই। তাই আমাদেরকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। কিছু বই আছে যা মানুষকে অন্ধ করে এবং মানুষের মনকে বন্ধ করে দেয়, এসকল বই না পড়া উচিত।

নারায়ণগঞ্জ শহরে গ্রন্থাগার গড়ার ইতিহাস উল্লেখ করার মতো। নারায়ণগঞ্জ পৌর পাঠাগার - জনসাধারণের পঠন-পাঠনের অভ্যাস জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯২৯ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে ‘নারায়ণগঞ্জ পৌর পাঠাগার।’ এটিই এ জেলার সর্বপ্রাচীন এবং সর্ববৃহৎ পাঠাগার। ১৯৬৫ সালে ঝড়ে বিধ্বস্ত হলে তা ১৯৭১ সালে নতুন করে একটি ভবন গড়ে তোলা হয়। তখন ভবনটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ভবনটির উপর তলায় একটি মিলনায়তন গড়ে তোলা হয়েছিল। তখন এটির নামকরণ করা হয় প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যানের নামে ‘আলী আহাম্মদ চুনকা পৌর পাঠাগার ও মিলনায়তন’।

পৌর মিলনায়তনটি তৈরি হলে সংস্কৃতিমোদীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। এটি নারায়ণগঞ্জ শহরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সাহিত্য আলোচনার একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটিকে আরও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাঠাগারটির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ৭ হাজার ৫৩৩ স্কয়ার বর্গফুট জায়গায় ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে নাটকের স্টেজ, স্থায়ী ও অস্থায়ী ডিসপ্লে গ্যালারী, স্টুডিও, থিয়েটার, ২টি শিশুদের লাইব্রেরী; বই পড়ার কক্ষ, একটি সাধারণ লাইব্রেরী ইত্যাদি করা হচ্ছে। যা অচিরেই পাঠক সাধারণের জন্য উন্মোচন করা হবে। এটি হবে আধুনিকতার দিক দিয়ে দেশের অন্যতম একটি পাঠাগার।

সুধীজন পাঠাগার - মাসিক ৫০ টাকা ঘর ভাড়া এবং মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে ১৯৬৪ সালের ১৯ নভেম্বর ‘আমলাপাড়া পাঠাগার’ নামে আজকের স্বনামধন্য সুধীজন পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথম বাড়ির পর ‘রজনী নিবাস’ পরে ১/২ আরকে গুপ্ত রোডের ভাড়া বাসায় এর কার্যক্রম চালু হয়েছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পাঠাগারের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং সেইসাথে বইপত্রও লুট হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর হোসেন জামালের বিশেষ সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসক এ এম এম শওকত আলী সাহেবের ১ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা অনুদানে বঙ্গবন্ধু রোডের বর্তমান জায়গায় নবধ্যোমে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য বর্তমান জায়গাটি প্রাপ্তিতে তখনকার পৌর চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার বিশেষ অবদান ছিল। প্রথম একটি আলমারি, একটি টেবিল, ছয়টি চেয়ার ও একশত বই সম্বল করে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে পাঠাগারটির বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। বই-পত্র রাখার উন্নত রেকসহ পাঠকদের পরিবেশবান্ধব পরিবেশে পড়ার সুবন্দোবস্তও করা হয়েছে। এর বর্তমান পাঠক সদস্য সংখ্যা ৮ হাজার ৩ শ ৯০ জন। (৩০-১২-১৭)। এছাড়াও প্রতিদিন এর পাঠ কক্ষে বসে প্রায় একশত জন পাঠক বিভিন্ন বই ও সংবাদপত্র পাঠ করে থাকেন। এছাড়া পাঠাগারটি গ্রন্থমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বই প্রকাশ করে থাকে।

উল্লেখিত পাঠাগার দুটি নারায়ণগঞ্জের বইপ্রেমী পাঠকদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। অপরদিকে বই প্রকাশ, গ্রন্থ মেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতিতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। পাঠাগার দুটি বর্তমান জাতীয় গ্রন্থ দিবসের উদ্দেশ্যকেই যেন সফল করে জাতীয় পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের মুখকে উজ্জ্বল করে রেখেছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ