৮ আষাঢ় ১৪২৫, শুক্রবার ২২ জুন ২০১৮ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ

সত্য কথা বলতে গিয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকরা


হাবিবুর রহমান বাদল, || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:৪৮ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৫:৫০ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার


সত্য কথা বলতে গিয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকরা

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে কেন যেন বারবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা হচ্ছে না। সাংবাদিক বান্ধব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিডিয়া বান্ধব হিসেবে সুপরিচিত। তথ্য প্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারা যেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা না হয় এজন্য একাধিকবার তার নির্দেশনার কথাও আমরা শুনেছি।

আইনমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন ৫৭ ধারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আসছে বলেও তিনি বেশ কয়েক মাস আগে থেকে বলে আসছেন। সর্বশেষ আইজিপি বলেছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অনুমতি ছাড়া কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নেওয়া যাবে না। তার পরও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ আইনে মামলা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তথ্য প্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারায় মামলার সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশ হয়তো বলবে আদালত নির্দেশ দিচ্ছে তাই তারা গ্রহন করছে। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। একজন পেশাদার সাংবাদিক কখনো উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কারো বিরুদ্ধে বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে ক্ষেত্র বিশেষে তথ্যগত ভুল কিংবা অসাবধানতা বশত: কোন বক্তব্য প্রকাশ পেতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে প্রতিবাদ দিতে পারে। প্রতিবাদ না ছাপলে আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার তার রয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে যা চলছে তা কোন অবস্থাতেই শুভকর নয়। কারণ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় সকলেই পেশাদার সাংবাদিক। অথচ নামধারী সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় ব্লাকমেলিং করে চলেছে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।

তথ্য প্রযুক্তি আইনে সর্বশেষ শিকার নিউজ নারায়ণগঞ্জ২৪.নেট এর প্রধান সম্পাদক শাহজাহান শামীম ও নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেন। সাংবাদিকরা কারো প্রতিপক্ষ নয়। অথচ সামান্য ঘটনায় কারো কারো কোটি কোটি টাকার মানহানি ঘটে আবার যার ক্ষমতা বেশি সে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারায় মামলা করে। এভাবেই নারায়ণগঞ্জে পেশাদার সাংবাদিকদের স্তব্দ করার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকদের হয়রানীর বিরুদ্ধে যে সব সাংবাদিক নেতাদের সোচ্চার হওয়ার কথা ছিল গত তিনদিনেও তারা সোচ্চার হয়নি। সোচ্চার তো দূরের কথা প্রতিবাদ জানানোর ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছে। অথচ নারায়ণগঞ্জবাসীর অর্থে গড়া বিশাল অট্টালিকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে তারা নিজেদের গঠনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের বাহিরে রেখে অধিকাংশ নামসর্বস্ব পত্রিকার সাংবাদিকদের খুশি রেখে ক্ষমতা ভোগ করে চলেছে।

এরা নিজেদের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার হীনমন্যতায় এতোটাই বিভোর যে নিজেদের ইচ্ছে মত গঠনতন্ত্র তৈরী করছে আবার ইচ্ছে মত গঠনতন্ত্রের অপব্যাখ্যা দিয়ে যেনতেনদের তাদের সদস্য করে নিচ্ছে। একই অবস্থা আরেকটি সাংবাদিক সংগঠনের। এরা গাড়ি হাকিয়ে সাংবাদিকতা করে আবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দুস্ত সাংবাদিকদের অর্থ আত্মসাতের। কিন্তু এ অবস্থা আর কতদিন চলবে জানিনা। তবে পেশাদার সাংবাদিকদের সময় এসেছে অতীতের সকল মতভেদ ভুলে এই সব তথাকথিত সাংবাদিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধিক্কার জানানো। পেশাদার সাংবাদিকরা কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর তল্পিবাহক নয় এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা করতে গেলে সমাজের তথাকথিত প্রভাবশালী মহলের বাধা আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সকল বাধা অতিক্রম করে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত হামলা মামলাকারীরা ক্ষ্যান্ত যাবে না। সুতরাং প্রশাসনের উচিত পেশাদার সাংবাদিকদের এই ধরনের হয়রানী হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করার। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দানের উদ্দেশ্যে সহায়ক স্বরূপ কাজ করার এবং বন্ধু হয়ে সত্যের পথে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকল কর্মকান্ডে পাশে থাকার। অপরাধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার। কারণ রাজনৈতিক দলগুলিতে যে বিভাজন নারায়ণগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যাতে হয়রানীর শিকার হতে না হয়,এব্যাপারে জনপ্রতিনিধি ও সকল প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

লেখক- সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এবং সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ডান্ডিবার্তা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ