১১ ফাল্গুন ১৪২৪, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে সুভাষচন্দ্র বসু


এস. এম শহিদুল্লাহ, সমাজকর্মী ও কলাম লেখক। || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১০ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০২:১০ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার


নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে সুভাষচন্দ্র বসু

২৩ জানুয়ারী। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২১ তম জন্মবার্ষিকী। আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি হিসেবে যাঁরা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তিনজন নেতা হলেন, শেরে বাংল এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সাংগঠনিক কাজ উপলক্ষ্যে কয়েকবার নারায়ণগঞ্জে আগমন এ অঞ্চলের জনগণের স্মৃতিতে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রথমবার ১৯২৮ সালে ২১ জানুয়ারী নেতাজী সুভাষ বসু একটি সমাবেশ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন। সে সময় তাঁর একান্ত সহযোগী ছিলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতিসন্তান শান্তিময় গাঙ্গুলী। তিনি ছিলেন শীতলক্ষার তামাকপট্টি মহল্লার বিমলা মোহন গাঙ্গুলীর ছেলে। সেকালে শান্তিময় গাঙ্গুলী নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। নেতাজীর অন্তর্ধান ঘটনার সঙ্গে শান্তিময় গাঙ্গুলীর নামটিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৪১ সালে জানুয়ারী মাসে নেতাজী ভারত থেকে পালিয়ে জার্মান এসে উপস্থিত হন। পরবর্তী দল হিসেবে শান্তিময় গাঙ্গুলী কলকাতা হয়ে পেশোয়ার পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে নানাবিধ অসুবিধার কারণে তাঁকে কলকাতায় ফিরে আসতে হয়েছিল।

দ্বিতীয়বার ১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর সুভাষ বসু নারায়ণগঞ্জে আসেন। সেবার তিনি স্টিমারযোগে নারায়ণগঞ্জে এসে পৌঁছেছিলেন। তখন হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী তাঁকে সাদর সংবর্ধনা জানাতে স্টিমার ঘাটে জমায়েত হয়। স্টিমারে বসেই তিনি শুনলেন যে, সরকার তাঁর জন্য ঢাকা জেলায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সেদিন পুলিশ নেতাজীকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ থানায় কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে পরে চাঁদপুর পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে নেতাজী কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় যান। পুনরায় তিনি ঢাকায় গ্রেফতার হন। এরপর অবশ্য তিনি কোর্টের মাধ্যমে জামিন লাভ করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে সুভাষ বসুর সংবাদটি ৮ নভেম্বর কলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সংবাদটি ছিল ‘নারায়ণগঞ্জ, ৭ নভেম্বর। শ্রীযুক্ত সুভাষ চন্দ্র বসুকে নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার করা হইয়াছে। জে.সি গুপ্ত ও তদন্ত কমিটির অন্যান্য সভ্যগণ ঢাকা রওনা হইয়াছেন। অদ্য অপরাহ্নকালে কলকাতা স্টিমার নারায়ণগঞ্জে পৌঁছিলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুসারে শ্রীযুক্ত সুভাষ বসুকে ঢাকা জেলার মধ্যে প্রবেশ করিতে নিষেধ করিয়া একটি নোটিশ জারি করা হয়---"

নেতাজী সুভাষ বসু ১৯৩৯ সালের জানুয়ারী মাসে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৃতীয়বার তিনি ১৯৩৯ সালে এখানে এসেছিলেন। বর্তমান টানবাজার পার্কটি ছিল তখন খোলা ময়দান। সে ময়দানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে সেদিন তাঁকে বিপুলভাবে সংবর্ধিত করা হয়েছিল। সুসজ্জিত একটি টমটমে উঠিয়ে তাঁকে সমগ্র শহর প্রদক্ষিণ করানো হয়। টমটমের পিছনে ছিল বিরাট মিছিল। হাজার হাজার লোক সে মিছিলে শরিক হয়েছিল। টানবাজার পার্ক এলাকাটিকে এই  ক্ষণজন্মা জনদরদী নেতার নামে ‘নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু পাক’ নামকরণের মধ্য দিয়ে আমরা তাঁকে নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারি। যার মধ্য দিয়ে আমারা এই  স্বাধীনতাকামী মহান বীরের নারায়ণগঞ্জে পদচারণার কথা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে চির জাগরুক করে রাখতে পারি।

শেষবার ১৯৪০ সালের এপ্রিল মাসে নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন তিনি। সেবার তিনি নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিন নারায়ণগঞ্জের কংগ্রেস নেতা পৌর কমিশনার উকিল বিনয়কৃষ্ণ রায়ের বাসায় রাত্রিযাপন করে পরের দিন ঢাকেশ্বরী মিল স্কুল উদ্বোধন শেষে ঢাকা চলে যান এবং সেখানের করনেশন পার্কে একটি জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই তারিখে প্রকাশিত ফরাসি এক গোপন রিপোর্টে বলা হয় সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৭ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। এর আগে কয়েকটি তদন্তে ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে জাপানি এক বিমানে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবী করা হয়। ভারতবাসীর স্বাধীনতার জন্য নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রচেষ্টার কথা নারায়ণগঞ্জবাসী তথা বাঙালি জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ