নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাবনা

৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাবনা


মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ || ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন

প্রকাশিত : ০৪:৪৭ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:১৫ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাবনা

একটি মাত্র প্রধান সড়ক (বঙবন্ধু সড়ক) নির্ভর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জ যেমনি এখন মেগাসিটিতে পরিনত হয়েছে, তেমনি নারায়ণগঞ্জ এখন যানজটের মহানগরীতেও পরিনত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানবাহন ধারণ করার মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাস্তা এখন আর নাই। যে সব রাস্ত গুলো বিদ্যমান তার চেয়ে যানবাহন ও জনসংখ্যার হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রায় সারাদিনই শহরে যানজট লেগে থাকে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি দীর্ঘ এক যুগের বেশী কাউন্সিলর হিসাবে নগর উন্নয়ন ও যানজট নিরশনে হাতে কলমে কাজ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ অিিভজ্ঞতার আলোকে নারায়ণগঞ্জ শহরে সৃষ্ট যানজট নিরশনের আমার কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।

(১) - চাষাঢ়া সরকারী মহিলা কলেজ, ২নং রেল গেট, ১নং রেল গেটটি এই তিনটি ক্রসিং শহরের প্রান ও একমাত্র মূল রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়কের উপরে অবস্থিত। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেনটি ১৬ বার আপ ও ১৬ বার ডাউন মোট ৩২টি ট্রিপ দেয়। একেকটি ক্রসিং পার করতে ও নিরাপত্তা গেট নামানো - উঠানো বাদ গড়ে কমপক্ষে ৩ মিনিট সময় লাগে। ট্রেনের একটা ট্রিপ সর্ম্পূন করতে ৩টি ক্রসিং এ ৯ মিনিট রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়। এ হিসাবে ট্রেন ৩২ বার আপ ডাউন করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের একমাত্র সড়কটি প্রতিদিন প্রায় ২৮৮ মিনিট অর্থাৎ ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। যার ফলে ৪ ঘন্টা ৪০ মিনিট বন্ধের খোসারত দিতে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদিনই নগরীতে যানজট লেগে থাকে।

একটি মাত্র মূল রাস্তার নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর যানজট নিরসন ও আগামী ১০০ বছরের জন্য নগরবাসীর অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষে ট্রেন চলাচল চাষাঢ়া রেল স্টেশন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখলে এবং চাষাঢ়া থেকে কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনের জায়গায় দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ করলে নারায়ণগঞ্জবাসীর যোগাযোগের ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি মানুষের যাতায়াত ব্যায় ও কর্ম ঘন্টা রক্ষা পাবে। পাশাপাশি চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ি ও জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর বধির্ত অংশ অপসারণ করলে জেলার ফতুল্লা, পাগলা ও বিসিক নগরী সহ বিস্তির্ন এলাকার মানুষ যানযট থেকে মুক্তি পাবে।

(২) এছাড়া নগরীর ২য় প্রধান রাস্তা সিরাজউদ্দৌল্লাহ সড়কটি বধির্ত করণের জন্য এরশাদ সরকার কুমুদিনীর দেয়াল ভেঙ্গে প্রায় ২০ ফুট প্রস্থে ও ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য জমি একোয়ার করেছিল। কিন্তু অজানা কারণে রাস্তাটি বধির্ত করণ সম্ভব না হওয়ায় কুমুদিনী পুনরায় উক্ত জমি নিজ দেয়ালের ভিতরে নিয়ে গেছে। কুমুদিনীর উক্ত জমি পুনরায় অধিগ্রহন করে এবং নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল ও নারায়ণগঞ্জ কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত রেলের জমিতে ব্যাক্তিগত ভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট সরিয়ে দিলে সিরাজউদ্দৌল্লাহ রোডেও সহজেই ফুটপাত সহ দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ সম্ভব। এ রাস্তাটি নির্মাণ করা গেলে জেলা পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ ও যানবাহন চলাচলের হাত থেকে বিবি রোড রক্ষা পাবে।

(৩) ডিআইটি মার্কেটের পিছনে রেলের জমিতে জিমখানা টু মর্গ্যান স্কুল পর্যন্ত বাইপাস রাস্তা নির্মানের বিষয়টিও  নজরে আনা দরকার। যদিও সিটি কর্পোরেশন রাস্তাটি করার চেষ্ঠা করছে কিন্ত এখানে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বস্তি ও কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান।

(৪) শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে সিগন্যাল বাতি, জেব্রা ক্রসিং ও কয়েকটি ইউ লুপ স্থাপন করা হলেও যানজট নিরসন সহজতর হবে।পাশাপাশি রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করার প্রবণতাও রোধ করা আবশ্যক হয়ে পরেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ট্রেন চলাচল চাষাঢ়া পর্যন্ত রহিত করার যে প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছেন তা সময়োচিত। এজন্য তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। জেলা প্রসাশকের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন। প্রতিবাদকারীরা মনে করেন নদী বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রেল স্টেশনটি একটি ঐতিহ্য।

আমি বিনয়ের সাথে প্রতিবাদকারীদের বলতে চাই নারায়ণগঞ্জে প্রথম রেল স্টেশনটি গড়ে উঠেছিল জিমখানায় এবং রাজধানীতে গড়ে ওঠা ফুলবাড়িয়া রেল স্টেশনটিও সময়ের প্রয়োজনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে আগের মত নদী কেন্দ্রীক আমদানী রপ্তানী নাই, ফলে ট্রেনে পন্য পরিবহন এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কেউ কেউ বন্দরবাসীর জন্য ট্রেন স্টেশনটি কাছে হয় বলে থাকেন।

কথাটি সত্যি, তবে আগামী ২/৪ বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর একাধিক সেতু নির্মিত হলে বন্দরবাসীর জন্য পরিবহন ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আকাশ পাতাল পরিবর্তন আসবে। তখন বন্দরবাসীকে নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে ট্রেন বা বাসে উঠতে হবে না। তাদের নিজস্ব পরিবহন সিস্টেম গড়ে উঠবে রাতারাতি। সুতরাং নারায়ণগঞ্জে যানজটের মূল কারন ট্রেন ষ্টেশনটি চাষাড়ায় স্থানান্তর করা এখন সময়ের দাবী।

নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরশনে দ্রুত রেল স্টেশনটি চাষাঢ়া স্থানান্তরিত করে রেল লাইনের উপর চাষাঢ়া টু কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল/নদী বন্দর পর্যন্ত ও সিরাজউদ্দৌল্লাহ রোড প্রশস্থ করে দুই লেনের রাস্তা এবং জিমখানা টু মর্গ্যান স্কুল পর্যন্ত বাইপাস রাস্তা নির্মাণ জরুরী। ভবিষ্যত বংশধরের জন্য একটি সুন্দর ও যানজট মুক্ত মাহনগরী গড়ে তুলতে হলে ট্রেন স্টেশন স্থানান্তর সহ উল্লেখিত ৩টি রাস্তা নির্মাণের এখনই উপযুক্ত সময়।

পরিশেষে বলতে চাই একটু কঠিন সিদ্ধান্ত, একটু পরিকল্পনায় যদি আমরা একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে পারি তবে এমপি, মেয়র, সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে আমরা সবাই আমাদের ভবিষ্যত বংশধরের কাছে দায়মুক্ত থাকবো। নতুবা আমাদের দলবাজী ও ব্যক্তিগত রেশারেশির কারণে যদি যথাসময়ে মহানগরীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যার্থ হই তবে এর দায় ভার আমাদেরই বহন করতে হবে।ভবিষ্যত কাউকে ক্ষমা করবে না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ