ক্ষমা করো হে সহকর্মী সাগর-রুনি : ৭২ মাসেও মেলেনি ৪৮ ঘণ্টার জবাব

৩ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমা করো হে সহকর্মী সাগর-রুনি : ৭২ মাসেও মেলেনি ৪৮ ঘণ্টার জবাব


কামাল উদ্দিন সুমন, || আপ্যায়ন সম্পাদক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি

প্রকাশিত : ১১:৩২ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১১:৫৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার


ক্ষমা করো হে সহকর্মী সাগর-রুনি : ৭২ মাসেও মেলেনি ৪৮ ঘণ্টার জবাব

এক, দুই দিন আর এক, দুই মাস নয়। একে একে কেটে গেলে ৬ বছর। এখন অপেক্ষা করছি, প্রতিক্ষার প্রহর গুনছি। কবে আসবে খবর। কিন্তু খবর তো আসে না। বারবার চলে আসে ১১ এপ্রিল। এদিনটি অন্যান্য সহকর্মীর মতো আমারো বেদনাবিধুর। কারণ আজ থেকে ঠিক ৬ বছর আগের এক সাত সকালে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত লাশ মেলে। বলে রাখি সাগর রুনি আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইফনিটির স্থায়ী সদস্য। পেশাদার সাংবাদিকদের বৃহৎ  এসংগঠনে তিন তিনবার নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ আমার হয়েছে।

যাক ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল সাগর রুনির হত্যাকান্ডে আঁতকে ওঠা এমন খবর শোনার পর দেশের মানুষের মনে তখন দুটি প্রশ্ন সাগর-রুনি দম্পতির খুনি কারা ? কেন তারা নৃশংস খুনের শিকার হলেন? এমন দুটি প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘ স্রেফ ৪৮ ঘণ্টা, এই সময়ের মধ্যেই খুনিরা ধরা পড়বে। খুনের কারণও জানা যাবে।’ হত্যার রহস্য শুরু সেই থেকে। ৪৮ ঘণ্টার সেই আলটিমেটাম শেষ হলো না ৭২ মাসেও। আর এই সময়ের মধ্যে সরকার বদল হয়েছে একবার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনজন। তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আলোচিত হওয়া সেই পুলিশ প্রধান অবসরে গেছেন। থানা থেকে দেশের বিভিন্ন সংস্থা হয়ে মামলার তদন্ত ঘুরেছে সুদূর মার্কিন মুলুক পর্যন্ত। কবর থেকে লাশ তোলা শুধু নয়, তদন্তের সব কটি শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু ফল শূন্য। ঘটনার পর দুটি প্রশ্নের অবস্থান যেখানে ছিল, ছয় বছর পরের অবস্থানও সেই একই স্থানে।

তদন্ত সংশ্লিরা বলছেন, তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। এটি স্পর্শকাতর মামলা। ভেবেচিন্তে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে সময় ক্ষেপন হয়েছে ৪৪ বার।

হত্যাকান্ডের ছয় বছরের মাথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সেই পুরনো কথা আবারও বললেন যাচ্ছেন।  যে কোনো সময় সাগর-রুনির হত্যার রহস্য আমরা জানতে পারব। কে, কীভাবে, কেন তাদের হত্যা করল এবং এর পেছনে কী ছিল সবই জানা যাবে। ছয় বছর ধরে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে দিতে হতাশ-ক্লান্ত সাগর-রুনির স্বজনরা। এখন আর এ নিয়ে কথা বলতেও চান না তারা। বিচারের আশাও ছেড়েই দিয়েছেন।

তারা বলছেন, দিন যায় বছর যায়, আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয় না। মন্ত্রী বা পুলিশের ‘যে কোনো সময়’ বা ‘শিগগির’ কবে আসবে তা কেউ জানে না। মামলার বাদী ও নিহত মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ছয় বছরেও যে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি, তা আর কোনো দিন হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু একটিই দুঃখ, এত বড় একটি ঘটনা ঘটিয়েও খুনিরা পার পেয়ে যাচ্ছে! তাদের শনাক্তই করতে পারল না পুলিশ-র‌্যাব।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকান্ডের ৬ বছর হয়ে গেলেও এখনো তার রহস্যের জট খুলতে পারেনি তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বারবার তদন্ত নিয়ে আশার কথা বললেও যেই তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলা।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরওয়ার ওরফে সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলনও যেন সময়ের সাথে বিচারহীনতায় স্তিমিত হয়ে আসছে। বিচারের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিকদের কণ্ঠগুলোও এখন বজ্রকণ্ঠ হয় কেবল ১১ ফেব্রুয়ারি এলেই। এতোদিনেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের তদন্তে ধীরগতি, অভিযোগপত্র দিতে টালবাহানায় সরকার-প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের অনেকে মনে করেন খুনিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। কারণ বাংলাদেশের আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী চাইলে দোষীরা আইনের আওতায় আসে এই দৃষ্টান্ত নতুন নয়। অথচ অদৃশ্য কোনো কারণে সাগর-রুনি হত্যা রহস্য চাপা দেয়া হচ্ছে। তবে সাংবাদিকসহ সাগর-রুনির পরিচিত মানুষেরা হতাশার মাঝেও এখনো অপেক্ষায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিচার দেখার।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ