‘শীতলক্ষ্যায় বর্জ্য নির্গমন বন্ধ করাটাই নগরবাসীর প্রাণের দাবি’

এস. এম শহিদুল্লাহ, || লেখক : একজন সমাজকর্মী ও কলাম লেখক। ০৯:১২ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার



‘শীতলক্ষ্যায় বর্জ্য নির্গমন বন্ধ করাটাই নগরবাসীর প্রাণের দাবি’

আজ ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস। নারায়ণগঞ্জের প্রাণ শীতলক্ষ্যা নদীতে বিভিন্ন কারখানার তরল বর্জ্য ও গৃহস্থালীর পয়ঃবর্জ্য সরাসরি যাতে নদীতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করাটাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সূত্রমতে, অধিক সংখ্যক নদী থাকার কারণে বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। এ দেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নদীগুলো। বাংলাদেশকে বলা হয় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ, যার সৃষ্টি নদীবাহিত পলি থেকে। পদ্মা , মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী। ছোট বড় অনেক উপনদী এসে এসব নদীতে মিশেছে। এসব নদ-নদী বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বৈচিত্র্য দান করেছে।

শীতলক্ষ্যা নদী হলো ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখা নদী। নারায়ণগঞ্জ শহর এ নদীর তীরে অবস্হিত। শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য একদা বিখ্যাত ছিল।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের চাষাবাদ ব্যবস্হা অনেকটাই নদীর সেচ ব্যবস্হার উপর নির্ভরশীল। কৃষির উন্নয়নে নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নদীমাতৃক এ দেশটি স্মরণাতীতকাল থেকে মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধশালী। আর তাইতো বাঙালিকে বলা হয় `মাছে ভাতে বাঙালি।`

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলো বিভিন্নভাবে নদীর পানি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া নদীপথে কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশের অধিকাংশ বড় বড় শিল্প-কারখানা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে।

বৈচিত্র্যেভরা এই বাংলাদেশে বয়ে  চলেছে  অসংখ্য নদী। এসব নদী এদেশকে করেছে সুজলা-সুফলা,শস্য-শ্যামলা। তাই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু আজ অনেক নদী মারাত্মক দূষণের শিকার। এর মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদী অন্যতম। শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য, ডাইং ফ্যাক্টরীর বর্জ্য এবং গৃস্হালী পয়ঃবর্জ্য অনবরত নির্গত হচ্ছে এ নদীতে। এর ফলে শীতলক্ষা নদী  হয়ে পড়েছে মারাত্মক দূষণযুক্ত। পানি হয়ে পড়েছে বিবর্ণ কালো। ড্রেন এবং কারখানার পয়ঃবর্জ্য সরাসরি যাতে নদীতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। নদী ও বাংলাদেশ একই সূতোয় গাঁথা। এদেশের মাটি ও মানুষের সাথে নদী ওতপ্রেেতভাবে জড়িত। ঠিক তেমনিভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীও শীতলক্ষ্যা নদীর সাথে একই সূতোয় গাঁথা। এক সময় এই শীতলক্ষ্যা নদী থেকেও মাছ ধরা হতো কিন্তু নদী দূষণ-দুর্গন্ধের কারণে মাছ ধরাতো দূরের কথা এখন শীতলক্ষ্যা নদীতে নামাই যায় না। দূষণের মাত্রা এতই বেড়েছে যে, নদীর পানি ড্রেনের পানির মতো কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। বর্তমানে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এবং একটি ড্রেনের পয়ঃযুক্ত পানি দুটি পাত্রে রাখলে কেউ বলতে পারবে না কোনটি নদীর পানি। দুর্গন্ধের কারণে নদী পারাপার হতে হয় নাকে রুমাল দিয়ে।

ড্রেন এবং কারখানার পয়ঃবর্জ্য সরাসরি যাতে নদীতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে। শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণ মুক্ত করতে হবে। এটি এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবী।

দিবসটির সফলতা কামনা করছি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও