২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

UMo

মিছিলে প্রমাণিত পলাশের বিরুদ্ধে যুগান্তরের সংবাদ শতভাগ সত্য


কামাল উদ্দিন সুমন || আপ্যায়ণ সম্পাদক - ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

প্রকাশিত : ১০:১২ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার


মিছিলে প্রমাণিত পলাশের বিরুদ্ধে যুগান্তরের সংবাদ শতভাগ সত্য

‘এক ভদ্র লোক দীর্ঘদিন ধরে পিঠের ব্যাথায় ভুগছেন। কিন্তু ভালো হওয়ার কোন লক্ষনই নাই।  অবশেষে তিনি আবিস্কার করলেন যত দোষ তার শোয়ার খাটের। দেরি না করে কাঠ মিস্ত্রির কাছে গেলেন। কাঠ মিস্ত্রী হাতুড় তারকাটাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে দেখলেন খাটতো  ঠিকই আছে।’

হাতুড়ি দিয়ে ঠুসঠাস কয়েকটা আঘাত করে কিছু টাকা হাতিয়ে নিল। ভদ্রলোক মনে করেছিল পরদিন থেকে তার পিঠব্যাথা থাকবে না। কিন্তু ব্যাথা আরো বাড়তে লাগলো। দৌড়ে গিয়ে কাঠমিস্ত্রির কাছে হাজির, তোমাকে টাকা দিলাম কিন্ত আমার পিঠ ব্যাথা তো ভালো হলো না।

কাঠমিস্ত্রি উত্তর দিলো আরে ভাই, আপনার খাটতো ঠিকই আছে। আপনি আমার কাছে না এসে ডাক্তারের কাছে যান। সেখানের চিকিৎসা নিলে আপনার পিঠ ব্যাথা ভালো হতে পারে। কথাগুলো বললাম একটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। তা হলো ৩ এপ্রিল ২০১৮ দৈনিক যুগান্তরে ‘নারায়ণগঞ্জে আরেক নূর হোসেন। ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে ফতুল্লা শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের চাঁদাবাজি নিয়ে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি আমি পড়েছি। এরকম তথ্যবহুল সংবাদের জন্য অনুজ আলামিন প্রধানকে ধন্যবাদ। তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকরা অনেক ঘটনাই প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

এর পরের ঘটনা। ঐ কাঠমিস্ত্রির কাছে যাওয়া ভদ্রলোকের মতো। তা হলো সংবাদ প্রকাশের কারনে শ্রমিকলীগ নেতা পলাশ তার অনুগতদের দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করছেন। শক্তি প্রদর্শন করার জন্য প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে তার শুভাকাংখীরা। ঐ বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাংবাদিক আলামিনের চামড়া তুলো নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে হুংকার দেয়া হয়েছে। আলামিন প্রধান এঘটনা নিয়ে ফতুল্লা থানায় জিডি করেছেন। শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের পক্ষে তার ক্যাডাদের প্রকাশ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ প্রমান করে যুগান্তরে তার চাঁদাবাজি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ পুরোটাই সত্য। যুগান্তরের সংবাদের পলাশের অপরাধচিত্র বেরিয়ে এসেছে।

শ্রমিকলীগ নেতা পলাশ যদি মনে করেন তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সত্য নয় তাহলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। যুগান্তর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ করতে পারতেন। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছে (আলামিন প্রধান যে সব সংগঠনের সদস্য) প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে তার ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে কি করলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল বের করলেন। আর ঐ বিক্ষোভ থেকে সাংবাদিকের চামড়া তুলে নেয়ার হংকার দেয়া হলো।

জনাব কাউসার আহমেদ পলাশ আপনাকে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি জানি। এটাও জানি আপনার উপস্থিত জ্ঞান অনেক। তাৎক্ষনিক অনেক সিদ্ধান্তে আপনি সফল হয়েছেন। কিন্তু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে যারা আপনাকে মতামত দিয়েছেন তারা (আমার কাছে মনে হয়) আপনার শুভাকাংখী নন। আপনার ক্ষমতা প্রদর্শন করার অনেক উপায় থাকতে পারে। কিন্তু এ পন্থাটা আমি মনে করি ঠিক হয়নি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গালিগালাজ আর চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি আপনাকে মানায় না। আপনি রাজনীতি করবেন ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ কিংবা জাতীয় পর্যায়ে। গণমাধমের সাথে ক্লেশ, ঝগড়া কিংবা হুংকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা আসলে দুঃসাধ্যের। তাই বলবো কাঠমিস্ত্রির কাছে না গিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। তাতে আপনার সমস্যা সমাধান হবে। আপনিও এগিয়ে যাবেন। আপনাকে বলে রাখতে চাই। গণমাধ্যম কারোর শত্রু না। গণমাধ্যমের সাথে শক্তি প্রদর্শন করে টিকে থাকার নজির নেই। ভবিষ্যতেও হবে না।

আমার মনে আছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যখন বারবার আপনাকে ফতুল্লা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসতো তখন আমরাই লেখনির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করতাম। শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করে আপনি অনেকদূর এগিয়েছেন, মিডিয়া কি আপনাকে কখনো শত্রুতার দৃষ্টিতে দেখেছে? আমি করি দেখেনি। আপনি রাজনীতি করবেন, আমরা সাংবাদিকতা করবো। সমাজের মানুষের জন্য কল্যাণকর কিছু করা সবারই লক্ষ্য। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করবেন এটা আপনার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু মিডিয়াকে ভয়, হংকার দিয়ে মোকাবেলা করার চিন্তা আপতত মাথা থেকে দুরে রাখেন। আলামিন একা নয়, আমরা আছি তার সাথে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ