২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

rabbhaban

চাঁদাবাজদের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পলাশের হুমকি মামলা


হাবিবুর রহমান বাদল || সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব। সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ডান্ডিবার্তা।

প্রকাশিত : ০৮:০৩ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


চাঁদাবাজদের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পলাশের হুমকি মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন মিল-কারখানা, অবৈধ পরিবহনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তাহে কোটি টাকার চাঁদা উঠে। এসম্পর্কিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ডান্ডিবার্তায় প্রকাশের পর গত ৫ এপ্রিল ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ প্রকাশিত সংবাদটিতে তার মানহানী ঘটেছে এমন দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

অবশ্য একই বিষয় নিয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর পলাশের অনুসারিরা ৪ এপ্রিল মিছিল সমাবেশ করে একটি জাতীয় দৈনিকের ফতুল্লা প্রতিনিধির হাত পা ভেঙ্গে ফেলা সহ চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরের দিন চারটি পত্রিকার বিরুদ্ধে কাউছার আহম্মেদ পলাশ মামলা দায়ের করে। একই দিন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, প্রকাশক ও ফতুল্লা সংবাদ দাতার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় একটি মামলা করে।

পরবর্তীতে স্থানীয় একটি অনলাইনের নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে মামলা দায়ের করে। প্রকাশিত সংবাদে কেউ ক্ষুব্ধ হলে আইনের আশ্রয় নিতেই পারে। কিন্তু আইনের আশ্রয় নেওয়ার আগে যে পদ্ধতিগুলো অনুসরন করা উচিত ছিল তার কোনটাই কাউছার আহম্মেদ পলাশ করেনি।

বরং মামলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত বুধবার চাষাড়া শহীদ মিনারে তার অনুসারিদের নিয়ে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেও অন্যান্য পেশাদার সাংবাদিকদের এব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব থাকতে দেখা গেলো। চাষাঢ়া সমাবেশ থেকে পলাশ চারজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবী জানিয়েছে।

শ্রমিক নেতা পলাশ দীর্ঘদিন পর একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলেন বলে আমি মনে করি। আমি অন্য কোন সাংবাদিকের দায়িত্ব না নিয়ে নিজ দায়িত্বে বলছি পলাশ সাহেব আমি আপনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। শুধু তাই নয় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ পলাশ সাহেবের দাবী অনুযায়ী বিগত ২০০০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের ও শ্রমিক নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ এবং আয়ের উৎস সহ  অতীতে এই দুই সম্প্রদায় কি অবস্থায় ছিল আর বর্তমানে কি অবস্থায় আছে তা তদন্ত করে বের করা হোক।

আমি শ্রমিক নেতা পলাশের স্মরণে আনতে চাই দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ডান্ডিবার্তায় কোথাও একক কোন শ্রমিক নেতার কথা বলা হয়নি। চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত কারো নাম উল্লেখ করাতো তো দূরের কথা আকার ইঙ্গিতেও সংবাদে তা লেখা হয়নি। বরং বলা হয়েছে বিভিন্ন সেক্টর থেকে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক শ্রমিক নেতাই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। অনেকেরই রয়েছে নিজস্ব গাড়ী ও একাধিক বাড়ি।

এব্যাপারে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজীর এই টাকা কাদের পকেটে যায়। আমার সংবাদে শ্রমিকদের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে অব্যাহত চাঁদাবাজীর কথা সবাই জানে। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজীর বিষয়টি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও অবহিত।

এমতাবস্থায় দৈনিক ইত্তেফাক ও ডান্ডিবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে পলাশ যে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তা আমার বোধগম্য নয়। কারণ ডান্ডিবার্তায় নাম প্রকাশ না করেও ক্ষমতার বাহিরে থাকা একাধিক শ্রমিক নেতাকে ইঙ্গিত দেওয়ার পরও তারা কোন প্রতিবাদ করেননি। এমনকি কাউছার আহাম্মেদ পলাশ দৈনিক ইত্তেফাক ও ডান্ডিবার্তায় কোন প্রকার প্রতিবাদ কিংবা লিগ্যাল নোটিশ পর্যন্ত দেননি। তারপর তিনি মামলা করে আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই নিজেই বিচারকের ভূমিকায় নেমে গেছেন। তিনি আমাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তের চ্যালেঞ্জ করেছেন। আমি বিশ্বস করি পেশাদার ও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতায় যারা জড়িত তাদের মনোবল এতটা ঠুনকো নয় যে দুদকের তদন্তে আমরা সাংবাদিক সমাজ ঘাবড়ে যাবো।

আমরা ন্যায়নীতির মধ্য থেকে জীবন যাপন করছি। সুতরাং আপনি পলাশ জন্মের পর থেকে গাড়ী দিয়ে চলেছেন না রিক্সায় চড়েছেন এটা সাংবাদিকদের বিবেচ্য বিষয় নয়। ৭৩ সালে মরিজ মডেলের গাড়ী দিয়ে যখন আপনি চড়তেন তখন আপনার বাসায় অনেক কুতুবরাই মুড়ির টিনে চড়তো। আমার রিপোর্টে কোথাও আপনার কারণে গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে কিংবা চাঁদাবাজির সাথে আপনি জড়িত এমন কোন তথ্য না থাকা সত্বেও বায়বীয় ভাবে আপনার মানহানী কিভাবে ঘটলো তাও আমার বোধগম্য নয়। আপনি সকল সাংবাদিককে একটা প্রশ্নবোধকের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের পেশার সততা এবং নিষ্ঠার উপর প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাই আপনার দেয়া চ্যালেঞ্জ আমি পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গ্রহন করে আপনার প্রতি আহবান জানাচ্ছি প্রমাণ করুন আমাদের অতীত বর্তমান। কারণ পলাশ সাহেব আমি আমার রিপোর্টের কোথায়ও প্রকৃত শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিবিদদের হেয় করার চেষ্টা করিনি। বরং চাঁদাবাজি করে কাদের পকেটে এ টাকা যাচ্ছে এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি মাত্র। আপনার চ্যালেঞ্জের কারণে আমি বলতে চাই পেশাদার সাংবাদিকদের সম্পর্কে সংযত হউন, এবং কোন প্রকার অপবাদ দেয়ার আগে বিবেচনা করে নিবেন।

আর তাই আমি নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকনেতা এমনকি আমার সহযোদ্ধাদেরও অতীত বর্তমান অবস্থার তদন্ত করার জন্য দাবী জানাচ্ছি। সাংবাদিক বান্ধব হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তব অর্থে নারায়ণগঞ্জের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দিবেন নতুন বছরে, একজন নগন্য সংবাদকর্মী হিসেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ