নারায়ণগঞ্জে শব্দ সন্ত্রাসে আক্রান্ত হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৫:১৮ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে শব্দ সন্ত্রাসে আক্রান্ত হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


এস এম শহিদুল্লাহ || লেখক : একজন সমাজকর্মী ও কলাম লেখক।

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০১:৫০ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

শব্দদূষণ হলো স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর মানবসৃষ্ট উচ্চ শব্দ। উচ্চ শব্দের প্রধান উৎস বিমান, রেলগাড়ি, যানবাহনের অহেতুক হর্ন ও উচ্চ শব্দ, যে কোনো ইঞ্জিনিয়ারের উচ্চ শব্দ, ভবন নির্মাণের ইট গুঁড়া করার যন্ত্র, বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক, সাউন্ড সিস্টেম বা সাউন্ড বক্স  ইত্যাদি।

শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলে সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা হতে থাকে।

শব্দের সহনীয় মাত্রা হলো ২৫ থেকে ৪০ ডিবি তবে রেঁস্তোরায় ৬০ ডিবি গ্রহনীয়। শব্দ এই সীমা অতিক্রম করলে তখন তাকে শব্দ দূষন বলে। শব্দের এ দূষণে মানুষের মানসিক ভারসাম্য হারানো থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাক, অনিদ্রা, মাথা ব্যথা, অস্হিরতা হতে পারে; বুক ধড়ফড় করতে পারে, হৃদস্পন্দন, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, বদহজম, পেপটিক আলসার এমনকি বধির হয়ে যেতে পারে। খিটখিটে মেজাজও শব্দ দূষণের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার মতানুসারে, সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে বধির করে ফেলতে পারে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল (খাঁনপুর), নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) সহ বেসরকারি কয়েকটি ক্লিনিক রাস্তার পাশে অবস্থিত। এসকল রাস্তা দিয়ে চলাচলরত বিভিন্ন বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন-এর বিকট শব্দের আওয়াজে সেখানে রোগীদের ঘুম হয় না, রোগীদের সুস্থ হতে সময় লাগে। বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলসহ আরও কয়েকটি স্কুল রাস্তার পাশে অবস্থিত।

এসকল রাস্তা দিয়ে চলাচলরত বিভিন্ন বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন-এর বিকট শব্দের আওয়াজ সংশ্লিষ্টদের বিদ্যা শিক্ষায় অমনোযোগী করে তোলছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারণে জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যেয়ে জেনারেটরের বিকট উচ্চ শব্দ প্রায় প্রতিদিন মানুষের কি পরিমাণ ক্ষতি করছে তা সহজেই অনুমেয়।

তাছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানের মতো নারায়ণগঞ্জেও বিয়ে ওপেন কনসার্ট সহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমের লাউড স্পিকার ও মাইকের বিকট শব্দদূষণের যন্ত্রনা; বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রচারের সময় মাইকের উচ্চ শব্দের যন্ত্রণা মানুষ সহ্য করে চলেছে। এর যেন প্রতিকারের কেউ নেই ? সম্প্রতি ঢাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শব্দদূষণের প্রতিবাদ করতে যেয়ে জীবন দিতে হলো এক ভদ্রলোকের। সেতো আমরা সকলেই বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলি-মিডিয়াতে দেখতে পেলাম। সমাজে এ অবস্থা চলতে পারে না। একে এখনই থামাতে হবে। তা না হলে সমাজে এ ধরণের ঘটনা চলতেই থাকবে। এ ছাড়া এই শব্দদূষণের কারণে  অনেকেই জটিল রোগসহ নানাবিধ শারিরীক সমস্যার মধ্যে পড়বে এবং সেটি হবে আমাদের সকলের জন্য একটি ভয়াবহ সমস্যা। এই শব্দ-সন্ত্রাসকে কঠোর আইন করে এবং সে আইনকে প্রয়োগ করে জাতিকে এখনই ভয়াবহ স্বাস্থঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে আমরা হয়ে পড়বো একটি রুগ্ন জাতি এবং পৃথিবীতে একটি সুন্দর জাতি হিসেবে টিকে থাকা হয়ে পড়বে আমাদের জন্য দুরূহ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ