মে দিবস শ্রমিকের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৫:১৬ অপরাহ্ণ

মে দিবস শ্রমিকের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস


এম এ শাহীন || সভাপতি-নারায়ণগঞ্জ জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

প্রকাশিত : ০৯:১৭ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৩:১৭ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


মে দিবস শ্রমিকের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ে তিব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সে আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য শ্রমিককে আহত নিহত করে। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেদিন শ্রমিকেরা বুকের তাজা রক্ত ও জীবন দিয়ে অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল। যার মধ্য দিয়ে রচিত হয় শ্রমিক শ্রেণির এক ঐতিহাসিক লড়াই সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। শ্রমিকের রক্ত মাখা লাল পতাকা হাতে নিয়ে তখন থেকে সারা দুনিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন এগিয়ে চলেছে। আর  ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ সভা সমাবেশ মিছিল এবং নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের দাবী দাওয়া তুলে ধরে। পুঁজিবাদী শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিপ্লবী ধারার লড়াই সংগ্রাম গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করে। "দুনিয়ার মজদুর এক হও" শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে।

১৮৮৬ সালের মে মাসে আমেরিকার শ্রমিকরা যে রক্তক্ষয়ী ও আত্মত্যাগী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেদিন শ্রমিক শ্রেণির বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল সেই সত্যটি যেন আজ চাপা পড়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে মহান মে দিবসকে যেন আজ একটি নিছক উৎসব আনন্দের দিনে পরিণত করা হয়েছে। যে লক্ষ্য নিয়ে মে দিবস ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল তা আজও বাংলাদেশের শ্রমিকরা অর্জন করতে পারেনি। মে দিবসের ১৩২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাদের দেশের শ্রমিকেরা মে দিবসের সুফল পায়নি। তারা আজও ৮ ঘন্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও অধিকার বঞ্চিত, শোষিত নির্যাতিত এবং অগণতান্ত্রিক কালাকানুনের বেড়াজালে আটকা পরে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। বর্তমান সরকার ও মালিকেরা শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবী বিবেচনা নেয়নি। দুই বছরের অধিক সময়ের ধারাবাহিক আন্দোলনের চাপে সরকার ইতিপূর্বে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাও শ্রমিক ও নেতাদের অভিযোগ মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম উদ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধি হয়েছে ফলে জন-জীবনে ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। বর্তমানে শ্রমিকরা যে মজুরি পায় তা দিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম তরান্বিত করে  দ্রুততম ভাবে শ্রমিকদের মজুরি পূর্ণনির্ধারণ করে নতুন মজুরি কাঠামু ঘোষণা করা উচিত।

শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে সু-সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন তথা বিপ্লবী ধারার শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া শ্রমিক শ্রেণীকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। পুঁজিবাদী ধনীক শ্রেণীর শাসন ব্যবস্থা শ্রমিক আন্দোলনকে ধ্বংস ও বিপথে পরিচালিত করার জন্য রাষ্ট্রের পুলিশ, বিজিবিসহ সর্বশক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করেনা। পুঁজিবাদের এই হিংস্রতম কৌশলী  আক্রমণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই বিশাল শক্তিকে মোকাবেলা করতে প্রয়োজন শ্রমিকের ঐক্য ও শক্তিশালী সংগঠন।

এদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শোষণ মুক্তির সংগ্রাম বেগবান করার  লক্ষে মহান মে দিবসে শপথ নিতে হবে।  সারাদুনিয়ার সকল দেশের শ্রমজীবী মানুষ যে ৮ ঘন্টা শ্রম সময় ভোগ করছে তা ও্ই মে দিবসের ফসল। এই প্রাপ্তি শুধু শ্রমজীবী মানুষই ভোগ করেনা সকল মানুষের মাঝেই তা বন্টিত হয়েছে। সকলেই ৮ ঘন্টা শ্রম অধিকার এবং সেই সাথে শ্রমিক শ্রেণীর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত নানা ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারগুলোও ভোগ করছে। যার ফলে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও শোষণ মুক্তির সংগ্রাম এক নতুন প্রেরণা লাভ করেছে। তাই সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী মানুষ মে দিবস পালনের মাধ্যমে "মে" শহীদের স্মৃতিকে চিরঞ্জীব করেছে। মহান মে দিবসে শ্রমজীবী বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জনাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ