৮ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ২৪ অক্টোবর ২০১৮ , ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

UMo

সংবাদপত্রকে স্বাধীনতা দিতে হবে


এস এম শহিদুল্লাহ || একজন সমাজকর্মী ও কলাম লেখক

প্রকাশিত : ০৮:০১ পিএম, ২ মে ২০১৮ বুধবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

৩ মে সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস। সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন সকলের অধিকার স্লোগানকে সামনে রেখে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে মৃত্যুবরণকারী কিংবা কারাবরণকারী সাংবাদিকদেরও স্মরণ করে এ দিনটিকে বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। তাছাড়া সংবাদপত্র সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলাও এ দিবসটির উদ্দেশ্য।

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে অগ্রসর হওয়ার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে পৃথিবীর মানচিত্র এক হয়ে গেছে। যোগাযোগের এই উন্নত প্রযুক্তির ফলে সমগ্র বিশ্বের তথ্য ভান্ডার একইসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। সম্ভাবনার উজ্জ্বল দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ। তাই এদেশের উন্নতিকে তরান্বিত করতে তথ্যকে পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে। এই তথ্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সংবাদপত্র। সংবাদপত্র সমাজের দর্পনস্বরূপ। সংবাদপত্রে আমাদের চলমান জীবনের পতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি কাজ অর্থাৎ সমাজের সামগ্রিতক ঘটনাবলী প্রতিফলিত হয়। সংবাদপত্র এখন আমাদের জীবন ও সমাজের অংশ। সংবাদপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমাদের জ্ঞানের এক বিরাট উৎস।

সংবাদপত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনা, গবেষণা, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি জানা যায়। শিশু-কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও সংবাদপত্রে আলাদা বিভাগ থাকে। কাজেই  সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে বহুমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। অতএব জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে সংবাদপত্র পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে হেনরি ওয়ার্ড বিশার-এর একটি বাণী বিশেষ প্রনিধানযোগ্য "সংবাদপত্র সাধারণ মানুষের শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে"।

উপমহাদেশে প্রথমদিকে পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে মুদ্রণযন্ত্র, বর্ণের অভাব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল প্রধান প্রতিবন্ধক। ১৭৬৮ সালে ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত উইলিয়াম বোল্টস কলকাতায় একটি মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের প্রস্তাব করলে, ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিলের সিলেক্ট কমিটি তাঁকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেয়। শুধু তাই নয় ১৭৮০ সালে প্রকাশিত ‘বেঙ্গল গেজেট’ সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদক জেমস অগাস্টাস হিকিকেও বার বার কোম্পানির রোষানলে পড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কলকাতা থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত যে সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা শাসক গোষ্ঠী।

যতদূর জানা যায়, ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র বলে বিবেচিত ‘সমাচার দর্পন’। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে প্রথম ১৮৪৭ সালে ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ নামে সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল।

একটি সংবাদপত্র সৃষ্টি হয় জনগণের মুখপাত্র হিসেবে এবং সংবাদপত্রগুলো সবসময় চেষ্টা করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যগুলো জনগণকে পৌঁছে দিতে। যাতে জনগণের উপকারে আসে। কিন্তু এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে যাতে সত্য সঠিক সংবাদ প্রচার করতে না পারে সংবাদপত্রগুলো। তাঁরা সবসময়ই আতংকে থাকে সত্য সঠিক সংবাদ প্রচার হলে তাদের স্বার্থের হানী ঘটবে।

উপমহাদেশে প্রথমদিকে পত্রিকা প্রকাশের জন্য ১৭৬৮ সালে ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত উইলিয়াম বোল্টস কলকাতায় যে একটি মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, তাতে শাসক গোষ্ঠী হীন স্বার্থের কারণে তাঁকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আবুল ফজল বলেছেন, ‘জাতীয় সংবাদপত্র জাতির কন্ঠস্বর-সে কন্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া মানে জাতিকে বোকা বানিয়ে দেওয়া।’

‘বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।’ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমভিত্তিক প্যারিসের `রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার` - এর `গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক-২০১৮` প্রতিবেদনে উপরোল্লিখিত মতামতটি উঠে এসেছে। যা উদ্বেগজনক। আমাদের সকলকে সংবাদপত্রকে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিতে হবে। তাহলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং সংবাদপত্রগুলোও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ