নারায়ণগঞ্জে আদালত গঠনের সূচনালগ্নের কথা

এস এম শহিদুল্লাহ || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ১২ মে ২০১৮ শনিবার



নারায়ণগঞ্জে আদালত গঠনের সূচনালগ্নের কথা

১৩ মে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত দিবস। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা তাদের শাসনকে পাকাপোক্ত করার জন্য এদেশের বিচার ব্যবস্থহাকেও সংস্কার করেছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচার বিভাগের সংস্কার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দেওয়ানি ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। হেস্টিংসই সর্বপ্রথম উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা মোকদ্দমা হিন্দু মুসলিম ধর্মশাস্ত্র অনুসারে বিচারের নিয়ম প্রবর্তন করেছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর হিসেবে ১৭৭২ থেকে ১৭৭৪ এবং
গভর্নর জেনারেল পদে ছিলেন ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

ঢাকা কালেক্টরেটের বিভিন্ন বিবরণ থেকে যতটুকু জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহর হিসেবে পলাশীর যুদ্ধের পরপরই গড়ে উঠতে থাকে। নারায়ণগঞ্জ তখন ঢাকা জেলার অন্তর্গত বিধায় ঢাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ১৮৬৮ সালে ঢাকা জেলার সিভিল ও সেশন জজের দেওয়ানি ক্ষমতা ৬টি চৌকি বা মুনসেফিতে ভাগ ছিল এবং প্রতিটি চৌকিতে একজন করে এদেশীয় বিচারক বা মুনসেফ নিযুক্ত ছিলেন। চৌকি ছয়টি হলো ঢাকার সদর চৌকি, চৌকি নারায়ণগঞ্জ, চৌকি পলাশ, চৌকি মানিকগঞ্জ, চৌকি লেচরাগঞ্জ এবং চৌকি বহর।

নারায়ণগঞ্জ থানা এবং শ্রীনগরের সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ চৌকি এবং রূপগঞ্জ ও রায়পুরা পলাশ চৌকির অধীন ছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ের নারায়ণগঞ্জের অংশ এবং রায়পুরা থানা মুন্সিগঞ্জ মহকুমার এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিমাঞ্চল ঢাকা সদর মহকুমার অন্তর্গত ছিল। মহকুমা প্রশাসক তাঁর এলাকার ফৌজদারী ও রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। জেলার বিচার ব্যবস্থায় সিভিল ও সেশন জজের পরে ছিলেন সদর আমিন এবং প্রিন্সিপাল সদর আমিন। জেলার ক্ষুদ্র বিষয় মীমাংসার জন্য আরও তিনটি কোর্ট স্থাপিত হয়। একজন বিচারক একাই এই তিনটি কোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং মাসের নির্দিষ্ট দিনে একটি কোর্টে বিচারকার্য সমাধা করতেন। জেলা সদরে স্থাপিত এই কোর্টের এখতিয়ার নারায়ণগঞ্জ মুনসেফির ওপর বিস্তৃত ছিল। ১৮৬৭ সালের দিকে মুনসেফ হিসেবে গোবিন্দ চন্দ্র দাসের বেতন ছিল মাসিক একশত পঞ্চাশ টাকা। দেওয়ানি আদালতের আমিন ছিলেন হরি প্রসাদ দাস। তাঁর মাসিক বেতন ছিল পঞ্চাশ টাকা। তিনি নারায়ণগঞ্জ ও বহর এলাকার দায়িত্বে ছিলেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিধি অনুযায়ী এবং অন্য কোন আইনে গঠিত বিশেষ আদালতগুলি ছাড়া নিম্নলিখিত ফৌজদারী আদালতগুলো চালু আছে। ১.সেশন বা দায়রা আদালত, ২.প্রথম শ্রেনির বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (মেট্রোপলিট্রন এলাকায় আদালত), ৩. দ্বিতীয় শ্রেনির বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ও ৪. নির্বাহী (প্রশাসনিক) ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের একটি জেলা হিসেবে অন্যান্য জেলার মতো এখানেও উপরোল্লিখিত নিয়মে ফৌজদারী আদালত তথা বিচার ব্যবস্থা চালু আছে। খক: একজন সমাজকর্মী ও কলাম লেখক।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও