৮ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ২৪ অক্টোবর ২০১৮ , ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

UMo

জনগণকে সরকারের এত ভয় কেন?


জামাল উদ্দিন কালু || বিএনপি নেতা

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার


জনগণকে সরকারের এত ভয় কেন?

মাত্র কয়েকদিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা শেষ হল। বিশ্বকাপ মূলত দুটি টিমের উপরই বিশ্বের প্রায় ৯০% ভাগ মানুষ সমর্থন বা অতি আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে এবং বর্তমান সময়ের সব চাইতে ফেবারিট দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এ দুই দল নেই বিশ্বকাপের আমেজও নেই কারণ শক্তি ও জন সমর্থন দিক দিয়ে এ দুই দলই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়।

এ যেন ঈদের আমেজ, ঠিক তেমনি দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন হয় গণতন্ত্র পদ্ধতিত্বে। যেমন বাংলাদেশে দুই দল আছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। এই দুই দলের একটি না থাকলে কৌশলগত ভাবে ক্ষমতাশীলরা যদি কোন দলের উপর ক্ষমতহায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে বা ক্ষমতার জন্য ঐ দল তার অনুগত লোক দ্বারা বা হামলা মামলা, খুন, গুম করে আর একটি জনপ্রিয় দলকে নির্বাচন বা নির্বাচনের কোন বিধি না মেনে ক্ষমতার জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তবে সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্র বা রাষ্ট্রের অধিক জনগণের মঙ্গল তেমন বয়ে আনতে পারে না। এখন আধুনিক যুগ, ভাল মন্দ সব কিছুই কোন না কোন ফাক ফোক দিয়ে বেরিয়ে আসে।

একটি সময় এই বাংলাদেশের উপর কঠিন ও কৌশলগত নির্যাতন করে অতীতে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আইয়ুব, ইয়হিয়ারা বহু চেষ্টা করেছে কিন্তু সাময়িক কিছু দিন টিকে থাকলেও শেষ অবস্থায় আর টিকে থাকতে পারে নাই। এ রকম বিশ্বে বহু নজির আছে। আল্লাহ অন্যায় বরদাস্ত করেন না।

আর এই জন্যই ততকালীন সময় স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশের মহান নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ বলেছিল আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, আমি মানুষের অধিকার চাই। আর সেই অধিকারের ধারা বাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ছিল মেজর জিয়াউর রহমান। দেশ স্বাধীন হল বহু লক্ষ লক্ষ মুক্তিযুদ্ধাদের শহীদের এবং হাজার হাজার মুক্তিযুদ্ধা আহত হবার বিনিময়ে। দাবী ছিল একটি গণতন্ত্র আর মানুষের অধিকার। আজ বাস্তবে কি সেই অধিকার আছে ? বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযোদ্ধাদের সব আশা কি পূরণ হয়েছে ? এখন শুরু হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই আর এক দল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাও খুব কঠিন ভাবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

বর্তমান সরকার দেশ ও জনগণের জন্য যদি বহু কাজ করে থাকে তবে তো জনগণই এ সরকারকে বেছে নিবে এত ভয় কিসের? গণতন্ত্র আর মানুষের অধিকার ন্যায্য ভোটের মাধ্যমে আম জনতা বেছে নিবে তাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন। সেই জন্য চাই ভোটের ময়দানে ভাল নিরপেক্ষ রেফারী-অর্পিত দায়িত্ব শপথের বাণী হবে। দেশের অধিকাংশ মানুষ চায় বঙ্গবন্ধুর সেই অধিকার গণতন্ত্র আর মানুষের অধিকার। প্রতিফলন চায় স্বাধীনতার অমর বাণী গণতন্ত্র আর শহিদের আত্মত্যাগ। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ডাকের সেই বীর মেজর জিয়ার ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। চায় না কেউ খুনা-খুনি, ধর্ষন, শিশু অপহরন, নারী নির্যাতন। রাষ্ট্র হচ্ছে জনগনের জনগনই হচ্ছে রাষ্ট্রের মূল চাবিকাঠি। রাষ্ট্র যন্ত্র হউক নিরপেক্ষ হউক বিবেক আর শিক্ষার মানদন্ড। শপথ হউক মানব কল্যানের। সৃষ্টিকর্তা যখন মানুষ সৃষ্টি করেছেন তার মৃত্যু ও অনিবার্য করে দিয়েছেন। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। বেঁচে থাকবে মানুষের কর্মফল। ইতিহাস হবে কল্যান করের। বিচারও হবে ভাল আর মন্দের। ইহ জগতেও হবে আখেরাতেও নির্ধারন করেছেন সৃষ্টিকর্তা ভাল মন্দের বিচারের জন্য।

আপনাকে যে বড় বলে সে বড় নয় লোকে যাকে বড় বলে সেই বড় হয়। অহংকার করা সব ধর্মে নিষেধ করেছে অহংকার করা ভাল নয় অহংকারই পতনের মূল।

ইতিহাস যেমনি ভাবে যুগ যুগ শত বৎসর বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করবে। সত্য চিরসত্য শাক দিয়ে যেমন মাছ ডাকা যায় না তেমনি মিথ্যা দিয়ে ইতিহাসকে ঢাকা যাবে না।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ